জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

ইনু সরকারের মধ্যে থাকা এক নম্বর জঙ্গি : শাহ মোয়াজ্জেম

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (2)
শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে সরকারের মধ্যে থাকা এক নম্বর জঙ্গি বলে মন্তব্য করলেন করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার ও পার্লামেন্টের মধ্যে যে কয়জন জঙ্গি আছে ইনু (তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু) তাদের মধ্যে এক নম্বর।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী বন্ধু দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শাহ মোয়াজ্জেম।

উচ্চ আদালতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা হওয়ার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর ব্যাংক লুট, নারী নির্যাতন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, গুম-খুনের সব ঘটনা ধামাচাপা পড়ে গেছে। এখন সবার মুখে শুধু জঙ্গি, জঙ্গি আর জঙ্গি। কিন্তু এই কথাটা কে আনলো, কেন আনলো, কিভাবে আনলো, এতে কার সুবিধা হলো? মানুষ তা বোঝে। মনে হচ্ছে, দেশে এখন জঙ্গি ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘জঙ্গি, জঙ্গিবাদ আপনারা এনেছেন এই দেশে। কারণ, ইনু জঙ্গি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে ট্যাংক-কামানের ওপরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে যে নেচেছিল, তার চেয়ে বড় জঙ্গি আর কে হতে পারে? সে আজকে বঙ্গবন্ধুর কন্যার (শেখ হাসিনা) মন্ত্রিসভার সদস্য। ছি, লজ্জা। আরেকজন আছেন, যিনি বলেছিলেন- বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ঢোল বানাবো আর হাড্ডি দিয়ে ডুগডুগি বাজাবো। এই কথা বলার পরেও তাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। লজ্জা, লজ্জা। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে আপনি। অথচ ওই সমস্ত কুলাঙ্গারদের আপনার মন্ত্রিসভায় রেখেছেন। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার ও পার্লামেন্টের মধ্যে জঙ্গি আছে। সেখানে যে কয়জন জঙ্গি আছে ইনু তাদের মধ্যে এক নম্বর। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা এবং বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে খতম করার জন্য সেই সময় গণবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। এই গণবাহিনীর লোকেরা ঈদের জামাতে গুলি করে আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম কিবরিয়াকে হত্যা করেছিল। তারপর মতবিরোধের কারণে কাজী আরিফকে দিনের বেলায় ডায়াসে গুলি করে মেরে ফেলা হলো।’

ইনুকে ইঙ্গিত করে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এই স্বনামধন্য ব্যক্তিটি এরশাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে গ্রহণ করতেন। কী কারণে গ্রহণ করতেন, তা আপনারা ভালো করে বোঝেন। তারা (গণবাহিনী) তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (ক্যাপ্টেম মনসুর আলী) বাসা আক্রমণ করেছিল। এছাড়া তারা ভারতের হাই কমিশনারকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গিয়ে একটি অপকর্ম করারও চেষ্টা করেছিল। দেশবাসী এসব ভুলে যায় নাই।’

বন্ধু দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. হামিদ মজুমদারের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সহযোগী সংগঠন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ মোস্তফা জামান লিটু, বন্ধু দল নগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাওসার হামিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম রাজিব প্রমুখ।