গুলশানের বাড়ি হারালেন ব্যারিস্টার মওদুদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মওদুদ আহমদবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশানের বাড়িসংক্রান্ত মামলায় রাজউকের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।

একইসঙ্গে তার ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) করার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া রায়ও বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত। ফলে গুলশানের বাড়িটি মওদুদ আহমদের থাকছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে তিনি নিজেই ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রাজউকের পক্ষে ছিলেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী।

এর আগে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট ওই বাড়িটি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার জন্য হাইকোর্ট রায় দেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি নিজামুল হক।

এদিকে বাড়িটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘এ বাড়ি আমাদের ক্রয়কৃত, সরকারি নয়। ১৯৮১ সাল থেকে আমরা এ বাড়িতে বাস করে আসছি।’

বিরোধী দলে থাকার কারণেই সরকার সাত বছর পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ।

দুদকের মামলা কী কারণে বাতিল হলো, সে প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, একই ধরণের একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন। তা সত্ত্বেও প্রতিহিংসাবশত দুদক এ মামলা করার কারণে তা বাতিল করেছেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, গুলশানে বসবাসরত মওদুদ আহমদের বাড়ির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। এক পর্যায়ে বাড়িটির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের স্ত্রীরও নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করলে ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন।’

এমন অভিযোগ করে দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদ ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অবৈধভাবে বাড়ি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মওদুদ ও তার ভাই মনজুরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

তবে মওদুদ আহমদের পক্ষে দাবি করা হয়, ‘বাড়িটি সরকারি সম্পত্তি নয়, ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আর মওদুদ আহমদের ভাই ব্যক্তি মালিকের কাছ থেকেই বাড়িটি ক্রয় করেছেন।’