জানালা দিয়ে উঁকি দেয়ায় দখলদার ইসরাইলি সেনাদের বুলেটে চোখ হারালেন তিনি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | গাজী শরফুদ্দীন


ওররাদ ফাহিম আদিলি

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে আকষ্মিক বোমা বিষ্ফোরণের আওয়াজ ধ্বনিত হয় ফিলিস্তিনের অধিকৃত নাবলুস শহরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আওসিরিন গ্রামে । ঘটনা অনুসন্ধান করতে ওররাদ ফাহিম আদিলি নামের এক ব্যক্তি তার আত্মীয়ের বাসার জানালা দিয়ে উঁকি দেন সেদিকে। অমনি দখলদার ইসরাইলি সেনাদের একটি বুলেট এসে তার চোখে বিদ্ধ হয়। ৭সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় ঘটনাটি ঘটে।

ফিলিস্তিনি সংবাদনমাধ্যম আল-কুদসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তার চাচাত ভাই রায়েদ আদিলি বলেন, পরিবারটি আগে থেকে দখলদার বাহিনীর এই হামলা সম্পর্কে কিছুই জানত না। বাড়ির সীমানায় বোমা বিষ্ফোরণের শব্দ পেয়ে কি ঘটতে যাচ্ছে, জানার জন্যে ওররাদ জানালার কাছে যান। জানালা খুলতেই সরাসরি একটি বুলেট এসে তার বাম চোখে পড়ে।

তিনি আরো বলেন, রাবারের খোসার ভিতরে থাকা ধাতব পদার্থের এই বুলেটে আক্রান্ত হয়ে তার চোখ পুড়ে যায় এবং এতে তার চোখে অনেক বড় ক্ষতিও সাধিত হয়। চোখের অভ্যন্তরে বুলেটের কিছু ভাঙ্গা অংশ রয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে অপারেশন করে তার চোখটি উপড়ে ফেলা হয়। এতেও ক্ষত না সারলে আরেকটি অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও ডাক্তাররা জানান।

ওররাদ যেভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এতে করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, তিনি নিকটবর্তী কোন জায়গা থেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, আমরা মহল্লায় দখলদার সেনাদের দেখি নি। তবে কয়েকটি সামরিক গাড়ী দেখেছিলাম। বলতে পারব না, কিভাবে তার উপর গুলি ছোঁড়া হল! আর কেনইবা ঘরের ভেতর থাকা সত্ত্বেও তাকে টার্গেট করা হয়? তারা আরো বলেন, আমাদের ধারনা, হয়ত এই সামরিক বহর থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছে কিংবা রাতের অন্ধকারে কোন সৈন্য আত্মগোপনে ছিল, আর সুযোগ বুঝে সে আক্রমণ করে বসে। আর সিসি ক্যমরার ভিডিও ফুটেজে বারবার সামরিক বহরের চিত্রই দেখা যায়।

রায়েদ বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ওররাদের মানসিক অবস্থা খুবই বিপন্ন। তিনি এখনও চোখ হারানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারেন নি। তার আশেপাশে কি ঘটছে কিছুই তিনি টের পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, তার পাঁচজন ছেলে। সর্বকনিষ্ঠ ছেলের বয়স পনেরো। পশু লালনপালন করে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার গুরু দায়িত্ব সে-ই আঞ্জাম দেয়। তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই সাদামাটা। পরিবারের দেখাশুনা করার জন্য সে ছাড়া আর কেউ নেই।

এ জাতীয় বুলেট দখলদার সেনারা প্রায় সময় বিক্ষোভকারী ও ফিলিস্তিনি জনগণের দিকে ছোড়ে মারে। এই ধাতব পদার্থের বুলেট ও স্পঞ্জ বোমার কারণে অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিক তাদের অমূল্য রত্ন চোখ হারায়। পাশাপাশি এ জাতীয় বুলেট দেহে এতটাই ক্ষত ও জখম সৃষ্টি করে যে, কখনও কখনও এর কারণে তাদের শাহাদাতও বরণ করতে হয়।