দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের পানি পান করিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মাদরাসা ছাত্ররা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোশ্যাল ডেস্ক


মাওনা হতে গাজীপুর চৌরাস্তায় শত শত গাড়ি জ্যামে আটকা পড়েছে। শুক্রবার জুমার পর প্রচণ্ড গরমে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা যখন হাঁসফাঁস করছিল, তখন তাদের জন্য খাবার পানি নিয়ে এগিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী মাদরাসার ছাত্ররা।

প্রায় ৩/৪ মাইলের মত হেঁটে জ্যামে আটকে থাকা প্রতিটি যাত্রীর কাছে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পৌঁছে দিয়ে আসেন খাবার পানি। এ ছবি রাশেদ খান নামের একজন ফেসবুকে আপ করেন। ফেসবুকে ইতিমধ্যে ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে গেছে। ফেসবুক কমেন্টে ভার্চুয়াল জগতে এ নিয়ে ঝড় উঠেছে। মাদরাসার ছাত্রদের এমন দৃষ্টান্তের কারণে তাদের প্রতি বইছে প্রশংসার বন্যা।

রবিউল দেওয়ান বাবু নামের একজন ফেসবুকে লেখেন, এই জ্যামে আটকে পানি পান করা মানুষদের মাঝে হয়তো এমন কোন মানুষ আছে যিনি আগে মাদ্রাসা ছাত্রদের জঙ্গী, গেঁয়ো বা সেকেলে ভাবতেন। কিন্তু এসব মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে যখন মহানবী হযরত মুহাম্মদের সা. আদর্শ দেখবেন, তখন হয়তো তার মাঝে পরিবর্তন আসবে। সব মাদরাসা ছাত্রদের জন্য অবিরাম দোয়া।

ডিজে হাসান নামের একজন লেখেন, ‘আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এদের জন্যই পৃথিবীটা এখনও বেঁচে আছে। আল্লাহ ওদের উসিলায় আমাদেরও কবুল করুক।

আহমেদ সুজন লেখেন, তোমরা যাঁরা এসব গরিব মাদরাসা ছাত্রদের তাচ্ছিল্য করে কথা বলো, যাঁরা এদেরকে পেটপূজারী বলে গালি দাও, যাঁরা বলো এরা মানবতা বুঝে না, তাঁদের চোখ কি এখন ঠিক জায়গাতে আছে?

ফয়সাল খান লেখেন, এই বাচ্চারা কোনো পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য ছাড়াই শুধুমাত্র মানবতার ডাকেই এই কাজটা করেছে। এরা এগুলোর কোনো পাবলিসিটিও চায় না। ইনশা’আল্লাহ আল্লাহ তায়ালাই এর একমাত্র উত্তম প্রতিদানকারী হবেন।

শরীফুর রহমান লেখেন, এরা কেমন উস্তাদের শিষ্য জানতে খুবই ইচ্ছে করছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের সহীহ নিয়্যাতের বদলা দান করুন।’

ওমর ফারুক নামের একজন লেখেন, এই রকম কাজে আর বেশি বেশি অংশগ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের এত দিনের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করে দিতে হবে।