দুঃখিত, ইসরাইলে পড়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে সুপারিশ দেব না: মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


আমেরিকার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের জন চেহনি-লিপ্পোল্ড নামের একজন অধ্যাপক ইসরাইলে অধ্যয়ন করার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে সুপারিশ পত্র দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

একই সাথে তিনি যেসব ছাত্র-ছাত্রী ইহুদিবাদি ইসরাইলে পড়াশোনা করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ‘একাডেমিক বয়কট’ আরোপ করেছেন।

যদিও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাপকের ব্যাপক সমালোচনা করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘এটি আশাহত হওয়ার মত একটি ব্যাপার যে, একজন অধ্যাপক তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে আমাদের ছাত্রদেরকে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছেন।’

ওই অধ্যাপক মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগে কর্তব্যরত আছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা ইহুদি বিদ্বেষ অস্বীকার করেছেন।

এবিষয়ে জন চেহনি-লিপ্পোল্ড বলেন, ‘আপনারা হয়ত জানেন যে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপক ইসরাইলের বিরুদ্ধে একাডেমিক বয়কট আরোপ করে রেখেছেন। তারা এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানান।’

তিনি আরো জানান, ‘এই বয়কট সেইসব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যারা ইসরাইলে অধ্যয়ন করতে আগ্রহী এবং তাদেরকে কোনো প্রকার সুপারিশ পত্র দেয়া হবে না।’

‘আপনাদেরকে এই বিষয়টি আরো আগেই জানানো উচিত ছিলো, সে জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমি কখনো ইসরাইলে অধ্যয়ন করার জন্য কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে সুপারিশ পত্র দিবো না। যদি অন্য কোথাও অধ্যয়ন করার জন্য সুপারিশ পত্র দরকার হয় তবে আমাকে জানান, আমি খুশি মনেই তা লিখবো।’
যোগ করেন জন চেহনি-লিপ্পোল্ড।

দ্যা ডেইলি মিশিগানকে তিনি বলেন, তার আরোপ করা একাডেমিক বয়কটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একমত এমনটি বলে তিনি ভুল করেছিলেন। ইসরাইলে অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের উপর বয়কট আরোপ করা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বলেও তিনি জানান।

ইহুদিবাদি ইসরাইলিদের বর্বরতার শিকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বয়কট আরোপ করাকে সমর্থন জানাই কারণ আমি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে ইচ্ছুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত ইহুদী বিদ্বেষ আমি পুরোপুরি অস্বীকার করছি। ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আমার কোনো খারাপ ইচ্ছা নেই এবং আমি তাদের জন্য অন্য যেকোনো দেশে অধ্যয়নের জন্য সুপারিশ পত্র লিখতে আগ্রহী।’

ইহুদিবাদি ও তাদের সমর্থনকারী সমালোচকদের জবাবে জন চেহনি-লিপ্পোল্ড বলেন, ‘আমি কোনো মেশিন নয় বরং আমি একজন অধ্যাপক। আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিমত থাকতে পারে এমনকি সুপারিশ পত্র লিখার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে আমার অভিমতের প্রতিফলন ঘটে। এটি কোনো অলিখিত ব্যাংক চেক নয় যে তারা যেখানে ইচ্ছা অধ্যয়ন করতে চাইবে আর আমি তাতে স্বাক্ষর করে দিবো বরং এটি একটি আলোচনা।’