ইভিএম নিয়ে কি ভাবছে ইসলামী দলগুলো?

ইভিএম নিয়ে কি ভাবছে ইসলামী দলগুলো?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জামিল আহমদ


অলঙ্করণ : জারাদা

ইভিএম হলো আধুনিক বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট প্রয়োগ বা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের স্বীয় মতামত প্রতিফলনের অন্যতম মাধ্যম। ভোট প্রয়োগে মেশিন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অণুসৃত হয় বিধায় সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (Electronic voting) বা ইভিএম নামে পরিচিত। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ব্যবহারের মাধ্যমে এই ইভিএম নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের জের ধরে গত কিছুদিন ধরেই এ ইস্যুতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এমন বিরাজমান পরিস্থিতিতেই আজই নির্বাচন কমিশন ইভিএম ইস্যুতে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলো। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিসনার ছাড়াও কমিশনের বাকি ৪ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে  ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করে বৈঠক থেকে বের হয়ে আসেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তবে বাকি ৩ কমিশনার ও প্রধান কমিশনারের ঐকমতে আরপিও সংশোধন বিল পাস করা হয়।

বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা ইসির নেই। কিন্তু বর্তমান কমিশনের অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদেও পুরোপুরি ইভিএমে ভোট হয়নি। এই অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সবচেয়ে বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা কেন নেয়া হচ্ছে? এসব নিয়ে কথা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে নিয়ে যখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে আমাদের সংলাপ হয় তখনই বলেছিলাম বাংলাদেশে ইভিএম ভোটিং সম্ভব নয়। আর বর্তমান সময়ে দেশের সবকটি দলও এ বিষয়ে একমত না। এরপরও নির্বাচনে সরকারী দলের পক্ষে ডিজিটাল কারচুপির নীলনকশার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন হঠাৎকরে ইভিএম তৎপরতা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো নির্বাচনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি এই কমিশন নির্বাচন। এ ছাড়া, খোদ ইভিএম উদ্ভাবনকারী দেশগুলোও এই প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের শতকরা ৯০ ভাগ দেশে ই-ভোটিং পদ্ধতি নেই। যে কয়েকটি দেশ এটি চালু করেছিল, তারাও ইতোমধ্যে তা নিষিদ্ধ করেছে। ভারতের মতো রাষ্ট্রেও তারা চায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইভিএম বাতিল করে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচনের পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া হোক।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, দেশের জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকা সমূহে দেখেছি যে, আজ  বৈঠকে আরপিও সংশোধনে আপত্তি জানিয়ে সভা বর্জন করেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে স্বয়ং ইসির কমিশনারও ইভিএমের ব্যাপারে একমত নন।

তিনি বলেন, আর ইভিএম পদ্ধতি যেখানেই প্রয়োগ করা হয়েছে সেখানেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সাম্প্রতি সময় সিটি নির্বাচনগুলোত্রে ইভিএম পদ্ধতি সফল হয়নি। ক্ষমতাসীন সরকারের দল ব্যতীত অন্যান্য কোন দলই ইভিএমের পক্ষে না কারণ সবাই জানে এর দ্বারা ভোটে আরো বেশী কারচুপি হয়।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ইসি’র দুরভিসন্ধীমূলক উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাই। নির্বাচন কমিশন কোন ফায়দা লাভের জন্যই তারা ইভিএম ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে ইভিএম ব্যবহার করা উচিত না। আর বর্তমান যে অসচ্ছ ও পক্ষপাত্তিত নির্বাচন কমিশন তাদের কোনদিন ইভিএম ব্যবহার করা উচিত নয়। আর এই সময়ে এসে ইভিএম ব্যবহার দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। যেখানে অধিকাংশ দলই ইভিএমের বিপক্ষে এরপর ইসি যে তার অনুমোদন দিয়েছে তা ভাবনার বিষয়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করে না, কারণ এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।