শাজনীন হত্যা: চূড়ান্ত রায়ে শহীদের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের খালাস

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শাজনীন হত্যাট্রান্সকম গ্রুপের মালিক লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীন হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায়ে গৃহকর্মী শহীদুল ইসলাম শহীদের ফাঁসি বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।  এছাড়াও, বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাচঁজনের মধ্যে বাকি চারজনকে খালাস দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।  গত ১১ মে আপিল শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন, লতিফুর রহমানের বাড়ির কাজের ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান, গৃহকর্মী হাসানের সহকারী বাদল এবং গৃহকর্মী দুই বোন এস্তেমা খাতুন মিনু ও পারভীন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে লতিফুর রহমানের বাড়িতে খুন হন তার মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমান। শাজনীন তখন ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

ওই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী রহমতউল্লাহ রায় দেন।

রায়ে শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে হাসান, শহীদ, বাদল, এস্তেমা খাতুন, পারভীন ও কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মণ্ডলকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক।

আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) ওই বছরই মামলাটি হাই কোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিলও করেন।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাই কোর্ট হাসান, শহীদ, বাদল, মিনু ও পারভীনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে। অপর আসামি শনিরাম মণ্ডল খালাস পান।

হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা চার আসামি মইনুদ্দিন হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন। ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল এই চার আসামিকে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামি শহীদুল জেল আপিল করেন। সাত বছর পর ২৯ মার্চ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়ে ১১ মে শেষ হয়। ওইদিন মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে আপিল বিভাগ।

এছাড়া হাই কোর্টে শনিরাম মণ্ডলের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তা আগেই খারিজ হয়ে যায়।

আপিল বিভাগে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান। বাদীপক্ষে ছিলেন সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এ এম আমিন উদ্দিন ও এ এস এম আবদুল মোবিন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান।