জানুয়ারি ২০, ২০১৭

সেক্যুলারিজম-এর উত্থান-পতন ও আজকের বাংলাদেশ

সেক্যুলারিজম-এর উত্থান-পতন ও আজকের বাংলাদেশ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

গাজী মো শওকত আলী


সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! সম্পর্কে আমাদের দেশের জনগণের তেমন কোনো ধারণা বা জ্ঞান নেই। এমনকি বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিত, আলেম, জ্ঞানী-গুণী, পাদ্রী, ঠাকুর, পুরোহিত, সাধু-সন্ন্যাসী অনেকেই সেক্যুলারিজম সম্পর্কে জানে না জানার চেষ্টাও করে না বা জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। যদি জানত তা হলে সকল শ্রেণী-পেশা ও ধর্মের মানুষ সেক্যুলারিজমকে ‘না’ বলতো, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতো, প্রতিবাদ করতো।

সেক্যুলারিজম এর অর্থ :

আমাদের দেশে সেক্যুলারিজম এর অর্থ করা হয়েছে ‘ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ!’। এটা একটা প্রতারণা ধোঁকা বা মিথ্যাচার। বাংলা একাডেমী কর্তৃক সংকলিত ও প্রকাশিত ঊহমষরংয ঃড় ইবহমধষর উরপঃরড়হধৎু তে ঝবপঁষধৎ শব্দের অর্থ করা হয়েছে পার্থিব, সাংসারিক, ঐচ্ছিক, লৌকিক, অযাজকীয় বা বৈষয়িক। ইংরেজী ঙীভড়ৎফ উরপঃরড়হধৎু তে ঝবপঁষধৎ শব্দের অর্থ করা হয়েছে ঘড়ঃ ঊপপষবংরধংঃরপধষ ড়ৎ গড়হশরংয যার অর্থ হচ্ছে :- না পাদ্রী বা সন্ন্যাসী অথবা যারা ধর্ম তন্ত্রের বহির্ভূত অর্থাৎ যারা ধর্ম মানে না অথবা ঘড়ঃ পড়হপবৎহবফ রিঃয ৎবষরমরড়হ ড়ৎ ধহ বপপষবংরধংরঃরপ হড়ঃ নড়ঁহফ নু গড়হধংঃরপ ৎঁষব বা ধর্মের সাথে যারা সম্পর্কহীন অথবা পাদ্রী, সন্ন্যাসীর বা পীর-ফকিরের আইন মানতে বাধ্য নয় অথবা সন্ন্যাসীগণের বা নিভৃতবাসীদের শাসন মানতে রাজী নয়। বাংলা একাডেমী ঊহমষরংয ঃড় ইবহমধষর উরপঃরড়হধৎুতে ঝবপঁষধৎরংস শব্দের অর্থ করা হয়েছে :- নীতি ও শিক্ষা ধর্মের প্রভাব হতে মুক্ত রাখার মতবাদ’। ইংরেজী ঙীভড়ৎফ উরপঃরড়হধৎু তে ঝবপঁষধৎরংস শব্দের অর্থ করা হয়েছে :- ঞযব ফড়পঃৎরহব ঃযধঃ সড়ৎধষরঃু ধহফ বফঁপধঃরড়হ ংযড়ঁষফ নব ংবঢ়ধৎধঃবফ ভৎড়স ৎবষরমরড়হ. যার অর্থ দাঁড়ায়, নীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মের প্রভাব হতে মুক্ত রাখার মতবাদ। আমরা যদি সেক্যুলারিজম (ঝবপঁষধৎরংস) এর অর্থ ‘ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ’ ধরে নেই, তা হলে ‘ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ’ এর অর্থ দাঁড়ায় যে কোনো ধর্ম বিশ্বাসকে অস্বীকার করা তথা নাস্তিক ও কুফুরী মতবাদ।

সেক্যুলারিজম (ঝবপঁষধৎরংস) এর সংজ্ঞা :- (১) ঙীভড়ৎফ উরপঃরড়হধৎু তে ঝবপঁষধৎরংস এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এ ভাবে যে ‘ঝবপঁষধৎরংস সবধহং ঃযব ফড়পঃৎরহব সড়ৎধষরঃু ংযড়ঁষফ নব নধংবফ ংড়ষবষু ড়হ ৎবমধৎফ ঃড় ঃযব বিষষ নবরহম ড়ভ সধহশরহফ রহ ঃযব ঢ়ৎবংবহঃ ষরভব, ঃড় বীপষঁংরড়হ ড়ভ ধষষ পড়হংরফবৎধঃরড়হ ফৎধহি ভৎড়স নবষরবভ রহ এড়ফ ড়ৎ রহ ভঁঃঁৎব ষরভব’ যার অর্থ হচ্ছে :- সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! এমন একটি মতবাদ, যা মানব জাতির ইহজগতের কল্যাণের ওপর গড়ে উঠবে এমন এক নৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে থাকবে না কোন ধরনের আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাস ভিত্তিক চিন্তা বা বিবেচনা।

(২) ঙীভড়ৎফ অফাধহপব খবধৎহবৎ’ং উরপঃরড়হধৎু তে ঝবপঁষধৎরংস (সেক্যুলারিজম) এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে-‘ঞযব নবষরবভ ঃযধঃ ৎবষরমরড়হ ংযড়ঁষফ হড়ঃ নব রহাড়ষাবফ রহ ঃযব ড়ৎমধহরংধঃরড়হ ড়ভ ংড়পরবঃু, বফঁপধঃরড়হ বঃপ. অর্থ :- সমাজ সংগঠন, শিক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে ধর্ম সংশ্লিষ্ট হতে পারবে না এমন বিশ্বাসের নাম হলো সেক্যুলারিজম’ (বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ)।

(৩) ঞযব অফাধহপবফ খবধৎহবৎ’ং ফরপঃরড়হধৎু ড়ভ ঈঁৎৎবহঃ ঊহমষরংয গ্রন্থে সেক্যুলারিজম এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, দঝবপঁষধৎরংস রং ডড়ৎষফষু ড়ৎ সধঃবৎরধষ, হড়ঃ ৎবষরমরড়ঁং ড়ৎ ংঢ়রৎরঃঁধষ. অর্থাৎ সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! হচ্ছে ইহজাগতিক বা পার্থিব, ধর্মীয় কিংবা আধ্যাত্মিক নয়। উক্ত গ্রন্থে সেক্যুলারিজম সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে যে, ঞযব ারবি ঃযধঃ সড়ৎধষরঃু ধহফ বফঁপধঃরড়হ ংযড়ঁষফ হড়ঃ নব নধংবফ ড়হ ৎবষরমরড়হ. যার অর্থ দাঁড়ায়, সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! এমন একটি ব্যবস্থা যার অধীনে নৈতিকতা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে হবে না।

(৪) অ ঈড়হভবংংরড়হ ড়ভ ইবষরভব গ্রন্থের প্রণেতা গৎ. ঐড়ষুড়ধশব যাকে ঝবপঁষধরংস নাম করণের প্রথম উদ্যোক্তা (বা জনক) বলা হয়, সে তার গ্রন্থে সেক্যুলারিজম এর যে সংজ্ঞা দিয়েছে তা নিম্নরূপ :- অ ভড়ৎস ড়ভ ড়ঢ়রহরড়হ যিরপয পড়হপবৎহং রঃংবষভ ড়হষু রিঃয ঃযব য়ঁবংঃরড়হং, ঃযব রংংঁবং ড়ভ যিরপয পধহ নব ঃবংঃবফ নু ঃযব বীঢ়বৎরবহপব ড়ভ ঃযরং ষরভব. যার অর্থ হচ্ছে :- সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! হলো এক ধরনের মতবাদ যা ইহজগতে এ জীবনের যাবতীয় অভিজ্ঞতার পরীক্ষায় সম্ভাব্য বিষয়গুলোকে স্পর্শ করে।

(৫) ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ বা বিশ্বকোষে সেক্যুলারিজম এর প্রথম সংজ্ঞায় বলা হয়েছে :- (ধ) ঝবপঁষধৎ ংঢ়রৎরঃ ড়ৎ ঃবহফবহপু বংঢ়বপরধষষু ধ ংুংঃবস ড়ভ ঢ়ড়ষরঃরপধষ ড়ৎ ংড়পরধষ ঢ়যরষড়ংড়ঢ়যু ঃযধঃ ৎবলবপঃ ধষষ ভড়ৎস ড়ভ ৎবষরমরড়ঁং ভধরঃয. অর্থ :- সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! হচ্ছে এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন যা সকল ধর্ম বিশ্বাসকেই অস্বীকার করে।

(৬) ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ বা বিশ্বকোষে সেক্যুলারিজম এর দ্বিতীয় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে :- (ন) ঞযব ারবি ঃযধঃ ঢ়ঁনষরপ বফঁপধঃরড়হ ধহফ ড়ঃযবৎ সধঃঃবৎং ড়ভ পরারষ ংড়পরবঃু ংযড়ঁষফ নব পড়হফঁপঃবফ রিঃযড়ঁঃ ঃযব রহঃৎড়ফঁপঃরড়হ ড়ভ ধ ৎবষরমরড়ঁং বষবসবহঃ. অর্থ :- সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সাধারণ শিক্ষা ও সামাজিক সংস্থা পরিচালনায় কোনো ধরনের ধর্মীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত হবে না।

সেক্যুলারিজম এর উৎস :- হযরত মুসা (আ) এর মৃত্যুর পর ধর্ম জ্ঞানহীন অজ্ঞ মূর্খ স্বঘোষিত ইহুদিরা সে সময়ের আহবার ও রূহবারদের দ্বারা ধর্মের নামে সীমাহীন শাসন ও শোষণের প্রতিবাদ করতেই তারা ল্যাটিন শব্দ ঝধবপঁষঁস (বা জাগতিক) অথবা ইংরেজী রূপান্তরিত ঝবপঁষধৎ শব্দ ব্যবহার করে ছিল। আহবার ও রূহবারগণ লোকদের আসমানী কিতাবের তথা তাওরাতের জ্ঞানসহ সকল প্রকার জ্ঞান থেকে বঞ্চিত রেখে ছিল। আহবার (বিজ্ঞ, জ্ঞানী, সন্ন্যাসী, ইহুদি পণ্ডিত বা কালি) ও রূহবারগণ (ইহুদি বা খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু, পাদ্রী বা পুরোহিত) সাধারণ মানুষের অর্থ সম্পদ অন্যায়ভাবে হাতিয়ে নিতো। সাধারণ লোকদের কাজে খাঁটিয়ে তাদের মজুরি দিত না বা দিলেও সামান্য দিতো। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে শাসন, শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতন করত। অর্থাৎ আহবার ও রূহবারগণ ধর্মকে তাদের ব্যবসায়ে পুঁজি ও সাধারণ মানুষের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করার হাতিয়ার বা কৌশল বানিয়ে নিয়েছিল। তাই সাধারণ মানুষ এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই নিজেরা ঝধবপঁষঁস বা ঝবপঁষধৎ বলে ঘোষণা করে ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সমাজে কোনো প্রকার শাসনব্যবস্থা ছিল না। এহেন অবস্থায় খ্রিস্টপূর্ব ৭৩৮ অব্দে আসুরিয়রা শতধা বিভক্ত স্বঘোষিত ইহুদিদের পদানত করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ঐ সকল অঞ্চলের লোকদের অজ্ঞতা, মূর্খতা আর ধর্মজ্ঞানহীনতাকে পুঁজি করে সেক্যুলার (ঝবপঁষধৎ) জনগোষ্ঠীকে শাসন করতে শুরু করে আর আহবার ও রূহবারদের ধর্মের কথা মানতে নিরুৎসাহিত করে। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ব্যাবিলিয়রা ফিলিস্তিন দখল করে এ ধর্মজ্ঞানহীন জনগোষ্ঠীকে ২০০ বৎসর গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করে রাখে। এ সময় তাদের সকল প্রথার ধর্ম চর্চা থেকে বিরত রাখে। তারপর ইহুদিরা পারস্য সম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৪ থেকে ৩২৩ অব্দ পর্যন্ত তারা গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের অধীনে চলে। পরবর্তীতে তারা মিসরীয় টলেমী শাসনাধীন ও পরে গ্রিক রাজবংশ স্কুডিয়ার অধীনে চলে যায়। এভাবে চলতে চলতে খ্রিস্টপূর্ব ১১৪ অব্দে তারা কিছুটা জ্ঞান চর্চার সুযোগ পায়। এ সময় ধর্মবিমুখ জনগণ দেব-দেবী, ভূত, পেতনী, পরী, ডাইনী এমন কি তারা সে সময়ের বীরদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করতে শুরু করে। পূজা অনুষ্ঠানে মোমবাতি, আতশবাজি, মদ, জুয়া, পাশা খেলা, নাচ, গান ও আনন্দ স্ফূর্তির প্রচলন হয়। সে সময়ে যারা অপরাধ করত তাদের শাস্তি, মন্দিরের খাঁচায় আবদ্ধ বাঘ বা সিংহকে আহার করতে দিত। প্লেটো ও এরিস্ট্যাটলের দেশ গ্রিক সমাজে শিশু হত্যার ব্যাপক প্রচলন ও বৈধ ছিল। তখন প্রায় সকলেই অনাচার-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তার, ভোগ-বিলাস, আনন্দ-স্ফূর্তি আর বস্তুবাদের দিকে ঝুকে পড়ে। তাদের অজ্ঞতা মূর্খতা দ্বন্দ্ব সংঘাত আর আন্তকোন্দলের সুযোগে খ্রিস্টপূর্ব ৬০ অব্দে রোম সম্রাট ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। তখনও সমাজে কিছু সংখ্যক আহবার ও রূহবারের অস্তিত্ব ছিল।

এমনি সময়ে হযরত ঈসা (আ.) দুনিয়ায় আগমণ করেন। হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর একত্ববাদের দীক্ষা দিতেন। বস্তুবাদের পরিবর্তে আখিরাতে নাজাতের জন্যে আমলের কথা বলতেন। তিনি বলতেন দুনিয়ায় সম্পদ জমা রেখো না, কীট-পতঙ্গ খেয়ে ফেলবে, জং ধরে নষ্ট হয়ে যাবে, চোর ওঁৎ পেতে থাকবে চুরি করে নিয়ে যাবে। ঈসা (আ.) এর এ ধরনের দাওয়াত বা দীক্ষা ঐ সকল আহবার ও রূহবারগণ মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা হযরত ঈসা (আ.) এর নবুয়াতকে অস্বীকার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে যে, তাঁকে ধর্ম প্রচারের সুযোগ দিলে সে সমস্ত লোকজনকে বিভ্রান্ত করে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিদ্রোহ ঘটাবে। ফলে ধর্ম ও রাজ্য উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই রাষ্ট্র ও ধর্মদ্রোহীকে শূলে চড়াতে হবে। এমনি দাবির মুখে বেথেলহ্যামের গভর্নর পন্টিয়াছ পিলেট বা পিলাটুস ৩৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে শূলে চড়ানোর নির্দেশ দেয়। হযরত ঈসা (আ) এর ঊর্ধ্বাগমনের অল্প সময়ের ব্যবধানে লোকজন খ্রিস্ট ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। রোম সম্রাট সেক্যুলারিস্ট নিরোধর্মীয় উত্থান ঠেকাতে ও তার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে মিথ্যা আগুন লাগানোর অযুহাতে হাজার হাজার খ্রিস্টান নর-নারীকে বন্দি করে শূলে চড়ায় ও বাঘ আর সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ করে পাশবিক অত্যাচরের মাধ্যমে হত্যা করে। ৭০ খ্রিস্টাব্দে তিতুসের নেতৃত্বে বায়তুল মুকাদ্দাসসহ আশপাশের এলাকা থেকে ৯৭ হাজার খ্রিস্টানকে বন্দি করে দাস-দাসী করা হয়। ১১ হাজার খ্রিস্টানকে অনাহারে ও নিরোর সৈন্যদের তরবারি প্রশিক্ষণের নিশানা বানিয়ে হত্যা করা হয়।

হযরত ঈসা (আ) এর পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারীরা নিজেদের খ্রিস্টান আর হযরত মুসা (আ.) এর অনুসারীরা তাদের ইহুদি বানিয়ে প্রকৃত দ্বীন আল-ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আগমনের পূর্বে লোকদের মধ্যে কোনো প্রকার ধর্ম জ্ঞান বা ধর্ম চর্চা না থাকার কারণে সে যুগকে আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ বলে অবিহিত করা হয়। সে সময়ে আরবের লোকরা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। উলঙ্গ নর-নারী এক সাথে কা‘বা ঘর তওয়াফ করত। এমনই এক অন্ধকার যুগে পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ মানুষটিকে আল্লাহ সোবহানাহু তা‘য়ালা বিশ্ববাসীর মুক্তির জন্যে পাঠালেন। তিনি হলেন, রাহমাতুল্লিল আল-আমিন, খাতামুন্নাবীয়ীন ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল, ‘সকল মতবাদের ওপর আল্লাহর দেয়া ‘দ্বীন আল ইসলামকে, বা আল্লাহর দেয়া আইন-কানুন বা বিধি-বিধান চালু করা’ (সূরা আত তাওবাহ-৩৩)। আল্লাহর রাসূল (সা.) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেক রক্ত আর শহীদের বিনিময়ে পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণ যুগের উপহার দিয়ে ছিলেন। আল্লাহ তা’য়ালা নিজেই তাঁর রাসূল (সা.) কে তাঁর কাজের মূল্যায়ন করে সার্টিফিকেট দিয়ে ছিলেন এই বলে যে, ‘আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্যে আমার দ্বীনের পরিপূর্ণতা দান করলাম, আর এ দ্বীন হচ্ছে তোমাদের জন্যে আমার পক্ষ থেকে নিয়ামত স্বরূপ, আর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে দ্বীন আল ইসলামকে তোমাদের জন্যে জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করে দিলাম’ (সূরা আল মায়িদা-৩)। তখনও তাওরাত, যাবুর ও ইনজিলের আলেম বা আহবার ও রূহবারগণ আল্লাহর রাসূল (সা.) এর নবুয়াতের বিরোধিতা করেছিল। ঐ সকল আহবার ও রূহবারদের অনুসারীরা কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি রেখে পূজা করত। ৩৬০টি মূর্তি তাদের বিভিন্ন দেব-দেবীর গোত্র ও ধর্মের প্রতীক ছিল। এ সকল মূর্তি পূজারীরা সকলেই সকলের মূর্তি বা দেব-দেবীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। অর্থাৎ তারা ছিল ধর্ম নিরপেক্ষবাদী। আল্লাহর রাসূল (সা.) মক্কা বিজয়ের পর এ সকল মূর্তিগুলো কা’বা ঘর থেকে অপসারণ করেছিলেন। আর এখন আমাদের ঘরে ঘরে এমনকি আমাদের পকেটে পকেটে মূর্তি শোভা পাচ্ছে। আমাদের মুসলিম মিল্লাতের বা জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.) কে যে মূর্তি ভাঙার অভিযোগে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল, আমরা সে পিতার আদর্শ ভুলে বাতিলের আদর্শ বাস্তবায়নের মূর্তি বানাচ্ছি। আমাদের মধ্যে কেউ হয়তো এমন ধারণা করতে পারে যে মুসা (আ) ইহুদিদের নবী আর হযরত ঈসা (আ.) খ্রিস্টানদের নবী ছিলেন। আসলে এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ সকল নবী রাসূলগণই মুসলমান ছিলেন। আল্লাহ তা’য়ালা সকল নবী রাসূলগণকে একই নির্দেশ দিয়ে ছিলেন যে, ‘তোমরা আমার মনোনীত জীবন ব্যবস্থা (দ্বীন আল ইসলাম) প্রতিষ্ঠা করো আর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (সূরা আশ সূরা আয়াত-১৩)।

সেক্যুলারিজম এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! ধারণাটির মূল উৎস হচ্ছে ল্যাটিন ভাষার ঝধবপঁষঁস শব্দ থেকে। যার অর্থ হচ্ছে ইহজগত। ল্যাটিন ঝধবপঁষঁস শব্দ থেকেই ইংরেজি ঝবপঁষধৎ বা ঝবপঁষধৎরংস শব্দের উৎপত্তি। ঝধবপঁষঁস বা ঝবপঁষধৎ বা ঝবপঁষধৎরংস শব্দটি প্রথম ব্যবহার করে ছিল মুসা (আ.) এর মৃত্যুর পর তখনকার আহবার ও রূহবারদের দ্বারা প্রতারিত নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত ও শোষিত হয়ে অজ্ঞতা মূর্খতা আর ধর্মীয় জ্ঞানহীন স্বঘোষিত ইহুদিরা আহবার ও রূহবারদের অমান্য করার জন্যেই মূলত ঝধবপঁষঁস বা ঝবপঁষধৎ (সেক্যুলাম বা সেক্যুলার) শব্দটি ব্যবহার করে ছিল। ইতোপূর্বে আমরা ঝবপঁষধৎ বা ঝবপঁষধৎরংস শব্দের অর্থ ও সংজ্ঞা জেনেছি। যারা সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! এ বিশ্বাসী ইংরেজিতে তাদেরকে বলা হয় ঝবপঁষধৎরংঃ. এই ঝবপঁষধৎরংঃ শব্দের অর্থ হচ্ছে নীতি ও শিক্ষা ধর্মের প্রভাব হতে মুক্ত রাখার মতবাদে বিশ্বাসী। ঝবপঁষধৎরংস এর টার্গেট হচ্ছে মানুষকে ঝবপঁষধৎরুব করা। এই ঝবপঁষধৎরুব এর অর্থ হচ্ছে গধশব ড়িৎষফষু বা (মানুষকে) অপবিত্র বা অপদার্থ করা। মোট কথা মানুষকে নীতি-নৈতিকা ও ধর্মীয় আদর্শ বিমুখ বা অপবিত্র বা অপদার্থ করাই হচ্ছে ঝবপঁষধৎংরস বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্য। আর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে ধর্মহীন অজ্ঞ ও মূর্খ রেখে অপদার্থ বানিয়ে শাসনের নামে শোষণ করা। অর্থাৎ যেখানে বা যে দেশে ঝবপঁষধৎরংস প্রতিষ্ঠা করা হয় সেখানে বা সে দেশে কোনো নীতি-নৈতিকতা, ধর্মীয় শিক্ষা, আদর্শ আর পবিত্রতা বলতে কোনো কিছুরই অস্থিত্ব বা প্রভাব থাকে না। আর সমাজের লোকরা হয়ে যায় কাণ্ডজ্ঞানহীন অপদার্থ।

সেক্যুলারিজম আধুনিক যুগে :- ১৫৮১ সালে সম্রাট আকবর ‘দীন-এ-ইলাহী’ নামে নতুন ধর্ম প্রচার শুরু করে। আকবর মূলত ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতেই নতুন ধর্মের আবিষ্কার করে। আকবর ইসলামী আকিদা, তৌহীদ, রিসালাত, আখিরাত ইত্যাদি নিয়ে বিদ্রƒপ করতে শুরু করে। সুদ, মদ, জুয়া হালাল ঘোষণা করে আর দাড়ি ছেঁচে ফেলতে বাধ্য করে। খ্রিস্ট ধর্মানুযায়ী ঘণ্টা বাজানো, হিন্দু ধর্মানুযায়ী মূর্তি পূজা, জৈন ধর্মানুযায়ী সূর্যের পূজা, কপালে তিলক লাগানো, কোমর ও কাঁধে পৈতা বাঁধতে সকলকে নির্দেশ দেয়। আকবর শুকরকে পবিত্র প্রাণী ঘোষণা করে। গরু জবাই নিষিদ্ধ করে। সকল ধর্মের লোকের মৃত দেহ আগুনে পোড়ানোর বা পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার নির্দেশ জারি করে। আরবি ভাষাসহ কোরআন হাদিস শিক্ষার পরিবর্তে দর্শন ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার নির্দেশ দেয়। এক কথায় ইসলামী শরীয়াতে যা হারাম তা হালাল ঘোষণা করে। আকবরের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করাতে মুজাদ্দিদে আলফেসানী শায়খ আহমদ সরহিন্দকে কারারুদ্ধ ও অনেক মুসলমানকে হত্যা করে।

১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠা করতে সে সময় বিচার বিভাগ থেকে আলেমদের বরখাস্ত করে। মাদ্রাসাসমূহের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, আরবি হরফের পরিবর্তে ল্যাটিন হরফ চালু করে। আরবি লেখা ও পড়া নিষিদ্ধ করে। কোরআন শিক্ষা করা, শিক্ষাদান ও সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করে। টুপি ও দাড়ি নিষিদ্ধ করে। টুপি মাথায় কাউকে দেখলে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। স্কুলের বাচ্চাদেরকেও টুপির পরিবর্তে ইউরোপীয়দের মতো হ্যাট পড়তে বাধ্য করা হয়। কোনো এক স্কুলের বাচ্চাদের টুপি খুলে হ্যাট পড়তে দিলে বাচ্চারা তা ছুড়ে ফেললে আতাতুর্কের নির্দেশে সে স্কুলের সকল (৬০০-৭০০) শিশুকে স্কুলের পেছনে ঝর্ণার কাছে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৯৩২ সালে নামাজ পড়া, আযান ও আরবিতে খুতবা দেয়া নিষিদ্ধ করে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাসপাতালসহ সর্বত্র আতাতুর্কের ছবি বা মূর্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়। ১৯৩৪ সালে মোস্তফা কামাল তার নাম পরিবর্তন করে ‘কামাল আতাতুর্ক’ রাখে (তুর্কী ভাষায় আতাতুর্ক শব্দের অর্থ ‘ত্রাণ কর্তা’) এবং তার নাম অন্য কারো জন্যে রাখা নিষিদ্ধ করে। মদকে হালাল বলে ঘোষণা করে এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্যে মদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে ব্যাপকভাবে মদের লাইসেন্স প্রদান করে। গ্রিন সোসাইটি নামক একটি সামাজিক সংগঠন মদের ক্ষতিকর দিক ও কোরআনের দৃষ্টি ভঙ্গী তুলে ধরে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করার কারণে সে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে ও তাদের সকল সদস্যকে আটক করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।। এ সময় বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী শান্তিপূর্ণ পন্থায় ইসলামের মর্মবাণী সকলের নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নুরসী’র ধারণা ছিল যে যারা অজ্ঞতা হেতু ইসলামের বিরোধিতা করছে তাদের কাছে ইসলামে সঠিক বাণী পৌঁছাতে পারলেই তারা সঠিক পথে ফিরে আসবে। তারপরও তুরস্কে আতাতুর্কের সেক্যুলারিজমের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্রোহ দেখা দেয়। এতে আতাতুর্ক হাজার হাজার আলেম, ঈমাম, মুফতি ও ইসলামী ব্যক্তিত্বকে আটক করে সমুদ্রে পানিতে ডুবিয়ে ও ইস্তাম্বুলের লাইটপোস্টের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করে। অনেক আলেমকে বন্দি করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অনেককে আবার কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়। নুরসী’র বিশেষ আবেদন ছিল যে তোমরা আমাদের শিশুদেরকে সঠিক শিক্ষা দিও। সাঈদ নুরসীকে কারাগারে অমানবিক নির্যাতন এর মধ্যদিয়েই মৃত্যূবরণ করতে হয়েছে।

১৯৪৯ সালে মিসরের স্বৈরশাসক জামাল আব্দুন নাসের তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের পথ ধরে সেক্যুলার রাষ্ট্র কায়েম করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যে সে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন ইখওয়ান আল মুসলিমুনের নেতা হাসানুল বান্নাসহ তাঁর হাজার হাজার অনুসারীকে হত্যা করে। ১৯৫৪ সালে ইখওয়ানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে জামাল আব্দুন নাসের ৫০ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করে। তার মধ্যে সাঈয়েদ কুতুবসহ ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। জেলে হিংস্র হায়েনার দল কুকুর লেলিয়ে দিয়ে সাঈয়েদ কুতুবের সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে। তাঁর শরীর আগুন দিয়ে ঝলসে দেয়। তাঁর মাথায় গরম পানি ঢালা হত আবার ঠাণ্ডা পানিতেও চুবানো হতো। তাঁকে অনাহারে দিনের পর দিন বসিয়ে রাখা হতো। সে সময় ইরাকের আলেমদের দাবির মুখে ও প্রেসিডেন্টের অনুরোধে নাসের সরকার ১৯৬৪ সালে তাঁকে মুক্তি দেয়। কিছু দিন পর নাসের সরকার আবারো ইখওয়ানের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের জন্যে এক নাটক মঞ্চস্থ করে। এক গোয়েন্দা পুলিশের পকেটে ইখওয়ানের সদস্য ফরম রেখে নাসেরের জন সভায় যায় এবং নাসেরকে লক্ষ্য (ভ্রষ্ট) করে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কেউ হতাহত না হলেও যে ব্যক্তি গুলি ছুঁড়েছিল তাকে ধরে নাসেরের নিকট নিয়ে এসে তার পকেট চেক করে ইখওয়ানের সদস্য ফরম পাওয়া যায়। প্রেসিডেন্টকে হত্যা চেষ্টার অজুহাতে ইখওয়ানের প্রায় ৪০ হাজার নেতা কর্মী গ্রেফতার ও দলটিকে নিষিদ্ধ করে। এ সময় সাঈয়েদ কুতুবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, সে মিথ্যা নবুয়াতের দাবিদার। বিচারের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে ১৯৬৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সাঈয়েদ কুতুব ও তাঁর সঙ্গী সাথীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে। অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। কোনো পর্যবেক্ষক বা সাংবাদিককেও আদালতে ঢুকতে দেয়নি। এভাবে ১৯৬৬ সালের ১৮ মে পর্যন্ত এ বিচারের নাটক চলতে থাকে। ঐ বছরের ২১ আগস্ট বিচারক নাসেরের সাথে আলোচনা করে রায় ঘোষণা করে। সাঈয়েদ কুতুবসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ঐ সময়ের মধ্যে সাঈয়েদ কুতুবের ছোট ভাই মোহাম্মদ কুতুব ও বোনসহ আত্মীয় স্বজন অনেককেই হত্যা অথবা গ্রেপ্তার করা হয়।

‘সেক্যুলারিজম’ ডিজিটাল যুগে : সেক্যুলারিজম বা ‘ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ’! হচ্ছে নাস্তিক কুফুরী ও বর্বর মতবাদ। ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাষ্ট্র ভারতে ধর্ম জ্ঞানহীন অজ্ঞ ও মূর্খ লোকরা ধন-সম্পদ বা আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্যে আজও তারা নিজ সন্তানদের বলি দেয় বা হত্যা করে। যে মতবাদ মানুষকে অজ্ঞ মূর্খ ও ধর্মবিমুখ করে, নৈতিক চরিত্র ও মানবতা বোধ ধ্বংস করে, নিজ সন্তানের চাইতে পার্থিব ধন-সম্পদকে প্রধান্য দেয় এটা বর্বরতা। এটাই ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের শিক্ষা বা প্রভাব। এরই নাম ‘সেক্যুলারিজম’। অপরদিকে যে কোনো ধর্মই মানুষকে নীতি-নৈতিকতা চারিত্রিক মাধুর্য ও মানবতা বোধ শিক্ষা দেয়। যে যেই ধর্মেরই অনুসারী হউক না কেন তাকে অবশ্যই তার ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। কারণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ বা আবশ্য কর্তব্য। যাদের অন্তরে আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি সামান্যতম ঈমান আছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের হিসাব আখিরাতে আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে পেশ করতে হবে বলে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! মেনে নিতে পারে না। যদি কেউ সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ! মেনে নেয় তা হলে তার ঈমান থাকে না বা থাকতে পারে না।

আজকে বিশ্বময় ধর্মহীন নাস্তিক কুফুরী ও বর্বর মতবাদ ‘সেক্যুলারিজম’ বিদায় নিচ্ছে। যেখানে তুরস্ক, মিসর, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম দেশ থেকে সেক্যুলারিজম বিদায়ের পথে সেখানে বাংলাদেশের মানুষ ‘সেক্যুলারিজম’ গ্রহণ করবে না। কারণ এ দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই স্ব-স্ব ধর্ম পালনে বিশ্বাসী। আর এ দেশে ৮৭% মানুষ ইসলাম প্রিয় শান্তিকামী মুসলমান। আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে পৃথিবীর মানুষের জন্যে একটা জীবন বিধান ঠিক করে দেয়া হয়েছে, তা হচ্ছে,‘নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে (মানুষের জন্যে) মনোনীত এক মাত্র জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম’ (সূরা আল-ইমরান-১৯)। উক্ত সূরায় আল্লাহ তা’য়ালা আরো বলেন যে, ‘যদি কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবন বিধান তালাশ করে তবে তার কাছ থেকে সে (উদ্ভাবিত) ব্যবস্থা কখনো গ্রহণ করা হবে না, পরকালে সে হবে চরম ব্যর্থ’ (সূরা আল-ইমরান-৮৫)।


লেখক 

ভাইস প্রেসিডেন্ট, হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ, নারায়ণগজ্ঞ জেলা।