মার্চ ২৩, ২০১৭

৫ আগষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সফল করার আহ্বান হেফাজতের

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হেফাজতহেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক যুক্ত বিবৃতিতে আগামী ৫ আগষ্ট ২০১৬ ইং শুক্রবার, বাদ জুমা, ঢাকা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্বর গেট ও চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট চত্বরে অনুষ্টেয় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল সফল করার জন্য সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা এবং সাম্প্রতিককালে বিশ্বব্যাপী যেসব সন্ত্রাসী কর্মকা-, হামলা, নাশকতা ও হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটছে তাতে বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। সারাবিশ্বেই সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইহুদী-খ্রিস্টান সা¤্রাজ্যবাদী ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে সূদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।।

হেফাজত নেতারা বলেন, ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। সার্বজনীন মানবতার ধর্ম হলো ইসলাম। এমন কোনো বিষয় নেই যেখানে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে। ওলামায়ে কেরাম অতীতেও হত্যা, নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ইসলাম সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকার ফলেই কিছুসংখ্যক যুবক বিপথগামী হচ্ছে এবং চিন্তা-চেতনা সঠিক না হওয়ায় এ সমস্যার তৈরি হয়েছে। আর চিন্তা-চেতনা সঠিক হওয়ার উৎসই হচ্ছে কোরআন সুন্নাহর শিক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদেরকে নিজ সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। আমরা তার আহবানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু বর্তমান পাঠ্যপুস্তক থেকে ধর্মীয় বিষয় তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের আহবান আগে শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করুণ। তাহলেই ছাত্র-ছাত্রীরা আদর্শ ও নৈতিক গুনাবলী সম্পন্ন সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

হেফাজত নেতারা বলেন, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। মুসলিম মিল্লাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতাসীনদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধর্মহীন করার কারণে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমানদের সন্তানরা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা না জানার ফলে বিপথগামী হচ্ছে। দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা-, গুপ্তহত্যা, গুম, খুন, ও রাজনৈতিক জিঘাংসা ইত্যাদি পরিস্থিতিতে নাগরিক হিসেবে আমরা সকলেই আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। তাই, শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন- হত্যা, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ প্রতিরোধে আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিবরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। মসজিদের মিম্বর থেকে সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, শান্তি ও মানবতার বাণী প্রচার করা হয়। ইসলামের সাথে ঘৃনিত উগ্রবাদ তথা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু আজ সরকার চলমান ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মসজিদ ও জুমার খুতবার উপর নিয়ন্ত্রন আরোপের চেষ্টা করছে। এদেশের ধর্মপ্রাণ জনতা ধর্মের উপর কোনরূপ নিয়ন্ত্রন, নজরদারী কোনভাবেই মেনে নিবে না। জুমার খুতবায় অপ্রয়োজনীয় নজরদারী না করে সবার আগে পাঠ্যসূচি সংশোধন করুণ।

বিবৃতিদাতারা হলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর আল্লামা শামসুল আলম, আল্লামা আবদুল মালেক হালিম, আল্লামা মুফতি মোজাফ্ফর আহমদ, আল্লামা মোহাম্মদ ইদরিস, মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, যুগ্নমহাসচিব মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা মইনুদ্দিন রুহী, মাওলানা আশরফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা ইলিয়াস ওসমানী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মুফতি হারুণ ইজহার, মাওলানা আবদুল জাববার, হাজী মুজাম্মেল হক প্রমূখ।