জানুয়ারি ১৭, ২০১৭

কাশ্মীরে ওআইসি’র তদন্তদল পাঠাতে পাকিস্তানের দাবি, সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

148941_1

কাশ্মীর উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তদন্ত করতে ওআইসি’র একটি তদন্তদল পাঠানোর পাকিস্তানের দাবির প্রতি তুরস্কের সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।

বুধবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন।

মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে তুরস্ক সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে। এই ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি তুরস্কের সমর্থন সবসময় ছিল এবং এখনো সে সমর্থন রয়েছে।’

কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনে তদন্ত টিম পাঠাতে ইসলামাবাদের দাবিকে সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘তুরস্ক আশা করে, আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান হবে এবং কাশ্মীরে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সংগঠিত করতে এবং একটি পর্যবেক্ষক টিম পাঠানোর জন্য আমি ওআইসি মহাসচিবকে অনুরোধ করছি।’

কাভুসোগলু বলেন, ‘তুরস্ক ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একজন সক্রিয় সদস্য। আশা করছি, ওআইসি কাশ্মীরে বিভিন্ন গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আশা করছি আসছে সেপ্টেম্বরে ওআইসির পরবর্তী সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।’

ইতোমধ্যে কাশ্মীর ইস্যুটি পাকিস্তান জাতিসংঘে উত্থাপন করেছে এবং সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করতে একটি তদন্ত টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছে।

গত ৮ জুলাই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত ৬০ জন কাশ্মীরি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য পাকিস্তান টুডে।

পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে তুরস্ক। সম্প্রতি তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে পাকিস্তান এলেন কাভুসোগলু। প্রথম দেশ হিসেবে তুরস্কের ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সমালোচনা করায় ইসলামাবাদকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তুরস্ক ইতোমধ্যে অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি জানান। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিতর্কিত তুর্কি ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থকরা এই অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করছে দেশটির সরকার।

তিনি বলেন, ‘গুলেনের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন প্রতিটি দেশের স্থিতিশীলতা বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো বিষয়ে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক রয়েছে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটির। অতীতে আমরা গুলেনকে সমর্থন করেছিলাম কিন্তু অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা মাধ্যমে তুরস্কের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের এমন গোপন এজেন্ডা ছিল তা, আমাদের জানা ছিল না।’

কাভুসোগলু বলেন, ‘পাকিস্তান এবং তুরস্ক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে সমর্থন করছে।’

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের গতিশীল নেতৃত্বে তুরস্কে গণতন্ত্র, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের অঙ্গীকার করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ।

অব্যাহত সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে বলে জানান সারতাজ আজিজ। এছাড়াও দুই পক্ষই আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেন এবং এ বিষয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন বলে মত দেন।