ভারতে বৈধতা পেলো সমকামিতা; বাংলাদেশে কি কোন প্রভাব পড়বে?

ভারতে বৈধতা পেলো সমকামিতা; বাংলাদেশে কি কোন প্রভাব পড়বে?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জামিল আহমদ


আজ ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ ব্রিটিশ আমলের ফৌজদারি আইনের একটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে সমকামিতা আর অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছেন। কিছু সংখ্যক বিকৃত রুচির মানুষ এই রায়কে স্বাগত জানালেও অনেকেই এর সমালোচনা করছেন। এর আগে ভারতে সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করা হতো। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী যদি একই লিঙ্গের মানুষ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতো, আর সেই সঙ্গে জরিমানাও হতো।

ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী। বাংলাদেশের তিন দিকে রয়েছে ভারতের সীমান্ত। স্বাভাবিক ভাবে ভারতে সংগঠিত প্রায় সকল কার্যক্রমেই বাংলাদেশে প্রভাব ফেলে। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত বৃহৎ রাষ্ট্র হওয়ায় অনান্য অনেক দেশেই ভারতের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। সাম্প্রতিককালে ভারতীয় আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন তার বড় প্রমাণ।

ভারতে এধরণের বিকৃত রুচির যৌনাচারকে আইনি বৈধতা দেয়ায় প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের ওপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা, বাংলাদেশের এক্ষেত্রে কি করণীয় আছে, তা নিয়ে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপ হয় শিক্ষাবিদ ঢাকা সিটি কলেজের ব্যবস্থপনা বিভাগের অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল অালম ও রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তক মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরীর সাথে। আলাপ করেছেন ইনসাফের নিউজরুম এডিটর জামিল আহমদ।

অলঙ্করণ : জারাদা

অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম বলেন, পাশ হওয়া এই আইন মানবিক ও প্রাকৃতি পরিপন্থী। প্রথমত যদি শুধু মানবিকতার দিক চিন্তা করে বলি তাহলে রুল অফ ন্যাচার বা প্রাকৃতিক বিষয়গুলোর পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত মানব সভ্যতা বিকাশের যে চলমান সাধারণ ধারা তার বিপরীত এই আইন। এতে সাধারণভাবে মানব সভ্যতার বিকাশে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এই আইন এক দিকে প্রকৃতি বিরুদ্ধ অন্যদিকে মানব সভ্যতার স্বাভাবিক বিকাশ বিরুদ্ধ। যদি ধর্মীয় ভাবে বলি তাহলে এই বিকৃত রুচির সমকামিতা কোন ধর্মেও সমর্থন করেনা।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক সভ্যতার ধ্বংস হয়েছে এই নোংরামীর কারণেই। এই নোংরামীটা যেসব জায়গা শুরু হয়েছে সেসব জায়গা দুরারোগ্য ব্যাধিও মহামারি আকারে দেখাও দিয়েছে। আর এইডসের প্রধানতম কারণও এটাই এবং সেটা সর্বজন স্বীকৃত। এসব দিক বিবেচনা করলে এসব নোংরামী কোন সুস্থ বিবেক তা গ্রহণ করতে বা মানতে পারেনা।

অধ্যাপক মিনহাজ বলেন, আইনজ্ঞদের মতে, আইনের বেশ কিছু উৎস আছে, এরমধ্যে উচ্চতর আদালতের রায় হলো একটি বড় উৎস। বিশ্বের যেকোন দেশে আদালতে যখন বড়/নতুন কোন মামলা আসে তখন বিচারক দেখেন এই মামলার রায় আগে অন্যকোন দেশে হয়েছে কিনা? যদি এরকম মামলার রায় অন্যকোন দেশে হয় তাহলে সেটা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অনুরূপ বিষয় নিয়ে যদি বাংলাদেশের কেউ আদালতে যান তাহলে তারা ভারতের বিকৃত রুচির এই আইনকে দলিল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালাবে। আমাদের উচিত জনমত তৈরী করা অর্থ্যাৎ এর জনসচেতা তৈরীর লক্ষ্যে এর সামাজিক ক্ষতি, মানবিক ক্ষতি ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ এগুলো সমাজের মানুষকে জানানো।

রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তক মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী বলেন, নারী ‍নির্যাতন, গণধর্ষণ, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান দ্বারা প্রমাণিত যে, ভারত একটি যৌনচারী সমাজ। এখন সমকামিতার আইন পাশ হওয়ায় তাদের যৌনচারিতায় তারা আরো একধাপ এগিয়ে গেল। আর যেকোন বাড়াবাড়ি ফলাফল খুবই খারাপ পরিণতি হয়। ভারতের এই আইন পাশ করে তারাও বাড়াবাড়ি করেছে, এর দ্বারা ভারতে ইসলামের মুখ উজ্জল হয়েছে। ভারতের সমাজে এতো পরিমাণে অপসংস্কৃতি তা আজ আরো ভালভাবে প্রকাশ পেয়েছে, এতে তাদের যৌনচারিতার মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। এরই মাধ্যমেই ভারতে ইসলাম বিজয়ের এক অভূতপূর্ব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একটি জাতি ধ্বংস হয় তাদের নীতি নৈতিকতার মাধ্যমেই । আর যেহেতু তাদের নৈতিকতার অধঃপতন শুরু হয়ে গেছে। আর এই নৈতিক অধঃপতন তাদের জন্য ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে এবং ইসলাম বিজয়ের দিকে ত্বরান্নিত হবে।  এই আইনটি বিজ্ঞান সম্মত তো নয়ই বরং বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। বিজ্ঞানের দিকে দিয়েও এটি নিন্দনীয়, প্রাকৃতিকভাবেও এটি অনেক ক্ষতির দিক রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি সমাজ আছে, যারা নাস্তিক সেকুল্যার ও মুক্তমনা তারা সমকামিতাকে প্রমোট করতে চায় যেহেতু তারা এই আইন পাশে প্রভাবিত ও উদ্দীপ্ত হতে পারে। এবং এই আইনে পাশে যদি তারা কোন উৎসাহের কোন উপাদান খুজে পায় তাহলে আমরা তাদের চ্যালেঞ্জ করব। বাংলাদেশে এসব বাস্তবায়ন তো দূরের কথা। তারা যদি এধরনের কোন শ্লোগান উঠে তাহলে ইসলাম প্রিয় তাওহিদী জনতা তা কঠিনভাবে প্রতহিত করবে।