মার্চ ২৬, ২০১৭

গুলশান-শোলাকিয়া হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়া ও তামিম

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

কে এম শহীদুল হক (2)গুলশানের হলি আর্টিজান হোটেল ও শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরী বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান কে এম শহীদুল হক।

মেজর জিয়াউল হক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা। আর তামিম চৌধুরী নিউ জেএমবি’র নেতা।

আইজিপি বলেন, জিয়া আর তামিম চৌধুরীর পরিকল্পনায় গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন তাদেরকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিলে বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে মোট ৪০ লাখ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

7a0491e06515
মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরী

আইজিপি বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার তদন্ত করতে গিয়ে তারা অনেক তথ্য পেয়েছেন। শেওড়া পড়া, কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় আরেকটি গ্রুপ হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে-এ তথ্য পেয়েই তারা ওইসব এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে কল্যাণপুরে যখন এই আস্তানার খবর পাওয়া যায় তখন তাদেরকে আত্মসমর্পণ করা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটা গ্রহণ না করে যুদ্ধ করে পুলিশকে হত্যা করার ঘোষণা দেয়। এরপর পুলিশ সেখানে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত, একজন গ্রেফতার এবং একজন পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক জেএমবি গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় জড়িত নেই। মেজর জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জেএমবির একটি নতুন ভার্সন এই হামলা চালিয়েছে। তারাই এই হামলার মাস্টার মাইন্ড। এ হামলাগুলো ওই দুজনের নির্দেশনায় হয়েছে।’

মেজর জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, আইজিপি বলেন, ‘তারা দুজন কোথায় আছেন সে বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। সেজন্যই তাদের তথ্য পেতে জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের বিষয়ে তথ্য দিলে বং ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতার পরিচয়ও গোপন রাখা হবে।’

জঙ্গি হামলার সঙ্গে হিজবুত তাহরীরে সংশ্লিষ্টার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নাশকতার সঙ্গে হিজবুত তাহরীরের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে জামায়াত শিবিরের সম্পৃক্তরা পাওয়া গেছে।’

সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ড. জাবের পাটোয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা।

প্রসঙ্গত, মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক। তিনি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে প্ররোচণা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে পলাতক। তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

সূত্র জানায়, মেজর জিয়া আগে থেকেই উগ্রগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ধরা পড়ার আগে তিনি একাধিকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, জিয়া এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সামরিক শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্লগার হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা এত বেশি নিখুঁতভাবে হয় যে ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব আসার পর আনসারুল্লাহ ‘আনসার আল ইসলাম’ নাম ধারণ করেছে।