ঈদের কবিতা | ওরা তো আসবে না রোজ

 

ওরা তো আসবে না রোজ
আজাদ আহমেদ

ফিরিয়ে দিওনা ওদের
দাও সব হাতে শিরনির নামে কিছু গোস্;
তার পর যদি বেঁচে থাকে কিছু
সেটাতেই তৃপ্তিতে করো ভুরিভোজ,
ওরাতো আসবেনা রোজ !

তুমি কি জানো ?
আজ থেকে আবার এক বছর চেয়ে রবে ওরা
খাবে কবে এতটুকু গোস্
কুরবানী হয়নাতো রোজ !

ফিরিয়ে দিওনা ওদের
তুমি তো কিনে খেতে পারো রোজ,
পরে না হয় করো ভুরিভোজ;
আজ শুধু ওদেরই দাও….
ওরাতো আসবে না রোজ।

ফিরিয়ে দিওনা ওদের…
তুমি শুধু ছাত্র আজ মনিবের হলে –
নির্দয়ে করুণামুখী,
তোমার এ কুরবানী কুরবানী নয়,
দিল থেকে দিতে হবে লালসা কে ছুটি,
আজ শুধু ওদেরই দাও,
নয় তো রয়ে যাবে ত্রুটি।
ওরা তো আসবে না রোজ…
কাল না হয় করিও ভুরিভোজ।

ফিরিয়ে দিওনা ওদের…
ওরা নিতান্তই দুঃখী
তুমি কত সুখী,
তুমি দানবীর ওরা নিঃস্ব
দাও আজ পাবে কাল হাসরের মাঠে শুভখোজ
ওরা তো আসবে না রোজ।

ফিরিয়ে দিওনা ওদের…
বিবেকের মুখোমুখি একটু দাড়াও,
কোরআনের পাতায় আজি দু’চোখ বুলাও
গরু-খাসি,উঠ-ভেরা শুধুই নামে-
খাঁটি কুরবানী সেতো মনো-প্রাণে,
ভিতরের পশুটাকে কুরবানী দাও
ওদের কে আগে দিয়ে তুমি পরে নাও!
আবার একটি বছর…
ওরা তো আসবে না রোজ,
তুমি পরে করিও ভুরিভোজ।

ফিরিয়ে দিওনা ওদের…
নিজে কে চিনে দ্যাখো আজ
এটা কত গর্বিত কাজ;
তুমি হয়েছো শামিল ধনীর কাতারে
নতুন পোশাকে তুমি উল্লাসী
ওরা ক্ষুধার্ত পেটে ভূখার সাঁতারে-
ছেঁড়া জামায় মুখখানা কত ফ্যাকাসী।
শুধু আজ এসেছে তোমার দুয়ারে নিতে গোস্..
দাও হে দানবীর
ওরা তো আসবে না রোজ।
তুমি না হয় পরে করিও ভুরিভোজ।

ফিরিয়ে দিওনা ওদের…
ওরা এসেছে আজ হয়তো তোমাকেই বাঁচাতে
বিনিময়ে নেবে কিছু গোস্
কাল হাসরে তোমাকে হাসাতে
হয়তো ওরাই করছে তোমার খোঁজ,
দাও হে দানবীর
ওরা তো আসবে না রোজ।