জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

আওয়ামী ওলামালীগের ১০ দফা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে মানবন্ধন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।
আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে।

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য হুবহু বিবৃতিটি তুলে ধরা হল-

3a2107a23১. সন্ত্রাসীদের দমনের সহযোগীতার নামে এদেশে যে কোনো রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী পাঠানোর অপচেষ্টা ওলামা লীগ রুখে দিবে। বিশেষ করে এই দেশে আইএস তৈরীর আমেরিকান ষড়যন্ত্রে এবং এদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম দখলের আমেরিকান খাহেশ রুখে দেয়ার জন্য ওলামা লীগ সর্বাত্মক জনমত গড়ে তুলবে।

২. পাঠ্যপুস্তকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের বর্ণনা এবং ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের আলোকপাত নেই বলেই শিক্ষার্থীরা ইসলাম থেকে দূরে সরে সন্ত্রাসবাদে দিক্ষিত হচ্ছে। এর অবসান ঘটাতে হবে।

৩. যেসব মিডিয়ার হঠকারীতায় বিডিআর বিদ্রোহ এবং গুলশান হত্যাকা- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা রয়েছে তাদের এবং যেসব মিডিয়া ও মিডিয়াকর্মী সন্ত্রাসীদের সাথে গোপন সম্পর্ক রাখে এবং তাদের এজেন্ট হয়ে কাজ করে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরণের মিডিয়া লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

৪. মোসাদের সাথে জড়িত উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী ও গয়েশ্বর মার্কা হিন্দু এবং জামাত-জোট এজেন্ট- যারা এদেশে আইএস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতে চায়, বিশেষ করে বর্তমানে ‘সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা হিন্দু নির্যাতন করছে’ বলছে এবং ‘বর্তমান সরকারের আমলে বেশি হিন্দু নিপীড়ণ হচ্ছে’ অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। পাশাপাশি কাশ্মীরসহ সারা ভারতে যে অবর্ণনীয় মুসলিম নির্যাতান চলছে সরকারকে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে।

৫. ঈদের ছুটি ৯ দিন করার জন্য ওলামা লীগের দাবী মেনে নেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এ ছুটি অব্যাহত রাখতে হবে। এবং আগামী কুরবানী ঈদেও ষড়যন্ত্রকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানীর প্রচারণা প্রতিহত করতে হবে।

৬. ১৫ই আগষ্টকে জাতীয় শাহাদাত দিবস ঘোষণা করতে হবে। এবং বিশেষ বাজেট ঘোষণা করে দেশের ১৫ লাখ মসজিদে বিশেষ মীলাদ মাহফিল ও তাবারুকের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. পিস টিভি বন্ধের জন্য সরকারকে আন্তরিক মোবারকবাদ। পাশাপাশি পিস টিভি মতাদর্শের জামাতী মালানা তারেক মনোয়ারের মতো মালানাদের মাহফিল নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং তাদের গ্রেফতার করতে হবে। নেপালে ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ হলে, চীনে পর্ণগ্রাফী বন্ধ হলে বাংলাদেশে নয় কেন?

৮. পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ে ঘোষিত শত্রু সম্পত্তি এখন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। অর্পিত সম্পত্তির মোড়কে এটা কারো তুলে দেয়া যাবে না। ভারতে শত্রু সম্পত্তি এখনো মুসলমানদের ফেরত দেয়নি। অবিলম্বে অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে।

৯. ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি জেলায়ই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তাহলে সন্ত্রাসী ছাত্রদের তথ্য নেয়া ও মনিটরিং সহজ হবে।

১০. যে অর্থমন্ত্রী নিজেকে নিজে প্রতিবন্ধি বলে, তার নিজেরই অব্যাহতি নেয়া উচিৎ। কৃষকের উপর কর আরোপ এবং আখ চাষ বন্ধ করণের প্রতিবন্ধী খাহেশ বাস্তবায়ন করতে দেয়া যাবেনা। পাটের মতো চিনি শিল্পকেও ঘুরে দাড়াতে সাহায্য করতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দলের উদ্যোগে ১০ দফা দাবীতে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ১০টি বিষয়ে বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেন।

ইসলাম বর্জিত কুফরী শিক্ষানীতি- ২০১০ বাতিল করতে হবে। পাঠ্যক্রমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবু রসূলিনা ও উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবাই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, হযরত আউলিয়া-কিরাম রহমতুল্লাহিম আলাইহিমগণের জীবনী ও আদর্শের আলোকপাত নেই বলেই শিক্ষার্থীরা ইসলাম থেকে দূরে সরে সন্ত্রাসবাদে দিক্ষিত হচ্ছে। এর অবসান ঘটাতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলাম বর্জিত শিক্ষানীতির কারণে দেশে ছাত্র-ছাত্রীরা সন্ত্রাসবাদে দীক্ষা নিচ্ছে। অথচ ইসলামে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কুরআন শরীফের বিভিন্ন আয়াত শরীফে এবং বিভিন্ন হাদীস শরীফে সন্ত্রাসবাদ ও সস্ত্রাসী তৎপরতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, তায়েফের ঘটনা আমরা সবাই অবগত। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম তিনি যখন আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আঘাতকারীদের দু’পাহাড় একত্র করে পিষ্ট করার অনুমতি চাইলেন তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরম দরদের সাথে বলেছিলেন, “এদেরকে যদি এভাবে মেরে ফেলা হয় তবে কাদের প্রতি আমি ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাব? এরা না হোক, এদের বংশধররাও তো ইসলাম গ্রহণ করতে পারে।” সুবহানাল্লাহ।
বক্তারা বলেন, আজমীর শরীফের হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক কোটিরও বেশী বিধর্মীকে মুসলমান বানিয়েছেন রুহানিয়তের মাধ্যমে। কারণ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “তোমরা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাক হিকমতের সাথে সুন্দর সুন্দর কথা দ্বারা।” (সূরা নহল-১২৫)

বক্তারা বলেন, দ্বীন ইসলামের এসব শিক্ষা বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বরং যেগুলো ছিল সেগুলোও বাদ দেয়া হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দাদের দ্বারা পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিযবুত তাহরীর, জেএমবি, আল কায়দা, তালেবানে যোগ দিচ্ছে। এসব সন্ত্রাসী সংগঠন বিভিন্ন মুসলিম দেশে আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্র প্রস্তুতে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। অথচ আমাদের পাঠ্য পুস্তকে যদি নবী-রসূল, আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, ছাহাবাই কিরাম এবং আউলিয়ায়ে কিরামগণের জীবনী মুবারক অর্ন্তভূক্ত থাকতো তাহলে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসবাদ হারাম এ শিক্ষা অর্জন করতো। তাই দেশকে সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত করতে হলে পাঠ্যপুস্তকে অবিলম্বে উনাদের জীবনী ও আদর্শ মুবারক সন্নিবেশিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছে, বর্তমান শিক্ষানীতি ইসলাম বিরোধী নয়। কিন্তু যে শিক্ষানীতির আলোকে হিন্দুত্ববাদ সর্বস্ব রচনা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়ে, মুসলমানদের ইসলাম বিরোধী হিন্দুত্ববাদী চেতনা শিক্ষা দেয়া হয়। সে শিক্ষানীতি কখনো ইসলাম সম্মত হতে পারেনা। বরং সম্পূর্ণ সেটা ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি। হিন্দুত্ববাদ হিন্দুদের ধর্মশিক্ষায় থাকতে পারে কিন্তু সেটা মুসলমানদের পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে কেন? উল্লেখ্য, বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে ১ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা বইয়ে অন্তর্ভূক্ত গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধসমূহের মধ্যে মুসলমান লেখকদের তুলনায় বিধর্মী হিন্দু লেখকদের লিখাকে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যেমন ১ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত গল্প ও কবিতার সংখ্যা ১৯৩টি। এরমধ্যে হিন্দু ও নাস্তিকদের লেখার সংখ্যা হলো ১৩৭টি। যা সর্বনি¤œ শতকরা ৫৭ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৮২ ভাগ প্রাধান্য পেয়েছে। হিন্দুত্ববাদী পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষানীতির পক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর সাফাই দেশবাসী মুসলমান কখনো মানেনা এবং মানবেনা। অবিলম্বে হিন্দুত্ববাদী কুফরী শিক্ষানীতি ২০১০ এবং হিন্দুত্ববাদী পাঠ্যপুস্তক বাতিল করতে হবে।
পিস টিভি বন্ধের জন্য সরকারকে আন্তরিক মোবারকবাদ। পাশাপাশি পিস টিভি মতাদর্শের জামাতী মালানা তারেক মনোয়ারের মতো মালানাদের মাহফিল নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং তাদের গ্রেফতার করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ওলামালীগের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষিতে দেরীতে হলেও সন্ত্রাসবাদে উস্কানীদাতা পিস টিভি বন্ধ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মুবারকবাদ। শুধু পিস টিভি বন্ধ করলে হবেনা বরং জাকির নায়েকের অনুসারি যেসব মালানা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এখনো প্রোগ্রাম করছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। জাকির নায়েক অনুসারী যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা মালানা তারিক মনোয়ার, পিস টিভির বক্তা ও আহলে হাদিস আন্দোলনের নেতা মালানা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ এদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। দেশে সন্ত্রাসী হামলা রুখতে হলে সন্ত্রাসবাদের উস্কানীদাতা জাকির নায়েক অনুসারীসহ হিযবুত তাহরীর, আহলে হাদীস আন্দোলন ও জামাত-শিবির অনুসারীদের গ্রেফতারও কঠোর নজরদারীতে আনতে হবে। এদের পাশাপশি পিস পাবলিকেশন. পিস স্কুল, ইউটিউবে জাকির নায়েকের বক্তৃতাসহ এসব সংগঠনের প্রকাশনা ও সবধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে।


নেপালে ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ হলে, চীনে পর্ণগ্রাফী বন্ধ হলে বাংলাদেশে নয় কেন? 


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়ালগুলো ব্যাপকভাবে বিপথগামী করছে আমাদের তরুণ-তরুণীদের। পারিবারিক বন্ধন তথা সমাজব্যবস্থা ভেঙ্গে দিচ্ছে। ভারতীয় টিভি সিরিয়ালগুলোতে ভরপুর থাকে ষড়যন্ত্র, কুটিলতা, ভ্যারামো, মিথ্যাবাদিতা, পাপাচার, অন্যের ক্ষতিসাধন করা, লিভ টুগেদার করা, ছেলেমেয়েদের বেলেল্লাপনায় উৎসাহ দেয়া। এগুলোকে কেন্দ্র করে গোটা সিরিয়ালজুড়েই থাকে কূটবুদ্ধির চর্চা। প্রতিহিংসা রূপ নেয় একে অপরকে ধ্বংস বা হত্যা অথবা হত্যা ষড়যন্ত্রের পর্যায়ে। ফলে সমাজে খুন, সম্ভ্রমহরণ, রাহাজানি, ভ্রুণ হত্যা, উত্ত্যক্ত করাসহ ইত্যাদি ইত্যাদি অপকর্মগুলো বেড়েই চলছে জ্যামিতিক হারে। আমাদের ধর্ম, আমাদের পরিবার প্রথা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুক্ষ্মভাবে ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা চলছে টিভি সিরিয়াল ও টিভি আগ্রাসনের মাধ্যমে প্রতি আসক্তি বাড়িয়ে।

বক্তারা বলেন, ভারতের খবরদারী, চোখরাঙ্গানী সব উপেক্ষা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নেপাল সম্প্রতি ভারতের ৪২টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধানের বিরুদ্ধে ভারতের অবৈধ হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে নেপাল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে চীনও সেদেশে হাজার হাজার পর্ণ সাইট বন্ধ করে দিয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া যুক্তরাজ্য আগামী বছর থেকে ১৮ বছরের নীচে কেউ পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্টদের আড়াই লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করবে। অথচ বাংলাদেশে অশ্লীলতা ছড়ানো ভারতীয় টিভি চ্যানেল এবং পর্ণ সাইটগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না। তাছাড়া টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তারানা হালিম এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধের ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে এখনো পর্ণ সাইটগুলো বন্ধ করেননি। অবিলম্বে ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংসকারী সিরিয়াল ও পর্ণ সাইট এদেশে বন্ধ করতে হবে।

পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ে ঘোষিত শত্রু সম্পত্তি এখন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। অর্পিত সম্পত্তির মোড়কে এটা কারো তুলে দেয়া যাবে না। ভারতে শত্রু সম্পত্তি এখনো মুসলমানদের ফেরত দেয়নি। অবিলম্বে অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে।

বক্তারা বলেন, অর্পিত সম্পত্তি মূলতঃ ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ের শত্রু সম্পত্তি আইন থেকে এসেছে। পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যারা দেশ ত্যাগ ভারতের পক্ষাবলম্বন করেছিল তাদের সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ গন্য করা হয়। একইভাবে যারা ভারত থেকে যারা পাকিস্থানে পালিয়ে গিয়েছিল তাদের সম্পত্তিকে ভারত শত্রু সম্পত্তি ঘোষণা করে। ভারত কর্তৃক ঘোষিত ‘শত্রু সম্পত্তি’ ভারত সরকার এখনো ভারতীয় মুসলমানদের ফেরত দেয়নি। বর্তমানে শুধু মুম্বাইতে ১৬০০০ শত্রু সম্পত্তি হিসেবে গণ্য মুসলমানদের সম্পত্তি রয়েছে। যা ফেরত পেতে ৫৫০টি মামলা হলেও মুসলমানদের তাদের ভূমি ফেরত দেয়া হয়নি। ভারতে শত্রু সম্পত্তি মুসলমানদের ফেরত দেয়া না হলে বাংলাদেশ এই শত্রু সম্পত্তি কেন ফেরত দেবে? এটা এখন সরকারী সম্পদ। ‘অর্পিত সম্পত্তি’র মোড়কে এই শত্রু সম্পত্তি বাংলাদেশের বিধর্মীরাও পেতে পারে না। তাদের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বা দেশ ছেড়ে যাওয়া নাগরিকরা সম্পত্তির দাবিদার হতে পারেনা। যারা দেশপ্রেম বাদ দিয়ে শত্রু দেশে আশ্রয় নেয় এবং স্বদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা কিভাবে ভুমি ফেরত পেতে পারে? ভারত যেখানে মুসলমানদের সম্পত্তি ফেরত দেয়নি সেখানে বাংলাদেশে এই শত্রু সম্পত্তি ফেরত দিতে অতি উৎসাহ কেন? তাই অবিলম্বে ‘শত্রু সম্পত্তি’ বা অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করতে হবে। কয়েক লাখ একর সরকারী সরকারী সম্পত্তি কারো হাতে তুলে দেয়া যাবে না। বরং সরকারকে তা রক্ষা করতে হবে।
সন্ত্রাসীদের দমনের সহযোগীতার নামে কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের অসৎ উদ্দেশ্য ওলামা লীগ রুখে দিবে। এদেশে আইএস তৈরীর মার্কিন ষড়যন্ত্রে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম দখলের মার্কিন খাহেশ রুখে দেয়ার জন্য ওলামা লীগ সর্বাত্মক জনমত গড়ে তুলবে।

বক্তারা বলেন, গুলশান হামলার পর আইএস-এর সৃষ্টিকর্তা মার্কিনীরা আইএস দমনের নামে এদেশে সৈন্য পাঠাতে চেয়েছিল। আইএস-এর অস্ত্র সরবরাহকারীদের দেশ ভারতও নিরাপত্তা সহযোগীতার মোড়কে এদেশে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়। আইএস-এর মুখপাত্র ইহুদীবাদী ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ আইএস আছে বলে সরকারকে স্বীকার করাতে চায়। সবমিলিয়ে আইএস এর নামে এদেশকে নিয়ে লুটেরারা বহুমুখী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চায়। পাশাপাশি তারা কিছু সংখ্যক উপজাতি সন্ত্রাসীকে মদদ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। কিন্তু ওলামালীগ সব লুটেরাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশব্যাপী জনমত তৈরী করবে।
বক্তারা বলেন, বরাবরের মতো এবারও আইএস দমনের নামে বাংলাদেশকে বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রস্তাব দিয়ে আসছে “আইএস মোকাবেলায় তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চায়।” বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছে, “বাংলাদেশে আইএস-এর উত্থান ঠেকাতে যা দরকার তা আমাদের আছে।” এসব বক্তব্যের দ্বারা সুস্পষ্ট যে, আইএস এর অজুহাতে আমেরিকা বাংলাদেশে ঢুকতে চায়। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে যেখানে সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সেখানে বাংলাদেশে তারা কোন উদ্দেশ্যে সহযোগীতা করতে চায়? কারণ মার্কিন ফেডারেল প্রশাসনের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরিন সন্ত্রাসে প্রতিদিন গড়ে ৩৩ জনেরও বেশি মানুষ বিচার বহির্ভূতভাবে মারা যায়। তাছাড়া ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ক্রসফায়ারে প্রতিদিন দুইজনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ফেডারেল প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে গুলিতে ১১ হাজার ৪১৯ জন, ২০১৪ সালে বন্দুকের ১২ হাজার ৫৬১ জন এবং ২০১৫ সালে ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে (বিবিসি)। তাছাড়া পলিটিফ্যাক্ট-এর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে ১৯৬৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মার্কিন আভ্যন্তরিন সন্ত্রাসে আমেরিকায় ১৪ লাখ মানুষ মারা গেছে।

বক্তারা বলেন, মূলত গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসে জর্জরিত এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে। সুতরাং যে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ সেখানে আইএস দমনের নামে বাংলাদেশে আগমন নয় বরং বিশ্বের উচিত জাতিসংঘে শান্তিরক্ষায় প্রশংসিত বাংলাদেশের নেতৃত্বে মার্কিন সন্ত্রাস বন্ধে সেদেশে সেনা মোতায়েন করা। বিদেশীদের যুক্তরাষ্ট্র গমনে ‘ভ্রমন সতর্কতা জারী করা।

বক্তারা বলেন, যে আমেরিকা বাংলাদেশে আইএস আছে বলে প্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী গোষ্টী ‘আইএস’ তৈরীর অভিযোগ রয়েছে। তারা নিজেরাই আইএস তৈরীর মূলহোতা এবং আইএস এর অস্ত্র সরবরাহকারী। ফক্স নিউজে দেয়া সাক্ষাতকারে মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার স্বীকার করেছে, “মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তৎপর আইএস আমেরিকা থেকে অস্ত্র পাচ্ছে। আইএস-কে অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে আমরিকাই দায়ী।” তাছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, তাজিকিস্তানের সাপ্তাহিক ‘ফার্জ’, বার্তা সংস্থা আইআরআইবিসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক মিডিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আইএস’ তৈরীর পেছনে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ফাঁস হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘আইএস’ মার্কিনীদের তৈরী, এ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনভিত্তিক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মাইক হুইটনি বলেছে, “আইএস দমনের নামে মধ্যপ্রাচ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টি, বিদ্যমান সীমান্ত নিশ্চিহ্ন করা ও ক্রীড়নক সরকার বসাতে ওবামা প্রশাসন তৎপর। আরেকটি রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের পথ সুগম করতেই মূলত পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সহযোগীরা আইএসকে সৃষ্টি করেছে।” তাছাড়া বিশ্লেষক প্যাট্রিক মার্টিনের ভাষ্য, “আইএস হলো মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের অজুহাত।”

বক্তারা বলেন, আইএস’র সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আমেরিকা চাচ্ছে বাংলাদেশকে স্বীকার করতে বাধ্য করা যে, বাংলাদেশ নিরাপত্তা বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, এই ঝুঁকি সৃষ্টি করছে আইএস এবং এই জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও জঙ্গিদের দমনের কাজে আমেরিকার সাহায্য গ্রহণ দরকার। বাংলাদেশে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি দরকার।

বক্তারা বলেন, আইএস দমন তাদের আসল লক্ষ্য নয়। আসল লক্ষ্য এই জঙ্গি দমনে সাহায্য দেয়ার নামে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ এবং দেশটির বর্তমান স্বাভাবিক অবস্থাকে অস্বাভাবিক করে তোলা। যেখানে আমেরিকা, সিরিয়া ও ইরাকে টন টন বোমা ফেলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেও আইএস দমন করতে পারেনি, সেখানে বাংলাদেশে তারা কিভাবে আইএস সন্ত্রাসী দমন করবে? আর যেখানে আইএস সন্ত্রাসী নেই বলে বাংলাদেশের প্রশাসন নিশ্চিত, সেখানে বাংলাদেশে আইএস’র আবিষ্কার দ্বারা পশ্চিমা ক্রুসেডার বাহিনীর উদ্দেশ্য যে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে বেকায়দায় ফেলে আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্র তৈরী করা, তা সহজেই অনুমেয়। আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের বাহানায় ইরাক, সিরিয়া দখল করে পর্যায়ক্রমে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে গ্রাস করার ধারাবাহিকতায় এখন বাংলাদেশে আইএসে’র ধোয়া তুলেছে পশ্চিমা আগ্রাসী লুটেরারা।

বক্তারা বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছে, “ইচ্ছা করলে তারা বাংলাদেশ দখল করতে পারতো।” তার এ বক্তব্য দ্বারাই মার্কিনী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে। তা না হলে চোরের মন পুলিশ পুলিশ কেন? এ বক্তব্য দ্বারাই মার্কিনীদের থলের বিড়াল বের হয়েছে। তারা বাংলাদেশে ঢুকতে চায় বলেই আইএস ধোয়া তুলেছে। প্রসঙ্গত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুল-উল আলম হানিফ বলেছেন, গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাসী-জঙ্গি দমনের নামে একটি দেশ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। ওলামা লীগ মার্কিনীদের এ ধরণের খাহেশ সর্বোতভাবে প্রতিহত করবে।

বক্তারা বলেন, মার্কিনীসহ বিদেশী লুটেরাদের খাহেস ও ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের সব বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সব বাহিনীকে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলার মতো সক্ষম করতে হবে। বিশেষ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সম্প্রতি পুলিশের আইজিপিও বলেছেন, সন্ত্রাসীদের সংখ্যা বেশী নয়। সুতরাং মুষ্টিমেয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাশ্ববর্তী ও বিদেশী লুটেরাদের ডেকে খাল কেটে কুমির আনার কোন প্রয়োজন নেই বরং দেশের দেশপ্রেমী বাহিনীগুলোই যথেষ্ট।

ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি জেলায়ই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তাহলে সন্ত্রাসী ছাত্রদের তথ্য নেয়া ও মনিটরিং সহজ হবে।

বক্তারা বলেন, সব জেলায় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের শিক্ষার্থীরা ঢাকামূখী। এতে যেমন ঢাকা শহরের উপর চাপ বাড়ছে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বাড়ছে। তাছাড়া সন্ত্রাসী শিক্ষার্থীদের তথ্য পাওয়া কষ্টকর হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা সুষম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদি প্রতিটি জেলায় সব ধরণের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকে তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় তাহলে এসব সমস্যার সমাধান হবে। এতে শিক্ষার যেমন মানোন্নয়ন হবে তেমনি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কমবে। এলাকাভিত্তিক কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন ঘটবে।

যেসব মিডিয়ার হঠকারীতায় বিডিআর বিদ্রোহ এবং গুলশান হত্যাকা- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা রয়েছে তাদের এবং যেসব মিডিয়া ও মিডিয়াকর্মী সন্ত্রাসীদের সাথে গোপন সম্পর্ক রাখে এবং তাদের এজেন্ট হয়ে কাজ করে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরণের মিডিয়া লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

বক্তারা বলেন, মিডিয়ার উস্কানীতে সারাদেশে বিডিআর বিদ্রোহ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। একইভাবে এবারও সন্ত্রাসীদের সাথে গোপন আঁতাতকারী কালো মিডিয়া গুলশান হত্যাকান্ড পরিস্থিতি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে সরাসরি সম্প্রচার করছিল। এমনকি সিএনএন-এর প্রতিনিধি না থাকার পরও এদেশী আঁতাতকারী কালো মিডিয়া সিএনএনকে সেটা সরবরাহ করেছে। নিষেধ করার পরও কিছু কালো মিডিয়া সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করতে চায়নি-সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি, সরাসরি সম্প্রচারের নামে টেলিভিশন চ্যানেল সব দেখিয়ে দিচ্ছে, র‌্যাব অপারেশনে যাবে, পোশাক পরছে সেটাও দেখিয়ে দিচ্ছে। এটা দেখে সন্ত্রাসীরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে ফেলছে। কোন প্রস্তুতিই নেয়া যাচ্ছে না, সব টেলিভিশন দেখিয়ে দিচ্ছে। সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করতে বলার পরও কেউ কেউ তা বন্ধ করতে চায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।”

বক্তারা বলেন, দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত এবং সন্ত্রাসী কানেকশন থাকা এসব কালো মিডিয়া ও মিডিয়া কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

১৫ই আগষ্টকে জাতীয় শাহাদাত দিবস ঘোষণা করতে হবে। এবং বিশেষ বাজেট ঘোষণা করে দেশের ১৫ লাখ মসজিদে বিশেষ মীলাদ মাহফিল ও গরু জবাই করে তাবারুকের ব্যবস্থা করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। এ দিবসকে শুধু শোক দিবস হিসেব পালন করলে হবে না। কারণ এ দিবস সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত দিবস। এ দিবসকে শাহাদত দিবস হিসেবে পালন করতে হবে। এ দিবসে ইসলামের দৃষ্টিতে শহীদের মর্যাদা নিয়ে সারাদেশে আলোচনা সভা মীলাদ মাহফিল আয়োজন করতে হবে। বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করে দেশের ১৫ লাখ মসজিদে বিশেষ মীলাদ মাহফিল ও তবারকের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঈদের ছুটি ৯ দিন করার জন্য ওলামা লীগের দাবী মেনে নেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এ ছুটি অব্যাহত রাখতে হবে। এবং আগামী কুরবানী ঈদেও ষড়যন্ত্রকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানীর প্রচারণা প্রতিহত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ওলামালীগের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবারের ঈদে ৯ দিন ছুটি দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এ ছুটি অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি আগামী কুরবানী ঈদে যাতে কুরবানীর স্থান নির্দিষ্ট করা নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা কোন চক্রান্ত করতে না পারে সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গতবছর কুরবানীর স্থান নির্দিষ্টকারী চক্রান্তকারীরা নিজেরাও নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী করেনি। কিন্তু তারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরবানী বন্ধে এবং দুর্ভোগে ফেলতে তারা হিন্দুত্ববাদী চক্রান্তে পা দিয়েছিল।

বক্তারা বলেন, কুরবানীর স্থান নির্দিষ্ট না করে বরং পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পরিস্কারের লজিষ্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে একদিনেই পুরো ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন করা যাবে ইনশাআল্লাহ। অন্যথায় এবারো যদি এসব হিন্দুত্ববাদের দালালরা পবিত্র কুরবানী বন্ধে স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়ার পায়তারা করে, তাহলে দেশব্যাপী এসব দালালদের বিরুদ্ধে ওলামা লীগের নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তাই এ ব্যাপারে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মোসাদের সাথে জড়িত উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী ও গয়েশ্বর মার্কা হিন্দু এবং জামাত-জোট এজেন্ট- যারা এদেশে আইএস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতে চায়, বিশেষ করে বর্তমানে ‘সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা হিন্দু নির্যাতন করছে’ বলে এবং ‘বর্তমান সরকারের আমলে বেশি হিন্দু নিপীড়ণ হচ্ছে’ অপপ্রচার চালায় তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। পাশাপাশি কাশ্মীরসহ সারা ভারতে যে অবর্ণনীয় মুসলিম নির্যাতন চলছে সরকারকে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুসলিম বিশ্বের শত্রু ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ; মুসলিম বিদ্বেষী শিপন বসুদের মৌলবাদী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং বিএনপি’কে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত করছে। মোসাদের এজেণ্ট শিপন বসুরা গত ৬ মে মোদির গুরু জয়েন্দ্র সরস্বতীর সাথে সাক্ষাৎ করে, যাতে মোদি বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার বিরোধী অবস্থান বর্তমান নেয়। এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে এদেশের মৌলবাদী উগ্র হিন্দুরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটানোর পায়তারায় লিপ্ত হয়েছে। এদের অপতৎপরতার ফলেই সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন “সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধে সহায়তা দেবে ভারত”।

বক্তারা বলেন, সরকার বিরোধী তৎপরতায় এদেশের মার্কিনপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোকে মোসাদ যুক্ত করেছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী বিএনপি মোসাদের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মোসাদের এজেণ্টরা খালেদাকে ক্ষমতায় আনতে ভারতের সাথে সরকারের সর্ম্পকের অবনতি ঘটাতে মার্কিনপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কাজ করছে। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নাকি তাদের ৩-৪ জন মন্ত্রী দেবে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত এবং ভারতের সাথে সর্ম্পক অবনতিতে কাজ করে যাচ্ছে “বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জাগো হিন্দু পরিষদ, মার্কিন পন্থী উগ্র হিন্দু ইসকন, হিন্দু সংহতি ইত্যাদিসংগঠনগুলো। এদেশে হিন্দুদের উস্কানী দিতে ও সাম্প্রদায়িক ক্ষেত্র প্রস্তুতে তারা কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশ-বিদেশে বাংলাদেশ বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। সুতরাং যেসব সাম্প্রদায়িক ও ষড়যন্ত্রী হিন্দু এদেশে আইএস সৃষ্টিসহ মোসাদের সাথে আতাত করে বিভিন্ন দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করতে চায় তাদের প্রতিহতের জন্য আলাদা আইন ও গোয়েন্দা এলিট ফোর্স তৈরী করা অতীব জরুরী। কারণ, মার্কিনপন্থী হিন্দু ও নাস্তিকদের ব্যবহার করে এদেশে আইএস-এর ধোয়া তুলে আমেরিকা এ দেশকে অস্থিতিশীল ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে।

বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের একটি মহল মনে করেন, হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ বান্ধব- এ মিথ্যা থেকে সরে আসার সময় হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, হিন্দুদের একটি অংশ মার্কিনপন্থী। প্রতিবেশি দেশের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশও মার্কিনপন্থী। নাস্তিকদেরও একটি বড় অংশ মার্কিনপন্থী। এজন্য আমেরিকা নাস্তিকদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব মার্কিন তথা বিএনপিপন্থী হিন্দুরাই বর্তমানে এদেশে হিন্দুদের সম্পদ লুণ্ঠন ও নারী ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ ঢালাওভাবে করে যাচ্ছে। আমেরিকা তাদের ব্যবহার করে মোসাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে।

মার্কিনপন্থী সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা প্রেপাগান্ডা চালাচ্ছে, যা গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ অনলাইন পত্রিকাগুলোতে এসেছে ‘ধর্ষণ সরকার সমর্থকদের অধিকারে পরিণত হয়েছে’। হিন্দু মেয়ে ধর্ষণ আ’লীগের মৌলিক অধিকার: হিন্দু পরিষদ। একই তারিখে দৈনিক ভোরের কাগজে এসেছে, ‘সরকারের লোকেরাই হিন্দুদের জমি দখল করছে’। ৮ জানুয়ারি ২০১৬ বিবিসি বাংলায় এসেছে, ‘আওয়ামী এমপির বিরুদ্ধে হিন্দুদের জমি দখলের অভিযোগ’। ০৬ আগষ্ট ২০১৫ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে এসেছে, ‘হিন্দুদের ‘জমি দখলে’ মন্ত্রী-এমপিরাও’। অনলাইন পত্রিকা তাজাখবর ডটকমে এসছে, প্রবীর মিত্র বলেছে, ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের সুফল ভোগ করে আওয়ামী লীগ’। ২৩ মে ২০১৬ তারিখে দৈনিক সংগ্রামে এসেছে, সাংবাদিক সম্মেলনে মাইনরিটি পার্টির সভাপতি শচীন্দ্র লাল দে- ‘নৌকায় উঠে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’। গত ৩০ এপ্রিল ২০১৬ এশিয়ানবার্তা ২৪ ডটকমে এসেছে- রানাদাস গুপ্ত বলেছে, ‘আওয়ামী লীগ নেতার ‘নির্যাতন’ বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ল সংখ্যালঘু ৩০ পরিবার’। ০৬ মে ২০১৬ তারিখে নিউজওয়ার্ল্ড বিডি.কমে এসেছে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী বলেছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতন পাকিস্তানকেও হার মানিয়েছে’। ৭ মে ২০১৬ তারিখে দৈনিক সমকালে এসেছে, ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের অভিযোগ : সংখ্যালঘু নির্যাতনে যুক্ত আ’লীগ নেতাকর্মীরা’। এসব হলো সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের যৎসামান্য প্রোপাগান্ডা। এখনই যদি সরকার মার্কিনপন্থী উগ্র হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে দেশে আইএস’র নামে অপতৎপরতা চালিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করার যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা থেকে সরকারকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই অবিলম্বে সরকারকে মার্কিনপন্থী হিন্দু ও নাস্তিকদের কঠোরভাবে নজরদারীতে আনতে হবে এবং এদের দেশ বিরোধী অপতৎপরতা নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি হিন্দু মানেই আ’লীগ বান্ধব হিন্দু মানেই ভারতপন্থী সেই ধারণা থেকে এখনই বেরিয়ে আসতে হবে।


কাশ্মীরসহ সারা ভারতে যে অবর্ণনীয় মুসলিম নির্যাতন চলছে সরকারকে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে


বক্তারা আরো বলেন, গত কিছুদিন যাবত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনী বর্বর মুসলিম নির্যাতন করছে। অথচ কাশ্মির ভারতের অংশ নয়। সেটা জম্মু ও কাশ্মিরের হাইকোর্টের রায়। হাইকোর্ট সম্প্রতি রায়ে বলেছেন, “জম্মু ও কাশ্মির কখনোই ভারতের অংশ ছিল না এবং এখনো এর অংশ নয়।” শুধু আদালতের রায়ই নয়, ভারতের বিশিষ্ট লেখক গবেষকরাও স্বীকার করেছেন, কাশ্মীর ভারতের অংশ নয়। যেমন, ২০১০ সালের দিকে ভারতের স্পষ্টবাদী লেখিকা অরুন্ধতী রায় একই কথা বলে ছিলেন : ‘কাশ্মির ইজ নট অ্যা পার্ট অব ইন্ডিয়া।’ এই সত্য উপলব্ধির ওপর ভর করে ওই সময় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি বলেছিলেন : ‘কাশ্মির শুড গেট আজাদি ফ্রম ভুখে নাঙ্গে ইন্ডিয়া।’

বক্তারা বলেন, কাশ্মির ভারতের অংশ না হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মুসলিম অধিবাসী হওয়ায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মিরের মুসলমানদের উপর নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন চালায়। শুধু কাশ্মিরে নয়, বরং অর্ধেক জনসংখ্যা মুসলমান থাকার পরও সারা ভারতে মুসলমানদের উপর চলছে চরম বর্বরতা, নিপীড়ন ও নির্যাতন। বিভিন্ন রাজ্যে লাখ লাখ মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের উগ্র হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। মুসলমানদের হিন্দু ধর্মান্তরকরণের উদ্দেশ্যে ঘর ওয়াপসি অর্থাৎ ঘরে ফেরা নাম দিয়ে মুসলমানদের হিন্দু হতে বাধ্য করছে। নাউযুবিল্লাহ!  আসামে বাংলাভাষী প্রায় ৩ লাখ ভারতীয় মুসলমানদের দেশটি থেকে বহিষ্কারের মুখে রাখা হয়েছে। বোরকা নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে মৌলবাদী দল শিবসেনা।

কর্পোরেটগুলোতে মুসলমানদের জায়গা নেই। চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার। দাঙ্গা, গণহত্যা সব কিছুর শিকার মুসলমানরাই। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধের মতে, ২০১৩ পর্যন্ত ৪৫১টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। ২০১২ সালে দাঙ্গা হয়েছিল ৪১০টি। সাম্প্রদায়িক এসব দাঙ্গায় মুসলমানরাই মারা গিয়েছে।

বক্তারা বলেন, হাদীস শরীফে আছে “সারাবিশ্বের মুসলমানরা এক দেহ এক প্রাণের ন্যায়। দেহের এক অঙ্গ আঘাত পেলে অন্য অঙ্গেও আঘাত অনূভূত হয়”। তাই ভারতে মুসলমানদের উপর যুলুম-নির্যাতন মূলত এদেশের মুসলমানদের উপরই যুলুম-নির্যাতনের মতো। এক্ষেত্রে সরকার বসে থাকতে পারে না। ভারতে বর্তমানে চলা ধর্মান্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন দাঙ্গা বন্ধে সরকারকে ভারতের প্রতি জোড়ালো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে। ভারত যেভাবে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে বিভিন্ন সচিব, প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চায় বাংলাদেশেরও উচিত বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে কড়া বার্তা দেয়া। ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। মুসলমানদের প্রতি সরকারকে সহমর্মীতা দেখাতে হবে।

যে অর্থমন্ত্রী নিজেকে নিজে প্রতিবন্ধি বলে, সে নিজেই অব্যাহতি নেয়া উচিৎ। কৃষকের উপর কর আরোপ এবং আখ চাষ বন্ধ করণের প্রতিবন্ধী খাহেশ বাস্তবায়ন করতে দেয়া যাবেনা। পাটের মতো চিনি শিল্পকেও ঘুরে দাড়াতে সাহায্য করতে হবে।

বক্তারা বলেন, নিজেকে নিজে প্রতিবন্ধি ঘোষণা করা অর্থমন্ত্রী গত ২৪ মে বলেছে- “আখ চাষকে আমি নিরুৎসাহিত করছি এবং দেশ থেকে আখ চাষ ধীরে ধীরে উঠিয়ে দেওয়া হবে। দেশের বাজারে চিনির দাম ৪৫ টাকা কেজি। আর আমদানি করা চিনির দাম ২০-২৫ টাকা কেজি। ১৫টি চিনিকলের কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে। আখ মাড়াইয়ে সময় লাগে আট মাস, বাকি সময় কারখানাগুলো বন্ধ থাকে। চিনি নিয়ে কারও কোনো আগ্রহ নেই।” তারমানে বাংলাদেশের পুরো চিনি সেক্টরকে আমদানি নির্ভর করতে চাইছে অর্থমন্ত্রী। আর সেটা করলে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে প্রচুর চিনি, আর যত বেশি আমদানি, ততবেশি কমিশন জমবে একাউন্টে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট আখ চাষী সংখ্যা ৮ লক্ষ। এছাড়া ১৫ চিনি কলে নিয়োজিত শ্রমিক সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার। চাষীসহ পুরো শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ১৫ লক্ষ। দেশে আখ চাষ বন্ধ হলে এই ১০ লক্ষ কর্মঠ মানুষ বেকার হবে। এক জনের পরিবারে জনসংখ্যা ৫ জন করে হলে, সোজা ভাষায় ৫০ লক্ষ মানুষের পেটে লাথি মারতে বললো অর্থমন্ত্রী। সরকার বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করার পক্ষপাতি। অথচ বিদেশে থেকে যে সাদা ধবধবে চিনি আমদানি করা হচ্ছে তা মারাত্মক বিষাক্ত ও ক্ষতিকারক। যা ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণ। অপরদিকে বাংলাদেশের লালচে চিনি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

বক্তারা বলেন, উপযুক্ত অসুবিধা কাটিয়ে উঠে আধুনিক তথা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করলে এদেশে প্রতি হেক্টরে ১৩৫-১৩৬ টন আখ অনায়াসেই উৎপাদন হতে পারে (বর্তমানে হচ্ছে ১৯ টন) ৷ সে হিসেবে ০.৪৩ মিলিয়ন একর জমিতে ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টন আখ উৎপাদন করা সম্ভব। যেখান থেকে উৎপাদিত হবে ১৬ লক্ষ ৪৫ হাজার টন চিনি ( এক টন আখে হয় ০.০৭ টন চিনি)। এতে দেশের মোট চাহিদা (১৪ লক্ষ টন) তো মিটবেই, বরং বিদেশে লক্ষ লক্ষ টন চিনি রফতানি করা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, স্বাভাবিকভাবে আখ উৎপাদন বাড়লে সারা বছর ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ব্যস্ত থাকবে চিনি কলগুলো। তখন লস হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং আরো কয়েক কোটি লোকের এ সেক্টরে কর্মস্থানের ব্যবস্থা হবে। সে হিসেবে এই সংকটের জন্য অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছার অভাব। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সদিচ্ছা না দেখিয়ে উল্টো পুরো সেক্টরকে বন্ধ করে দিতে চাইছে, যা সত্যিই হতাশাজনক। দেশের অন্যতম খাদ্যশস্য ‘আখ উৎপাদন না করতে’ অর্থমন্ত্রীর ঘোষনা ন্যাক্কারজনক ও স্পষ্ট বিদেশী দালালি ছাড়া কিছু না। যে মন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারে, তার অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করাই শ্রেয়।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী ওলামা লীগের সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, আলহাজ্জ মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী, সভাপতি-বঙ্গবন্ধু ওলামা ফাউন্ডেশন। আলহাজ্জ লায়ন মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর ছিদ্দীক্ব, সভাপতি- জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি-সভাপতি বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা আব্দুল বারী, অধ্যাপক কাজী মাওলানা নোমান চৌধুরী, আলহাজ্জ হাজী মাওলানা হাবীবুল্লাহ রূপগঞ্জী, আলহাজ্জ আতাউর রহমান বঙ্গ, হাফেজ আব্দুল জলিল, ডা. সাইফুদ্দীন মিয়াজি, মাওলানা তাজুল ইসলাম, জোবায়ের হাসান নিজামী, মাওলানা আব্দুর রহিম (পীর সাহেব), ডা. মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহম্মদ শেখ শোয়াইব গোপালগঞ্জী, ক্বারী মাওলানা মুহম্মদ আসাদ প্রমূখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের এক বিরাট মিছিল করা হয়। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।

বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বাংলাদেশ, হাক্কানী আলেম সমাজ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটি, আমরা ঢাকা বাসী, বঙ্গবন্ধু ওলামা পরিষদ এর পক্ষে


আলহাজ্ব কাজী মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী

সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি