হিজরী নববর্ষ

হিজরী নববর্ষ

মাওলানা তানভীর সিরাজ


সকালে সূর্য উদয়ের মধ্য দিয়ে যে দিনটি আমরা পেয়ে যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদন করি, তাই হল আমার আপনার জীবন আর তার বাস্তবতা। আবদারের ভাষায় সেই সকালের আত্মকথা শুনুন তাহলে!
নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ইরশাদ করেন, যখনই কোনদিনের প্রভাব উদিত হয়, তখনই সে( প্রভাত) মানুষকে সম্বোধন করে বলে, হে আদম সন্তান! আমি এক নতুন সৃষ্টি এবং কর্মের সাক্ষী। সুতরাং তুমি আমার থেকে পাথেয় সংগ্রহ কর। কেননা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আমি আর ফিরে আসব না।”
সূত্র: বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন-১৭৪, প্রকাশনা ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সকাল যায় দুপুর আসে আর বিকাল যায় রাত পোহাই। শৈশব, কৈশোর, প্রথম যৌবন, মধ্য যৌবন, পরিণত যৌবন এবং আজকে এই পড়ন্তবেলায় দাঁড়িয়ে আশিবছরের বৃদ্ধ দাদা যখন অতীত নিয়ে ভাবেন তখন তাঁর প্রকাশ্য জীবনের আলো -অন্ধকার অতীত নিয়ে তিনিই ভালো জানেন। কী করে তিনি দিনাতিপাত করেছেন।

সুন্দর জীবন কার? এই বিষয়ে জীবন বিশেষজ্ঞ নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, “যার হায়াত দীর্ঘ হওয়ার সাথে সাথে আমল কর্মজীবনও ভালো হবে সেই উত্তম ব্যক্তি।” অর্থাৎ শরীয়ত সম্মত জীবনাচারে জীবনকে অতিবাহিত করা।

গতবছর ( ১৪৩৯ হিঃ) আমার কেমন গেলো তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা। আমি কি ভালো কাজ করে মূল্যবান সময় অতিবাহিত করেছি, না আজে-বাজে কাজে, গল্প-গুজব আর অযথা সময় নষ্ট করে সময় কাটিয়েছি?
কি সুন্দর লেনদেনে আমার আয়ব্যয় হয়েছে, না অসুন্দর হাতে, সুদ ঘোষ আর কালোবাজারিতে আমার ইনকাম হয়েছে? প্রবাসে নিবাসে,বরেণ্য বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে বলিয়ান হয়ে কি আমি অবৈধ পন্থায় চোরাচালানী আর কালোবাজারী করে গতবছরকে সুন্দরতম বিদায় দিয়েছি? কী করে আমরা অতীতের সময়কে বিদায় দিয়েছি তা নিজেরাই ভালো জানি। আগামীকে ভালো, পবিত্র আর সুন্দর করার প্রত্যয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ  ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “আমার সবছে আফসোস ও পরিতাপ হয় এমন দিনের জন্য, যেদিনের সূর্য ডুবে গেল, অথচ সেদিনে আমার নেক আমল বৃদ্ধি পেল না।”

তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বলেন, “হে আদম সন্তান! তুমি তো ক’দিনের সমষ্টি মাত্র। সুতরাং যখন একটি দিন অতিবাহিত হয়ে গেল তখন তোমার জীবনের একাংশ হারিয়ে গেল।”

তিনি আরো বলেন, “আমি এমন অনেক ব্যক্তির সাহচর্য পেয়েছি, সময় সংরক্ষণে যাদের আগ্রহ, তোমাদের ধন- সম্পদ সংরক্ষণের আগ্রহের চেয়ে বেশি ছিল।”
সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ-৩৬-৩৭।

আসুন, আমরা আমাদের অতীতকে ভাবনায় রেখে তাওবা ইস্তিগফারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎকে গ্রহণ করি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করেন।