অবহেলায় বন্ধ হয়ে গেছে ১২ হাজার মাদরাসা

93090_173বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ১৯৮৪ সালে ১৯ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার রেজিস্ট্রেশন দেয়। এর ১০ বছর পর ১৯৯৪ সালে সরকার রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল এবং প্রতি ইউনিয়নে একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়। সরকার ধাপে ধাপে রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করে এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে ২৬ হাজার প্রাইমারি স্কুল সরকারীকরণ করে। অপর দিকে অবহেলার দরুন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা বন্ধ হতে হতে বর্তমানে মাত্র ছয় হাজার ৯৪৯টিতে এসে ঠেকেছে। ১২ হাজারের বেশি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতীয় প্রেস কাবের সামনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষক নেতারা এ তথ্য তুলে ধরেন।
তারা বলেন, ২০১৩ সালে ২৬ হাজারের বেশি প্রাইমারি স্কুল সরকারীকরণ করা হলেও উপেক্ষিত থেকে যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা। এসব মাদরাসা সরকারীকরণের পরিবর্তে ইউনিয়নে পূর্ব থেকে নির্বাচিত একটি করে মাদরাসার শিক্ষকদের ভাতা ৫০০ টাকা থেকে মাত্র এক হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়।
তারা জানান, প্রতি ইউনিয়নে একটি করে নির্বাচিত মাদরাসা ছাড়া অন্য মাদরাসার শিক্ষকেরা কোনো সরকারি ভাতা পান না।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদাসার শিক্ষকদের জাতীয় স্কেলে বেতন এবং সব প্রকার বৈষম্য অবসানের দাবিতে সমিতি জাতীয় প্রেস কাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট, সভা সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে গত বুধবার থেকে। গতকাল সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। শিক্ষক নেতারা জানান, তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক শিক্ষক কোনো বেতন ছাড়াই অবসরে চলে যাচ্ছেন একরাশ হতাশা নিয়ে। বর্তমানে যারা এসব মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন তারাও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা বলতে গিয়ে সমাবেশে কান্নায় ভেঙে পড়েন সংগঠনের সহসভাপতি তাজুল ইসলাম ফরাজী। শিক্ষক নেতারা অভিমানের সাথে বলেন, আমাদের বেতন না দিলে সব মাদরাসার স্বীকৃতি তুলে নেন। আমরা আর কোনো দাবি দাওয়া পেশ করব না। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও প্রত্যাহার করে নেন।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম ফরাজী, মো: শাহজাহান ও নজরুল ইসলাম হিরণ, মহাসচিব মোখলেছুর রহমান, সদস্য শফিউল্লাহ, সদস্য এনতাজ বিন হাকিম।
শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রতিটি সরকার প্রতিবার আমাদের অনেক আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু কেউ আমাদের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে আসেনি। আমরা আর দাবি আদায় পূরণ না করে ঘরে ফিরব না। যতদিন দাবি আদায় না হয় ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।