আসলেই কি ইমরান খান পাকিস্তানে কুর’আন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছেন?

আসলেই কি ইমরান খান পাকিস্তানে কুর’আন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছেন?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম  মাহিরজান 


গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানে নতুন সরকার সে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুরআনুল কারিমের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশের অনলাইন মিডিয়ায়।

শুরুতে বিষয়টি শুধুমাত্র ফেসবুকে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে বেশ কিছু অনলাইন পত্রিকাও এবিষয়ে খবর প্রকাশ করে।

বাস্তবতা হচ্ছে ২০১৬ সালেই পাকিস্তানে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পবিত্র কুরআনুল কারিমের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে নওয়াজ শরীফ সরকার। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মুহাম্মাদ বালিগুর রহমানের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম তখন খবরটি প্রকাশ করে। পাকিস্তানে ২০১৬ সালের আগে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কুরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল, যেটি বাড়িয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়।

অলঙ্করণ : জারাদা

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এটিকে বাড়িয়ে আইন পাশ করা হয়। ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ডন জানায়, কুরআন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে ‘পবিত্র কোরআন আইন ২০১৭’ নামে একটি আইন অনুমোদন করেছে পাকিস্তানের  জাতীয় পরিষদ।

এই আইনটি পাকিস্তানের সকল সরকারী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এই আইনটি শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য বলেও জানায় ডন।

ডনের ঐ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নতুন বিলের অধীনে, প্রথম শ্রেণী থেকে  পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কুরআন নাজরাহ পড়ানো হবে, এবং পরবর্তীতে পবিত্র কুরআনকে তরজমাসহ পড়ানো হবে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত।

কোরআনের পাঁচ শতাংশ শেখানো হবে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে, ৯% ৭ম, ১২% ৮ম, ১৭% ৯ম, ২৫% ১০ম, আর প্রথম বর্ষ এবং দ্বিতীয় বর্ষে যথাক্রমে ১৫% এবং ১৭% শেখানো হবে। এছাড়া, প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে মদীনাতে নাজিল হওয়া সূরাহ পড়ানো হবে।

উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, “মহান আল্লাহর বাণী বুঝতে হবে; এই সমাজকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, শান্তি নিশ্চিত করতে হবে; সত্য, সততা, চরিত্রের গঠন, সহনশীলতা, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনধারার পথ বোঝার সর্বোচ্চ মানব মূল্যবোধকে প্রচার করতে হবে। এটি বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তার সমাপ্তি ঘটিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মঙ্গলজনক বার্তা ছড়িয়ে দিবে।”

সেখানে আরও বলা হয়েছে, “এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে। বই এবং শিক্ষকদের জন্য কোন অতিরিক্ত খরচ হবে না, কেননা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই এমন শিক্ষক আছেন যারা সহজেই অনুবাদসহ কুরআন শিক্ষা দিতে পারেন।”

ডনে প্রকাশিত প্রতিবেদন

অর্থাৎ, পাকিস্তানে ২০১৭ থেকেই পবিত্র কুরআনুল কারিমের শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে আইন পাশ করা হয়। যেটি বাংলাদেশের মূল ধারার মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন গুরুত্ব না পেলেও এক বছরের বেশী সময় পরে এসে আলোচনায় আসে। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, আইনটি পাশ করে তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার, কিন্তু বাংলাদেশে প্রচার হচ্ছে এটি ইমরান খান করেছেন, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।

এছাড়াও গত ২০ মে পাকিস্তানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আযান সম্প্রচার না করলে টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির উচ্চ আদালত। এটিও ইমরান খান সরকার গঠনের বেশ আগের খবর। এটিকেও ইমরান খান সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করছেন আমাদের দেশের সোশ্যাল মিডিয়ার লোকজন।