হাটহাজারীতে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিলটি যে কারণে তাত্‍পর্যবহুল

হাটহাজারীতে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিলটি যে কারণে তাত্‍পর্যবহুল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক


মাসউদুর রহমান চৌধুরী

শুক্রবার হাটহাজারীতে নাস্তিক আসাদ নুরের মুক্তির ইস্যুতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ ধরণের মিছিল অতীতে আরো অনেক হলেও এটির তাত্‍পর্য অনেক গভীর। নাস্তিক আসাদ নুরকে কোন প্রকার শাস্তি ছাড়া রাতের আঁধারে মুক্তি দেওয়া হল। কিন্তু কারো কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি। এমন কি, যে হেফাজতে ইসলামের উত্থানের নেপথ্যে এই নাস্তিক বিরোধী আন্দোলন মৌলিক, সে হেফাজতে ইসলামও সম্পূর্ণ নিরব। তথাপি টিএসসি চত্ত্বরে আসাদ নুর বিদ্রোপাত্মক বেশ কিছু কথাবার্তা বলে। যা সে ফেসবুক লাইভে প্রচার করে। এতকিছুর পরেও সবাই চুপ মেরে বসে আছে। যদিও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা অধিকাংশই হজ্বের সফরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবুও চাইলে ডাক দেয়ার মতো ব্যক্তি দেশে রয়েছে।

কিন্তু দুনিয়া নিরব থাকলেও তো তারুণ্য কখনো নিশ্চল থাকতে পারে না। রাসুল প্রেমে মজ্জিত তারুণদের রক্ত টগবগ করতে থাকে। তারা কিছু একটা করবেই। পরে হাটহাজারীর কিছু ইসলামী তরুণ যাদের মধ্যে মাদরাসা পড়ুয়া। এ ছাড়াও বিভিন্ন কলেজ-ভার্সিটির ছাত্র এখানে যুক্ত ছিল।

সকলে মিলে পরামর্শ করে তারা বিষয়টি আমীরে হেফাজতের সামনে উপস্থাপন করবে। কিন্তু আমীরে হেফাজত এ মুহূর্তে তাঁর গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়াতে অবস্থান করছেন। অদম্য এ দল সিদ্ধান্ত নেয় প্রয়োজনে তারা সেখানে যাবে। এ ব্যপারে কিছু মুরুব্বীর সাথে আলাপ করা হলে তারা নিজে যেতে অপারগতা প্রকাশ তো করেই, উপরন্তু তরুণদের অনুত্‍সাহিতও করে। কিন্তু সংঘবদ্ধ প্রতিজ্ঞাপণ তরুণ কাফেলা তো যাবেই; তাদের রোখে কে?! অবশেষে তারাই একটি গাড়ি নিয়ে এগারো জনের একটি দল আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের গ্রামের বাড়িরাঙ্গুনিয়া গিয়ে হাজির হয়।

আহমদ শফী সাহেব হাটহাজারী থেকে আগত এতগুলো যুবককে দেখে অত্যন্ত অভিভূত হন। তিনি তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং যথার্থ আপ্যায়ন করেন। পরে সকলে অত্যন্ত শিষ্টতার সাথে আমীরে হেফাজতের সামনে বিষয়টি তোলে ধরে এবং আসাদ নুরের গোস্তাখির বেশকিছু ভিডিও তাঁকে দেখান। আমীরে হেফাজত সবকিছু দেখে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে উঠেন।

আমীরে হেফাজত বলেন, ‘সে আমার রাসুল-কোরআন নিয়ে এতবড় স্পর্ধা দেখাল, তোরা এখনো বসে আছিস?! তোরা কি মুসলমান না? সরকার তাকে ছাড়ল কেন? তোরা এবার কিছু একটা কর। আমি তো অসুস্থ হয়ে গেছি। এক রুম থেকে অন্য রুমেও যেতে পারি না। নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আমি শাপলা চত্ত্বর পর্যন্ত গিয়ে দেখিয়েছি। এখন তো শরীরে কুলায় না। তোরা দেখি এবার কিছু একটা কর।’

যুবকরা সবিনয়ে বলে, হুজুর আমরা সবই করতে রাজি আছি। আপনি শুধু আমাদের সাহস ও দোয়া দেন। তারপর আহমদ শফী সাহেব সবাইকে জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের কাছে যেতে বলেন এবং এছাড়াও আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, তোমরা তাদের সাথে পরামর্শ করে যা করার করো।

তারপর সেই এগারোজন যুবক পরের দিন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগারীর সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি তাদের সমর্থন ও সাহস দেয়ার পাশাপাশি বেশকিছু দিকনির্দেশনা দেন। যার ফলে অত্যন্ত সফলতার সাথে বাস্তবায়িত হয় আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল।

এটি হয়তো ঝিমিয়ে পড়া হেফাজতের আবার জেগে উঠা। যার মূল অবদানে রয়েছে অখ্যাত, অপরিচিত কিছু যুবক। যাদের মনে কোন চাওয়া নেই, স্বার্থ নেই, লোভ নেই; যারা কোন পদের আশা করে না, খ্যাতির অভিলাষ দেখায় না। আজ তাদের হাত ধরেই জেগে উঠল হেফাজত।
এ যেন নজরুলের সে প্রশ্নের অবসান –
ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত!

ফেসবুক থেকে