মাওলানা মুহিউদ্দিন খান বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন: ড. আ ফ ম খালিদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনচট্টগ্রাম ওমর গণি এম.ই.এস কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মাসিক ‘আত-তাওহীদ’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মাওলানা মুহিউদ্দিন খান অনুবাদকর্মের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। আল্লামা মুফতি শফী (রহ.)-এর ৮খণ্ডের তাফসিরে মাঅারিফুল কুরআন ও ইমাম গাযালী এর ৫ খণ্ডের ইহয়াউ উলুমুদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক উর্দূ গ্রন্থ বাংলায় ভাষান্তরিত করে বাংলা ভাষার অঙ্গণকে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করে গেছেন। জাতি তাঁর এ অবদানকে কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, তিনি এমন সময় বাংলায় সাহিত্য চর্চা করেন যখন অনুবাদের ময়দানে লোক ছিল মাত্র ক’জন হাতে গোনা।

তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশে আলেমদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রতিভার সাক্ষর রেখে যারা খ্যাতির মালা পরেছেন তাদের মধ্যে মাওলানা মহিউদ্দীন খান একজন। তিনি দেশের বাইরে, আরব জাহানে, ইউরোপে এবং দূরপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এমন আলেমের সংখ্যা বাংলাদেশে হাতেগোনা। তাদের অন্যতম ছিলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান এর জীবন, কর্ম ও অবদান বিষয়ক এক আলোচনা সভা বিগত ২২ জুলাই হাটহাজারী খন্দকিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ নুরুল উলুম নুরানী মাদরাসা মিলনায়তনে মাওলানা ঈসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ড. আ ফ ম খালিদ এসব কথা বলেন।

আজিজুল হক ইসলামাবাদীঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের উপদেষ্টা সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ছিলেন এদেশের তাওহিদী জনতার অভিভাক ও মুরুব্বী এবং মনীষীদের একজন। তিনি ছিলেন, খাঁটি দেশেপ্রেমিক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, মজলুম ও নির্যাতিত অত্যাচারিতদের পক্ষে জালেমের বিরুদ্ধে আপসহীন। নাস্তিক মুরতাদ এবং ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সাহসী সিপাহসালার।

তার বলিষ্ট লেখা ও কণ্ঠের সাহসী হুঙ্কারে জনসাধারণের মাঝে দীনি জযবা ও প্রেরণার সৃষ্টি হতো। তিনি মুসলিম উম্মাহ্র যে কোন সংকটকালীন সময়ে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা ও ভারতের হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। টিপাই মুখে ভারত কর্তৃক বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লংমার্চে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আজীবন দেশিয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, নাস্তিক-মুরতাদ-খোদাদ্রোহী, ইয়াহুদি-খ্রিস্টান শক্তি, কাদিয়ানী, বাহায়ি, দেওয়ানবাগীসহ এনজিও মিশনারী আগ্রাসী অপশক্তির মুকাবিলায় আলেমসমাজ ও ইসলামী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি সর্বদা ওলামায়ে কেরামের বাস্তবসম্মত ঐক্য স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি মনে করতেন আলেম সমাজের অনৈক্যই মুসলিম উম্মাহর পতনের প্রধান কারণ। ইসলামপ্রিয় সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল কালোত্তীর্ণ। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তার সুদৃঢ় নেতৃত্ব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খন্দকিয়া ইসলামী পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুর রহীম ইসলামাবাদী, মাওলানা মঈনুদ্দিন রূহী, মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা হাফেজ মোস্তফা, মাওলানা মুহাম্মদ জামালুদ্দিন, মাওলানা আনিস বেদার। সঞ্চলানায় ছিলেন মাওলানা ইমরান।