জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

সন্ত্রাসী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তুলতে হবে: জুনাইদ বাবুনগরী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-08-05_203229হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র আহবানে আজ বাদজুমা চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট চত্বরে গুলশান, শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নৃশংস হত্যাকান্ড, সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা এবং ইফা কর্তৃক জুমার খুতবায় অবৈধ হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবীতে আয়োজিত মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও নাস্তিক্যবাদ কোনটাই মুসলমানরা সহ্য করে না। আমরা সন্ত্রাসবাদকে যেমন ঘৃণা করি, প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছি, একইভাবে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদিদের প্রতিহত করার সংগ্রামে নেমেছি। প্রয়োজনে আলেম ওলামা ও তাওহিদী জনতা সকল সন্ত্রাসী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে পাড়ায় মহল্লায় প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, অস্ত্র দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা যেমন সন্ত্রাস, তেমনিভাবে দোষী সাব্যস্থ হওয়ার আগে ক্রসফার করে মারা ডাবল সন্ত্রাস।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। সার্বজনীন মানবতার ধর্ম হলো ইসলাম। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী গোষ্টী তৈরী করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে অংশ। ওলামায়ে কেরাম হত্যা, নাশকতা ও উগ্রসন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অতীতেও ভূমিকা রেখেছে, এখনো রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। ইমাম-খতিবরা সবসময় মসজিদের মিম্বর থেকে সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, শান্তির বাণী প্রচার করে। মসজিদ আল্লাহর ঘর, কুরআন হাদীস মতে খুতবা দেয়া হয়। সুতরাং খুতবা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করবেন না। সারা দেশে আগুনের দাবানল জ্বলে উঠবে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী দেশে যে হারে রাজনৈতিক জিঘাংসা, বোমাবাজি, খুন, গুম, অপহরণ, সন্ত্রাসী কর্মকা-, দুর্নীতি এবং টার্গেট কিলিং হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্যে ক্ষমতাসীনদের হুমকি-ধমকি ও বন্দুকের ভয় দেখানো বন্ধ করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে ন্যায়-ইনসাফ এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ ও রাজনৈতিক কাদাছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ উৎখাত করার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন। তারা যাতে সঠিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সব ধর্মই শান্তির কথা বলে’। তার এই বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০১০ সালের ধর্মহীন শিক্ষানীতি বহাল রেখে কীভাবে সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা হবে ? সত্য হলো, সরকারের মন্ত্রী এমপি ও কর্তাব্যক্তিদের কথা ও কাজে কোনই মিল পাওয়া যায় না।

মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আবু তাহের আরবী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা হাজী মুজাম্মেল হক, মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসউদ খান, হাফেজ ফয়সাল, মাওলানা জয়নাল আবেদীন কুতুবী, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, মাওলানা আমিন শরীফ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন রববানী, মাওলানা কুতুবুদ্দিন, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা জুনাইদ জওহর, মাওলানা রাকীব আল হাসান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা ওসমান কাসেমী প্রমূখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনম আহমদুল্লাহ।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা না জানার কারণে আধুনিক শিক্ষিত কিছুসংখ্যক যুবক বিপথগামী হচ্ছে। এদের কারণে শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামকে দায়ী করা যাবে না। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে মাদরাসায় জঙ্গি তৈরী হয় না। সন্ত্রাসীদের বাপ দাদা হলো তারা, যারা এদেশে বসে ইহুদী সা¤্রজ্যবাদী শক্তির দালালী করে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নির্মূলের জন্য প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার সর্বস্তরে কুরআন সুন্নাহর শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহীর বলেন, আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পেতে চাইলে উলামা-মাশায়েখ, দাড়ি-টুপি-হিজাব বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধ করুণ। ধর্মহীন শিক্ষানীতি, পাঠ্যবইয়ে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের শিক্ষাদান এবং জুমার খুতবায় হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবেনা। তিনি বলেন, দেশ কাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে জানিনা। ক্ষমতাসীনরা লুটপাট ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেরিত খুতবা না পড়ার কারণে যেসব ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তদের মুক্তি
দিন।

সমাবেশ শেষে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে
মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।