কওমী সনদের স্বীকৃতি আইন পাস; আলেমদের প্রতিক্রিয়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জামিল আহমদ


বহুল প্রতীক্ষিত কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদের আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশের অধীন কওমী মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস তাকমিলের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির সমমান প্রদান) বিল ২০১৮- সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহীদ। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর সর্বসম্মতি ক্রমে পাস করা হয়।

স্বাধীনতার এতো বছর পর আইনটি পাস হওয়া নিয়ে বেফাকের সহসভাপতি, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীচরের মুহতামিম আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতি আমাদের অধিকার, এতদিন আমরা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানী অনেকদিন পর হলেও আমরা আমাদের অধিকার; কওমী সনদের স্বীকৃতি পেয়েছি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অনেক অনেক শুকরিয়া আদায় করতেছি।

তিনি সরকার প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত। তিনি লাখো কওমী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে চিন্তা করেছেন। স্বীকৃতি দিয়েছেন, এজন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।


বেফাকের সহকারী মহাসচিব জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মদপুরের মুহতামিম মুফতী মাহফুজুল হক বলেন, জাতীয় সংসদে কওমী মাদরাসাসমূহকে স্বীকৃতি বিল পাস হওয়ায় আমি প্রথমত মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আলহামদুলিল্লাহ। সাথে সাথে জাতীয় সংসদের সকল সদস্য,  মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সকলেরই শুকরিয়া আদায় করছি।

তিনি বুলেন, এই মূহুর্তে আমি ঐ সকল আকাবিরগণদের স্মরণ করছি, যারা দীর্ঘ সময় কওমী মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্রদের জন্য সনদরে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য পরিশ্রম করেছেন। আমি আজ তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

শাইখুল হাদীস পুত্র তাঁর মরহুম পিতাকে স্মরণ করে বলেন, কওমী স্বীকৃতির জন্য মাথে আন্দোলন সংগ্রামকারীদের মধ্যে অন্যতম আমার শ্রদ্ধাভাজন পিতা বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রহ.সহ বেফাকের দীর্ঘদিনের মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানবাদী রহ.কে আমি বিশেষ ভাবে স্মরণ করছি।

বেফাকের বর্তমান এই দায়িত্বশীল বলেন, একই সাথে আমি বেফাকের প্রথম সভাপতি মাওলানা হাজ্বী ইউনুস রহ., বেফাকের দ্বিতীয় সভাপতি মাওলানা হারুন ইসলামাবাদী রহ., বেফাকের দ্বিতীয় মহাসচিব আতাউর রহমান খান রহ, এবং পরবর্তী সভাপতি খলিফায়ে মাদানী মাওলানা নূর উদ্দীন গহরপুরী রহ., জাতীয় মসজিদের সাবেক খতীব মাওলানা উবায়দুল হক রহ. ও মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ. সহ সকল আকাবিরদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আমরা যেন কওমী স্বীকৃতির মূল্যায়ন করতে পারি। এই স্বীকৃতি যেন কওমী মাদরাসার স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট বজায় রেখে যুগ যুগ ধরে রাখতে পারি। এর জন্য আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করছি এবং গোটা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

বেফাকের আরেক সহকারী মহাসচিব জামিয়া ইসলামিয়া ইসলবাগ মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় প্রথমে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া। তারপর বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, সকল সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানােই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যাক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না, সে মহান আল্লাহ তায়ালারও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না।