হজ্বের খুৎবায় যা বললেন শায়েখ হুসাইন ইবনে আব্দুল আজিজ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | বেলায়েত হুসাইন ও আরিফুল ইসলাম


শায়েখ হুসাইন ইবনে আব্দুল আজিজ

আজ ভোর থেকে আরাফামুখী হন লাখো মুসলমান । লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয় আরাফাত প্রান্তর। দুপুরের আগেই আরাফা ও পাশ্ববর্তী নির্ধারিত সীমানা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

ঐতিহাসিক আরাফা প্রান্তরের মসজিদে নামিরা থেকে হজ্বে খুৎবা প্রদান করেন নতুন খতীব বিচারপতি শায়খ ড. হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ।

হজ্বের খুৎবায় শায়েখ হুসাইন ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন,”আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করোনা “। এসময় তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সমাগত সকল নবী ও রসূলগণ নিজ নিজ উম্মাহকে এই কথাই শুনিয়েছেন যে, তোমরা শুধু আল্লাহর ইবাদত করবে।

আজ সৌদির পাক ভূমি মক্কা নগরীর আরাফাহর বিস্তৃত ময়দানে হজ্বের সবচে বড় রোকন উকুফে আরাফাহ্ তথা আরাফাহর ময়দানে অবস্থানের সময় বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে আগত লাখোলাখো তীর্থযাত্রীদের উপস্থিতিতে মসজিদে নববী স. এর সম্মানিত ইমাম শায়খ হুসাইন বলেন , আল্লাহ কোরআনে কারীমে বলেছেন, তোমরা তাকওয়া ইখতিয়ার করো এবং মহান আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে সফলকাম হতে পারবে।

খুৎবায় তিনি আরো বলেন, সব মুসলমানের প্রতি নসীহত হলো, তোমরা আল্লাহর ভয় অন্তরে বসাও এবং তাঁর সমস্ত আহকামাত ও বিধানাবলী পূর্ণ করো কেননা, যে আল্লাহকে ভয় করবে সে দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় জগতে সফলতা লাভ করবে। আর যে আল্লাহর প্রতি তাকওয়া ইখতিয়ার করবে, আল্লাহ তাকে সরল এবং সঠিক রাস্তার উপর অবিচল রাখবেন।

তিনি বলেন, আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম হলো, হে ঈমানদ্বার বান্দাগণ! তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, আর যখন তোমরা এরূপ করবে, আল্লাহ তখন তোমাদের কামিয়াব করবেন। কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,ঐ সমস্ত লোক-যারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হকুম পালন করে, তাদের জন্য বিরাট পুরস্কারের ওয়াদা রয়েছে।

শায়েখ হুসাইন বলেন, মহান আল্লাহ তার প্রিয় খলিল ইবরাহিম আ. এর কথা পবিত্র কোরআনে আলোচনা করেছেন, সেখানে আল্লাহ তা’য়ালা হযরত ইবরাহিম আ. কে হুকুম করেছেন,আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো।
ইমাম হুসাইন বলেন, তাকওয়ার মধ্যে এটাও শামিল যে, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবেনা। আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের আদেশ করছেন, ” হে লোকসকল! তোমরা তাঁর ইবাদত ইখতিয়ার করো,যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ব অতিবাহিত সবাইকে সৃষ্টি করেছেন,যিনি তোমাদের (সুবিধার জন্য) জমিন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন-আসমানকে তোমাদের জন্য ছাদ এবং জমিনকে বিছানা বানিয়েছেন, এবং তোমাদের জন্য যিনি সবরকমের নেয়ামত, ফলফলাদি ও খাদ্যসম্ভার নাজিল করেছেন-এজন্য তোমরা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করোনা।

তিনি বলেন, খালেস ও নিষ্কলুষ তাওহীদের মর্ম হলো-এই কথার উপর বিশ্বাস, আল্লাহ এক,তাঁর কোন শরিক নেই। এর প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা’য়ালা স্বীয় রসূল স. কে এই বলতে আদেশ করেছেন যে, আমার একজনই রব,তিনি একক। আমি তাঁর উপর ভরসা করি এবং তাঁরই ইবাদত করি।

খুৎবায় তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, দুই খোদা বলতে কিছু নেই,খোদা তো একজন-আসমান এবং জমিন তাঁরই সৃষ্টি। তোমাদের জন্য যেসব নেয়ামত দেয়া হয়েছে, তার সমস্তই আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে।
যখন তোমরা কোন পেরেশানি ও সমস্যায় পতিত হও, তখন তোমরা আল্লাহর দিকে রুজু হও। আর যখন তোমরা পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ করো, তখন তোমাদের কতক এরূপ হয়-তারা পুনরায় আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপন শুরু করে দেয়।

শায়েখ হুসাইন বলেন, আমাদের নবী শেষ নবী-আর আল্লাহ কোরআনে এরশাদ করেছেন যে, পেয়ারা নবী স. কে সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে,যেন তিনি সবাইকে সুসংবাদ দান করেন। ইসলামের মূল শিক্ষাও এটাই, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করো,সালাত কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো,কেননা সালাত মন্দ ও ফাহেসা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে।

আল্লাহ তা’য়ালা ওয়াদা করেছেন,আমি কোন নেক আমলই বরবাদ হতে দেইনা। আল্লাহ অন্যত্র সালাত ও জাকাতের নির্দেশ দান করেছেন এবং বলেছেন, আমরা যে নেক আমলই করবো, রোজ কিয়ামতে এর পুরস্কার আমাদের দেয়া হবে।

শায়েখ হুসাইন বলেন, হজ্বকে আল্লাহ তা’য়ালা ইসলামের পঞ্চম রোকন নির্ধারণ করেছেন এবং নির্দিষ্ট সক্ষম ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরজ করেছেন। রসূল স. বলেছেন, যে নির্ভুলভাবে হজ্ব আদায় করবে এবং ফিরে আসবে, সে তো এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করলো যেন মাত্রই মায়ের উদর থেকে জন্ম নিলো।