আমি অসুস্থ, বারবার আসতে পারব না, যা ইচ্ছা সাজা দেন : আদালতে খালেদা জিয়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করে আদালতে বিচারকদের উদ্দেশ করে বলেছেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিন। ন্যায়বিচার বলে কিছু নাই। আমার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।

আজ ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় তিনি এসব কথা বলেন।

আদালতের বিচারক ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। বেলা ১১টার দিকে তিনি আদালতে আসেন। ১২টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগারের নিজ কক্ষ থেকে হুইল চেয়ারে করে আদালতের এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

খালেদা জিয়া | অলঙ্করণ : জারাদা

পরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারককে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আমার পা ফুলে গেছে। ডাক্তার বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। এখানে আমি আদালতে বারবার আসতে পারবো না।  আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিন। ন্যায়বিচার বলে কিছু নাই। আমার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখানে বিচার পাওয়া যাবে না। তাকে জেলে রাখতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তার আইনজীবীদের আসতে দেয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়।  এর পর থেকে অসুস্থতার কারণে তাকে এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির করা যায়নি। তার অসুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কারাগারে আদালত বসানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি যথাযথভাবে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াকে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে আধা ঘণ্টারও কম সময় আদালতের কার্যক্রম চলার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা না থাকায় শুনানি মুলতবি করে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করে দেন ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কারাগারে স্থাপিত  বিশেষ আদালতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তার আইনজীবী সানাউলাহ মিয়া  বলেন, আদালত থেকে আমাদেরকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। ওইখানে আদালত বসবে কিনা, আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত না।