হজ্ব পরবর্তী জীবন কেমন হওয়া উচিত

মুফতী মুহাম্মাদ শোয়েব | অনুবাদ: সামীউর রহমান শামীম


হজ্ব পালন শেষে যখন আমরা নীড়ে ফিরি তখন একেবারে নিষ্কলুষ হয়ে ফিরি, আমাদের পাপগুলোকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে হজ্ব পালন করলো, তাতে অশ্লীল ও গুনাহর কথা ও কর্ম থেকে বিরত থাকলো, সে ব্যক্তি মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন যেমন নিষ্পাপ ছিল, তেমন নিষ্পাপ হয়ে গেলো।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)। তিনি আরও বলেছেন, ‘হজ্জ্বে মাবরুরের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)। এখন হাজ্বি সাহেবরা নতুন এক জীবনের সূচনায়।

এখন হজ্বের পর আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তিনি তাঁর দয়া ও করুণার দ্বারা আমাদের এতো বড় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

হজ্ব পালন করে পুণ্যভূমি থেকে ফিরে আমাদের দিল ও দিমাগ সদা আল্লাহ তাআলার স্মরণে রত থাকতে হবে। কেননা তিনি বলেছেন, ‘তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজ্বের কার্যাদি সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যেমন তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের স্মরণ করতে; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করো…।’ (সূরা বাকারা, ২০০)।

আমাদের সকল প্রকারের মন্দ ও অশ্লীল কাজ ত্যাগ করতে হবে, বিশেষ করে আল্লাহ হজ্বের পুরস্কার হিসেবে আমাদের সব গুনাহ মুছে দিয়েছেন, এরপর থেকে তো বটেই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এক উমরা আরেক উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হয়। আর হজ্জ্বে মাবরুরের প্রতিদান তো হলো জান্নাত।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল্লাহর দেয়া বিধান হজ্ব পালনের পর, আমাদের ওয়াক্ত অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করতে হবে। ছোট-বড় সব প্রকারের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহর হুকুম মতো প্রতিটি কাজ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (তরজমা) ‘‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে মান্য করবে, সে আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্তদের সঙ্গী হবে, যাদের মধ্যে রয়েছে নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্ম পরায়ণ ব্যক্তিরা। আর তাদের সান্নিধ্যই হলো উত্তম।’’ (সূরা নিসা, ৬৯)

আল্লাহর পথে আসার পর বিচ্যুত হয়ে যাওয়া ভয়ানক বিষয়। আল্লাহ তাআলা তা আমাদের ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, (তরজমা) ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ কি কামনা করে, তার খেজুর ও আঙুরের এমন একটি বাগান থাকবে, যার নিচে নদী প্রবাহিত। সেখানে থাকবে সব ধরণের ফল-ফলাদি, আর বার্ধক্য তাকে আক্রান্ত করবে এবং তার হবে দুর্বল সন্তান-সন্ততি। অতঃপর বাগানটি আগুনের ঘূর্ণিঝড়ে জ্বলে গেল? এই জন্যে আল্লাহ তাঁর আয়াতগুলো বিশদে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ফিকির করো।’’ (সূরা বাকারা, ২৬৬)।

এই আয়াতে তাদের উদাহরণ দেয়া হয়েছে, যারা নেক কাজ করেছে, কিন্তু তারপর সৎপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে৷ আমরা মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবন আব্বাস রা. বলেন, ‘‘এটা এক ধনী লোকের উদাহরণ। সে আল্লাহর অনুগত ছিল। অনেক ভালো কাজ করেছে৷ তারপর শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে সব ভালো কাজ নষ্ট করে ফেলেছে।’’ (সহিহ বুখারি)।

এটা জানা থাকা দরকার যে, আল্লাহর নিকট যে হজ্ব কবুল হয়েছে, তার কিছু বৈশিষ্ট্য বা নিদর্শন রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো, ন্যায়পরায়ণতা ও আল্লাহর অনুগত থাকা। অতঃপর আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আগের চেয়ে দৃঢ় হওয়া। হজ্বের পর যদি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আগের চেয়ে মজবুত হয়, তবে বুঝতে হবে হজ্ব বা উমরা আল্লাহর নিকট কবুল হয়েছে।

আমরা যখন হজ্ব শেষ করি, তখন এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, হজ্ব মুসলিমদের জন্যে প্রশিক্ষণ, আল্লাহর আনুগত্য করার, তাঁর আদেশ মেনে চলার ও তাঁর নিষিদ্ধ জিনিস ও কাজ থেকে বিরত থাকার এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী চলার। এটি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে নয়; বরং যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিনের জন্যে।


-ডেইলি সান