সন্ত্রাস আর মানুষ হত্যা সভ্য সমাজের চরিত্র হতে পারে না: আল্লামা কাসেমী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর’র আহবায়ক আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেছেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, মানুষ হত্যা ইসলাম সমর্থন করে না। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার সমাজের সন্ত্রাশ, নৈরাজ্য, ডাকাতি ও লুটতরাজ এবং মানুষ হত্যার মত নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম কাজ একটি স্বাধীন দেশে অহরহ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না।

আজ বুধবার বিকেলে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর অস্থায়ী কার্যালয় বারিধারায় এক জরুরী পরামর্শ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ জান-মালের নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের অসহায়ত্ববোধ করছে। আশ্রয় এর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মী ও কুটি কুটি সমর্থকদের চুপ করে বসে থাকার আর সুযোগ নেই। দেশের সন্ত্রাস আর নৈরাজ্যের সয়লাবকে প্রতিহত করার জন্য উলামা-মাশায়েখদের পূর্বের ন্যায় ময়দানে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, তৌহিদী জনতার আস্থা ও ঐক্যের প্রতিক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী কর্তৃক ঘোষিত আগামী ২৯ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে সন্ত্রাশ-নৈরাজ্য আর মানুষ হত্যার প্রতিবাদে মিছিল ও সমাবেশকে সফল করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি অংশ গ্রহণের উদাত্ত আহবান জানান।

ecde8f8108bআল্লামা কাসেমী বলেন, গুলশানের ঘটনা থেকে এ বিষয়টি জাতির সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে, ইসলামী শিক্ষিত মাদরাসার ছাত্ররা এ সব সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সাথে জড়িত নয়, বরং কতিপয় উচ্চ শিক্ষিত বিত্তশালীদের সন্তানরা এ সবের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, যে শিক্ষা সিলেবাস শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য দূর্নীতি আর মানুষ হত্যার দিকে ধাবিত করে, সেই শিক্ষা সিলেবাস ইসলামীকরণ ব্যতীত এই মুসলিম দেশে অন্য কোনো শিক্ষা নীতি চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না। অবিলম্বে ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে এবং সবধরণের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ জুলুম, নির্জাতন আর সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ দেখতে চায়। অন্যের উপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি পরিহার করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী, মুফতী ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতী ছাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা শরীফুল্লাহ ও মাওলানা হাবীবুল্লাহ ইসলামপুরী প্রমুখ।