মাওলানা ফজলুর রহমান কি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন?

মাওলানা ফজলুর রহমান কি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম  মাহিরজান 


আজ পাকিস্তানের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন প্রার্থী। ক্ষমতাসীন তেহরিকে ইনসাফ পার্টির আরিফ আলভি,  মুত্তাহিদা মজলিশে আ’মাল-এর প্রধান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর মাওলানা ফজলুর রহমান এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির  এ’জাজ আহসান।

সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। এতে ভোট দেবেন পাকিস্তানের সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং প্রাদেশিক পরিষদগুলোর ১,১০০ সদস্য।

ক্ষমতাসীন দল তেহরিকে ইনসাফ একেক প্রার্থী দিতে পারলেও বিরোধী দলগুলো একেক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়নি।  মুত্তাহিদা মজলিশে আ’মাল (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম(এফ), সুন্নিদের দল জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তান, জামায়াতে ইসলামী, শিয়াদের দল তেহরিক-ই-জাফরিয়্যাহ, জমিয়তে আহলে হাদিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম- মাওলানা সামিউর রহমান।) ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মাওলানা ফজলুর রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু  নিজেদের আলাদা প্রার্থী দেয় পাকিস্তান পিপলস পার্টি-পিপিপি।

পিপিপির কার্যকরী প্রধান আসিফ আলী জারদারী বিরোধী দলগুলোর একে প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়ান। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিগত মুসলিম লীগ সরকারের সাথে জারদারীর দূরত্ব।

অলঙ্করণ : জারাদা

এর আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময়ও মুসলিম লীগ ও পিপিপি একমত হতে না পারায় ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান। বিরোধী পক্ষের প্রার্থী ছিলেন নওয়াজ শরীফের ভাই বর্তমান মুসলিম লীগ প্রধান শাহবাজ শরীফ। কিন্তু জারদারী শাহবাজ শরীফের বিষয় একমত না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান ইমরান খান।

মুসলিম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দিলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জমিয়তের মাওলানা ফজলুর রহমানকে সমর্থন দেয়।  অর্থাৎ মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে কিছুটা ছাড় দিয়ে তৃতীয় পক্ষের একজনকে সমর্থন দেয়া হয়। কিন্তু পিপিপি এই ক্ষেত্রেও ছাড় দিতে নারাজ। আসিফ আলী জারদারী নিজের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এ’জাজ আহসান নাম ঘোষণা করেন।

ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মত আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও বিরোধী পক্ষ একমত না হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত।

মাওলানা ফজলুর রহমান নির্বাচিত হলে পাকিস্তান প্রথম কোন আলেম রাষ্ট্রপতি পাবে। ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পাকিস্তানে ইতিপূর্বে আলেমদের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতি ছিলেন না।

মাওলানা ফজলুর রহমান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি। তিনি মুফতী মাহমুদ খানের পুত্র। মাওলানা ফজলুর রহমান ১৯৮৮ সাল থেকে পাকিস্তানের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এছাড়াও তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন।