কারাগারে আদালত বসানোর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনি নোটিশ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে অস্থায়ী আদালত বসিয়ে  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে সরকার কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপন ৩ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।

আজ ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী নওশাদ জমির রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সচিব বরাবরে ওই নোটিশ পাঠান।

আইনি নোটিশে ওই প্রজ্ঞাপন ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাতিল করে আগের স্থানে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন মাঠে বিচারের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশে আরো বলা হয়, আইন সচিবকে এই আইনি নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আইনজীবী নওশাদ জমির জানান, সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হবেন। যেহেতু কারাগারের অভ্যন্তরে বিচার হচ্ছে, তাই একে প্রকাশ্য আদালত বলা যাচ্ছে না, যা একটি রুদ্ধ বিচারের মতোই।

তিনি বলেন, ৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(২) অনুসারে সরকার চাইলে বিভিন্ন জায়গায় আদালত বসাতে নির্দেশ দিতে পারে এবং ৪ (১) অনুসারে কোথায় আদালত বসতে পারে, তা বলা আছে। তবে কারাগারের অভ্যন্তরে আদালত বসানো ওই বিধানের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কারাগারে বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসার ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। সে জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ জজ আদালত-৫ নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এর প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন বিশেষ মামলা নং ১৮/২০১৭ এর বিচার কার্যক্রম পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নং ৭ এর অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হইবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।