‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল’ সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী, পাস না করার আহ্বান টিআইবি’র

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


অংশীজনদের অধিকাংশ সুপারিশ অগ্রাহ্য করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের প্রতিবেদন’ চূড়ান্ত করায় হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি বিলটি পাস না করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, অংশীজনদের অধিকাংশ সুপারিশ আমলে না নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ, মুক্তচিন্তা ও বাক-স্বাধীনতা খর্বকারী ধারাসমূহ অপরিবর্তিত রেখে বিলের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে টিআইবি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী। এ ধরনের আত্মঘাতী বিল আইন হিসেবে পাস করা থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা হরণের ঝুঁকিপূর্ণ ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, ২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ অপরিবর্তিত রেখে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্তের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে প্রস্তাবিত বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা তাদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারার ডিজিটাল গুপ্তচর বৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশের দৃষ্টান্ত অত্যন্ত হতাশা ও দুঃখজনক।

ড. জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য জানার আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে রুদ্ধ হবে। এর ফলে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের অধিকতর বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়া ধারাটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে।’