মার্চ ২৩, ২০১৭

‘বাহে না খায়া আছি, কিছু দেন, হামাক গুলাক বাঁচান’

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

যুগান্তর‘খালি ফটো তুলি কী হইবে? বাহে, না খায়া আছি, ভোকোত (ক্ষিদায়) প্যাট শুকি গেইছে! কিছু দ্যান। হামাক গুলাক (আমাদেরকে) বাঁচান।’

বানভাসিদের চোখেমুখে এখন একটাই চাওয়া- পেটপুরে কিছু খেতে চান তারা।

রোববার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সেনের খামার স্কুলে আশ্রয় নেয়া ৪১টি পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন দুর্দশার কথা জানা যায়।

টানা আট দিন বন্যার সঙ্গে লড়াই করার পর ঘরবাড়ি ছেড়ে একটু মাথা গোজার জন্য সেনের খামার উচ্চ বিদ্যালয় ও সেনের খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয় ৪১টি পরিবার।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই ঠাসাঠাসি করে দিনযাপন করছেন তারা। স্কুলের খোলা মাঠে রেখেছেন গবাদিপশু। প্রথম দিন তাদের এক প্রকার উপোস করে কেটেছে।

একই রকম অবস্থা সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের চরভেলাকোপা স্কুল, গড়েরমাঠ, চর সিতাইঝাড় ফ্লাড শেল্টারসহ নয়ারহাট হাইস্কুলের।

প্রত্যন্ত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ খোঁজ নিতেও আসে না বলে আশ্রিতদের অভিযোগ। ফলে তারা খেয়ে না খেয়ে সময় পার করছে।

সেনের খামার স্কুলে আশ্রয় নেয়া আমিনা (৪০) বলেন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক ছেলেসহ তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী চর কৃঞ্চপুর এলাকায় থাকতেন। ঘরের ভিতর পানি ঢুকে পড়ায় তারা চৌকিতে বাঁশ জোড়া দিয়ে উঁচু মাচা করে আশ্রয় নেন।কিন্তু তাদের ছোট সন্তান রাব্বি (৩) পরপর দুদিন চৌকি থেকে পড়ে গেলে গত মঙ্গলবার বিকালে তারা বাড়ি ছেড়ে এই স্কুলে এসে আশ্রয় নেন। এর পর থেকে তাদের উপোস থাকতে হয়।

তিনি এই প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘খালি ফটো তুলি কী হইবে? বাহে, না খায়া আছি, ভোকোত (ক্ষিদায়) প্যাট শুকি গেইছে! কিছু দ্যান। হামাক গুলাক (আমাদেরকে) বাঁচান।’

চেয়ারম্যান, মেম্বর কিংবা প্রশাসনের কেউ খোঁজ না নিচ্ছে না বলে জানান আমিনা।

একই কথা জানালেন সেখানে থাকা চর কৃষ্ণপুর এলাকার জহুরুল হক (৫৫), রহিমা বেগম (৪০)।

মোগলবাসা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নূর জামাল বাবলু বলেন, ‘সেনের খামার ছাড়াও চরের মধ্যে ৮-১০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এই আশ্রয়কেন্দ্রটি মেইনল্যান্ডে হওয়ায় আশপাশের লোকজন সহযোগিতা করছে। তবে দূরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া বেসরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা নেই।’

যুগান্তর