মির্জা ফখরুলের সঙ্গে জাতিসংঘের বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বাংলাদেশে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য জাতিসংঘের সহায়তায় ও তত্ত্বাবধানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ৩৫ তলায় সংস্থাটির রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেন। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টা থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেয়া অপর দুই সদস্য হলেন- দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। আর জাতিসংঘের ৫জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নেই। এজন্য বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ দফায় জাতিসংঘ মহাসচিবের কোনো বৈঠক হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দলটি।

গতকালকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে সরকারের নানা তৎপরতার বিষয়ে জাতিসংঘকে অবহিত করে বিএনপি প্রতিনিধি দল। এছাড়াও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি, তার অসুস্থতা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সার্বিক বিষয় বৈঠকে তুলে ধরে হয়।

দেশের সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের পদক্ষেপ আশা করেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতারা।

বৈঠক শেষে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে আমরা এখানে এসেছি। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়গুলোও জানানো হয়েছে। আমরা কথা বলেছি, তারাও কথা বলেছেন। আলোচনা ফসপ্রসূ হয়েছে।”

জানাগেছে, বৈঠকে বিএনপি একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ইংরেজি দৈনিকের নিউজ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি সংবলিত কিছু কাগজপত্র দিয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গুম, খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘের অনেক নির্দেশ অমান্য হচ্ছে।

জবাবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, মানবাধিকার নিয়ে তাদের যে কমিটি কাজ করে, তাদের রিপোর্টেও বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া পত্রিকায় যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, সেসব বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দী থাকার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি গুরুতর অসুস্থ, তাকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। তার মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্ব করা হচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি কোনো ঘটনা ছাড়াই হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের এজাহারও দেয়া হয়।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেবেন। সেখানে বাংলাদেশের নির্বাচনসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আলোচনা হতে পারে।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74