মার্চ ২৩, ২০১৭

ইসলামের বিশুদ্ধ শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনেই সন্ত্রাসবাদের সমাধান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

aa81e8af-b567-4ab4-8dcd-f6bdd6ada4bcইসলামী মূল্যবোধহীন জাতীয় শিক্ষানীতি আইন ও সিলেবাস বাতিলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্র ঘোষিত থানায় থানায় মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩ ঘটিকা থেকে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ বাদামতলী ও ওয়াসা মোড়ে চট্টগ্রাম মহানগরের থানাসমূহের সম্মিলিত মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, শান্তিকামী কল্যাণকামী এবং মানবতার ধর্ম। জাতিসংঘ পরিচালিত ইউনোস্কোর উদ্যোগে ছয় মাসব্যাপী এক গবেষণাশেষে সর্বসম্মতভাবে ইসলামে শান্তির ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের পুলিশ প্রধান, স্বরাষ্টমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী সাবেহরাও বলছেন, মাদরাসায় জঙ্গি তৈরি হয় না। অতএব একথা আজ প্রমাণিত ইসলামের বিশুদ্ধ শিক্ষায় চরমপন্থা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ধর্মের নামে জোর-জবরদস্তির কোনো স্থান নেই। কাজেই সন্ত্রাসবাদের যথাযথ মূলোৎপাঠন করতে হলে শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামের বিশুদ্ধ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে, কুরআন-সুন্নাহের যথাযথ জ্ঞানে শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশ জাতি এবং মুসলিম উম্মাহ আজ গভীর ষড়যন্ত্রের স্বীকার উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন নেতা আরও বলেন, শুধু খুতবা দিয়েই এসব চক্রান্তের মোকাবেলা সম্ভব নয়। ইমাম-খতীবগণ নিঃস্বার্থভাবে দেশ-জাতির কল্যাণে সর্বদা খুতবা দিয়ে এসেছেন। বলেছেন, মদ খেয়ো না, এটা গোনাহের কাজ, হারাম, আল্লাহ-রাসূল নিষেধ করেছেন, এর পরিণতি জাহান্নামের আগুন। তখন একদল লোক ব্লগে আল্লাহ-রাসূলকে অস্বীকার করেছে, মাওলানা সাহেবদের নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছে, ধর্মের বিরুদ্ধে তরুণ-যুবকদের উস্কিয়েছে। এই ধরনের নাস্তিক্যবাদী অপতৎপরতার কারণে যেসব তরুণ-যুবক আল্লাহ-রাসূল, ওলামা ও ধর্মবিমুখ হয়ে বিপথগামী হয়ছিল তারাই কালক্রমে সন্ত্রাসবাদী বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে, তারাই নিষ্ঠুর নির্মমভাবে মানুষ হত্যার উৎসবে মেতেছে এবং তারাই শান্তির ধর্ম ইসলামকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বদনাম করানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

বিশেষ অতিথি নগর সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন বলেন, ইমাম-খতীবদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, সরকার দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই ইমাম-খতীবদেরকে বানানো খুতবা পাঠে বাধ্য করছে। কিছু লোক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার নামে সরকারের তোষামুদিতে লিপ্ত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি ইমাম-খতীবদেরকে খুতবা পাঠে বাধ্য করে সরকারের নৈকট্য লাভে তৎপর দাবি করে তিনি বলেন, ইমাম-খতীবদেরকে এমন অবমাননাকরভাবে ভুল-ত্রুটিপূর্ণ খুতবাপাঠে বাধ্য করায় তা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হবে। সরকার ও ইমাম-খতীবদের ভুল-বুঝাবুঝির সৃষ্টি করছে।

থানা সভাপতিবৃন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আলহাজ মুহাম্মদ আবুল কাশেম মাতব্বর, আলহাজ মুহাম্মদ নুরুল ইসলামমাওলানা সানাউল্লাহ নুরী, মু. সগির আহমদ চৌধুরী, মাওলানা তরীকুল ইসলাম সরকার, মুফতী মুহাম্মদ ইবরাহীম, মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম শহীন, কামাল হোসাইন খান, আবদুল করীম খান, মাওলানা শেখ মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এইচএম মিজানুর রহমান, আলহাজ একেএম মহিউদ্দীন, অ্যাডভোকেট হাজী কেবিএম বদরুল কামাল, আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ায়েজ হোসাইন ভুঁইয়া, ডা. মুহাম্মদ ফরিদ খান, আজিজুল করীম, অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল আলম, আলহাজ মুহাম্মদ আলী আকবর প্রমুখ।