ইমরান খানের কাদিয়ানী উপদেষ্টা!

ইমরান খানের কাদিয়ানী উপদেষ্টা!

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম  মাহিরজান 


নয়া পাকিস্তানের ডাক দিয়ে দেশটিতে সরকার গঠন করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। গত ২৫ জুলাই জাতীয় নির্বাচনে মোটামুটি সরকার গঠনের মত আসন পেয়েছিলেন ইনরান খান। পরবর্তীতে পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৮ আগস্ট শপথ নেন তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির প্রধান।

ক্রিকেটের ময়দান থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা ইমরান খান শুরু থেকেই নতুন পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন জনগণকে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে না থাকা, বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রি করে দেয়া, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রহণ না করা ইত্যাদি।

বরাবরের মত ইমরান খানকে সৌভাগ্যের বরপুত্র বলা হয়। এবারও নিজেকে সৌভাগ্যবান হিসবেই প্রমাণ করেছেন তিনি। বিরোধী দলগুলো একমত হলে ইমরান খানের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব ছিলনা। কিন্তু বিরোধী পক্ষ একমত হতে পারেনি বলে তিনি হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সৌভাগ্য তাকে সঙ্গ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও যদি বিরোধী পক্ষগুলো একমত হতো, তাহলে ইমরান খানের দল নিজেদের থেকে রাষ্ট্রপতি পেতো না। কিন্তু সৌভাগ্যবান ইমরান খান এখানেও সৌভাগ্যের দেখা পেলেন। বিরোধী দলগুলো একমত হতে না পেরে একাধিক প্রার্থী দেয়ায় ইমরানের প্রার্থী আরিফ আলভী হয়ে গেলেন রাষ্ট্রপতি।

ইমরান খান নতুন করে আবার আলোচনায় আসেন তার উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য নিয়ে। ক্রিকেটের মাঠের এই দক্ষ খেলোয়াড় সবসময় চেয়েছেন তার দল থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত ‘দক্ষ’ লোকের সমাগম থাকুক। সেই লক্ষে অর্থ উপদেষ্টা হিসবে নিযুক্ত করেছেন বিশ্বের সেরা অর্থনীতিবিদদের একজন আতিফ মিয়াঁকে। বলা হয়, আতিফ মিয়াঁ আগামী ৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে নোবেল পেতে পারেন।

স্বাভাবিক ভাবে একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদকে উপদেষ্টা নিয়োগ করে নন্দিত হওয়ার কথা ছিল ইমরান খানের। কিন্তু না, তিনি নন্দিতের পরিবর্তে হলেন নিন্দিত! কিন্তু কেন?

খবর নিয়ে জানা যায়, আতিফ মিয়াঁ মূলত খতমে নবুয়াতকে অস্বীকারকারী অভিশপ্ত কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোক। অর্থাৎ সে একজন কাদিয়ানী কাফের।

অলঙ্করণ : জারাদা

স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত কাফের সম্প্রদায় থেকে একজনকে দেশের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসিন করায় পাকিস্তানি জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে এখন এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, একজন কাফের কাদিয়ানীর হাতে পাকিস্তানের অর্থনীতি কি করে নিরাপদ থাকতে পারে?

তবে  ইমরান খান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। ইমরান খান সরকারের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রায়াদের আতিফ মিয়াঁকে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আতিফ মিয়াঁকে ইকোনোমিক কাউন্সিলে নিয়েছি, ইসলামী শরিয়াহ কাউন্সিলে নেইনি। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক, আমরা আমাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদেরকে তো আর দেশ থেকে বের করে দিতে পারিনা!

ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, আতিফ মিয়াঁ বিশ্ব সেরা অর্থনীতিবিদদের একজন। আশাকরা হচ্ছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পাবেন, এমন একজন মেধাবী দক্ষ লোককে আমরা কাজে লাগিয়েছি, এতে দেশের উন্নতি হবে। যারা এর বিরোধিতা করছেন তারা অযথাই বিরোধিতা করছেন বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে ২০১৭ সালে দেয়া এক জনসভায় আতিফ মিয়াঁকে অর্থমন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইমরান খান, পরবর্তীতে এ নিয়ে সমালোচনার  ঝড় উঠলে ইমরান খান জানান, আতিফ মিয়াঁ যে কাদিয়ানী, তা তার জানা ছিল না। এছাড়াও একাধিক সাক্ষাৎকারে কাদিয়ানীরা কাফের বলে মন্তব্য করেন ইমরান খান। একবার এক সাক্ষাৎকারে কাদিয়ানীদের কাফের বলায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন আতিফ মিয়াঁ। সেখানে তিনি ইমরান খানকে ‘খোদা’ না সাঁজতে অনুরোধ করেন।

তবে সব কিছুর পরেও একজন কাদিয়ানীকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা করা নিয়ে নতুন বিতর্কে পড়লেন ইমরান খান। ধারনা করা হচ্ছে খতমে নবুয়াত নিয়ে আন্দোলন করে আসা সংগঠনগুলো মাথে নামতে পারে এই ইস্যুতে। স্বাভাবিক ভাবেই এটি ইমরান সরকারের জন্য শুভকর হবেনা।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74