মার্চ ২৪, ২০১৭

ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলার আহ্বান মাওলানা নেজামীর

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বন্যার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত তিস্তা অববাহিকার জেলাসমূহে বসবাসকারী মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্ষাকালে গজলডোবা বাঁধের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ার কারণেই দেশের উত্তরাঞ্চল বন্যায় ভসে যাচ্ছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, পলিমাটি ও আবর্জনা নদীসমূহকে ভরাট হয়ে গেছে। আর এরই কারণে ভাটির নদী সমূহ বন্যার অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে পারছেনা। বিধায় তা উপকূল ছাপিয়ে জনবসতিকে প্লাবিত করে।

তিনি বলেন, পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতিনিধি বর্ষাকালে বাংলাদেশকে পানি দেয়া হবে বলে যে ব্যাঙ্গুক্তি করেছিলেন, তা আজ সত্যে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে নিজামী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে বহু প্রতিক্ষিত ও আকাঙ্খিত তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি হয়নি। ফলে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি সম্বলিত বাংলাদেশের দাবি আবারো ভারতের আশ্বাসের প্রাচীরে আবদ্ধ হয়। তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সম্পর্কে ভারতের সর্বশেষ আশ্বাস বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বিদ্রুপাত্মক ও নিষ্ঠুর পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনমনীয় মনোভাবকে অজুহাত হিসেবে খাঁড়া করে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি সম্পাদন থেকে সরে দাঁড়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পানি বন্টন চুক্তির অভাবে তিস্তা নদীর অববাহিকা বন্যা কবলিত হয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন ।

নেজামী বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক সকল আইন, কনভেনশন ও প্রটোকল অগ্রাহ্য করে দু’দেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে ৩৮টির উজানে ড্যাম, ব্যারেজ ও গ্রোয়েন নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে চলেছে। এসব বাঁধের মাধ্যমে অভিন্ন নদীসমূহের পানি একতরফা প্রত্যাহারের ফলে শুষ্ক মওসুমে পানির অভাবে বাংলাদেশের হাওর, বিল, নীচু জলাভূমি শুকিয়ে যায় এবং এ কারণে কৃষি, মাছ, খাবার পানি, নৌ চলাচল ইত্যাদি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হয়, জীব-বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। আর বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ায় বাংলাদেশের জনপদ, ফসলের জমি, বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মাওলানা নেজামী বলেন, এদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, হাট-বাজারের গোড়াপত্তন, শহর-নগরের সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফল-ফসলাদি উৎপাদন, জীব বৈচিত্রের ব্যাপকতা, মাটির উর্বরতা বজায়ে রাখার ক্ষেত্রে নদী আমাদের অস্তিত্বের অংশ। কিন্তু শুষ্ক মওসুমে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে পানির অভাবে বাংলাদেশের হাওর, বিল, নিচু জলাভূমি শুকিয়ে যায়। এ কারণে কৃষি, মাছ, খাবার পানি, নৌ-চলাচল দারুণভাবে বিঘিন্নত হয়, জীব বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যায় এবং পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। নলকূপে পানি উঠছেনা। বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা ভারতের পানি আগ্রাসনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন। শুধু বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাই নন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানীরাও ভারতের পানি আগ্রাসন বাংলাদেশের নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ হত্যার নীল নকশা বলে মনে করেন।

মাওলানা নেজামী ভারতের এই নদী আগ্রাসনের বিষয়টি নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ রোধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিভার্স নেটওয়ার্ক, হল্যান্ডভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ট্রাইব্যুনাল, থার্ড ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরাম প্রভৃতি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া ভারতের এসব প্রকল্পে সাহায্য না দেয়ার জন্যে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কেননা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্পেন, হাঙ্গেরীর বিরুদ্ধে স্লোভাকিয়া, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে নিজ নিজ দেশের পানির অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার আপত্তির মুখে লাওস মেকং নদীতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে জেগে উঠতে হবে। সর্বস্তরে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে।