নেত্রকোনার চা বিক্রেতা মামুন হত্যার কারণ স্ত্রীর পরকীয়া !

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


নেত্রকোনার চা বিক্রেতা মামুন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত মামুনের স্ত্রী পারভীনের পরকীয়ার পথ পরিষ্কার করতেই কৌশলে খুন করা হয় মামুনকে।

পুলিশ এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এতে অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম উঠে আসে। এরপর পুলিশ দারুনবালি গ্রামের মৃত আঃ শহিদ মিয়ার ছেলে হুমায়ুন কবির হাবলু (৫৬), মৌজেবালি গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল মিয়া (৩২) ও মৃত রমজান খাঁ’র ছেলে বিরাম খাঁকে (৪৫) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে উন্মোচিত হয় ঘটনার মূল রহস্য।

জানা যায়, দরুনবালী গ্রামের চান্দু তালুকদারের ছেলে আশিকের (২৮) সঙ্গে মামুনের স্ত্রী পারভীনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। এতে অজান্তেই পারভীন ও আশিকের পথের কাঁটা হয়ে যায় মামুন। আশিক পথ পরিষ্কার করতে মামুনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় এবং টাকার বিনিময়ে ছয়জনকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। ঘটনার দিন রাতে হাঁটতে যাওয়ার কথা বলে মামুনকে ধান ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় তারা। শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় নেত্রকোনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মর্মে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হুমায়ুন কবির হাবলু। সেইসাথে হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত জানিয়ে হত্যায় অংশ নেয়া অন্যদের নামও বিচারকের কাছে প্রকাশ করেন তিনি।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বোরহান উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে গনমাধ্যমকে জানান, ঘটনার মূল নায়ক আশিকসহ বাকী চার আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় জেলা সদরের কাইলাটি ইউনিয়নের মৌজেবালি গ্রামের একটি ধান ক্ষেত থেকে ওই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন ওরফে ছোট আবুর ছেলে চা বিক্রেতা মামুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অজ্ঞাতদের আসামি করে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মামুনের মা ফাতেমা আক্তার।