কারাগারে গঠিত আদালত সংবিধান অনুযায়ী নয় : আইনজীবী সমিতি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ সমাপ্ত করতে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত সংবিধান অনুযায়ী ও আইন মোতাবেক উন্মুক্ত নয় বলে জানিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আজ ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫ (৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুযায়ী একটি উন্মুক্ত আদালতের কথা বলা হয়েছে। সেখান সাধারণতো জনসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকে। কিন্তু কারাগারের ৭ নম্বর কক্ষকে যে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তা সে অনুযায়ী কোনো উন্মুক্ত আদালত নয়।

জয়নুল আবেদীন বলেন, কারাগারের ভিতরে স্থাপিত আদালতটি মোটেই উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় এবং সেখানে জনসাধারণের প্রবেশাধিকারে কোনো সুযোগ না থাকায় এরূপ বেআইনি আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোনো সুযোগ নেই।

জয়নুল আবেদীন বলেন, জাতীয় পার্টির হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিচারকার্য ওই আদালতেই চলছে। এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোনও কারণ দেখিয়ে ঐ সকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্যে তো কারাগারের ভিতরে কোনও আদালত স্থাপন করা হয়নি। কিন্তু তাদের ব্যাপারে তো কোনো নিরাপত্তার অযুহাত দেখানো হয়নি। তাছাড়া ঢাকা জজ কোর্ট এলাকা অত্যন্ত জনবহুল এবং সেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিচারকার্য চলে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মামলার শুনানির জন্য এ কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে। বিকালে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়।  গেজেটে বলা হয়, বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন মাঠে নির্মিত এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। সে জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ জজ আদালত-৫ নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হল।

বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন বিশেষ মামলা নম্বর ১৮/২০১৭-এর বিচার কার্যক্রম পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ৭-এর অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। এর পর বুধবার ওই আদালতে বিচার কাজও শুরু হয়।