দুধ কিনতে না পেরে সন্তানকে লবণ খাইয়ে হত্যা করলেন মা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি



ঢাকার দোহার উপজেলার মিয়াপাড়ায় দুধের টাকা জোগাড় করতে না পেরে দুই মাসের শিশু সন্তানকে লবণ খাইয়ে হত্যা করেছেন মা। এ ঘটনায় আটক মা সাথী আক্তার পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

আজ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে মা সাথী আক্তারকে আটক করে পুলিশ। দোহার থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার উত্তর জয়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ বাচ্চু (৩০) মিয়ার সঙ্গে ৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাথী আক্তারের (২০)। তাদের ঘরে সাবিহা আক্তার নামে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান ও মো. সাইফ নামে দুই মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

রবিবার সকালে সাথী আক্তার তার স্বামী বাচ্চুকে সাঈফের দুধ আনার জন্য বললে ৫ টার দিকে স্বামী দুধ না নিয়ে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর সাথী সন্তানের দুধের টাকা যোগানোর জন্য আশপাশের কয়েকজনের কাছে সাহায্য চায়। পরে সে চেষ্টাও ব্যর্থ হলে সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে গিয়ে রাগে ক্ষোভে দুই মাসের সন্তান সাঈফকে লবন খাওয়ায় ।

এ সময় শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে সাথী নিজেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে গিয়ে সন্তানের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন বাচ্চু। পরে খবর পেয়ে সোমবার সকালে সাথী আক্তারকে আটক করে দোহার থানা পুলিশ।

দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হোসাইন মো. আল-আমিন জানান, শিশু সাইফের মুখে প্রচুর লবণ ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই শিশুটি মারা গেছে। লবনের কারণে বিষক্রিয়া হয়ে মারা যায় শিশুটি।

নিহত শিশুর বাবা মো. বাচ্চু বলেন, মি রাজমিন্ত্রীর কাজ করে সংসার চালাতাম। মাঝেমধ্যে আমার স্ত্রীর সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হত। সাথী আক্তার আমাকে দুধের কথা বলেছিল, আনতে পারিনি। সেই কষ্টে ছেলেকে লবণ খাইয়ে মেরে ফেলেছে সে।

দোহার থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী বলেন, অভাবের সংসারে সন্তানের দুধের টাকা যোগাতে না পেরে রাগে ক্ষোভে নিজের সন্তানকে লবন খাইয়ে হত্যা করেছে মা। জিজ্ঞাসাবাদে সাথী আক্তার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পুলিশের কাছে। তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74