মার্চ ২৮, ২০১৭

জাতীয় ঐক্য ও সংহতিবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার অঙ্গিকার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

3432তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সর্বদলীয় এক সমাবেশে রবিবার লাখ লাখ জনতা ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী গুলেনের সন্ত্রাসী সংগঠনকে প্রতিহতের ডাক দিয়েছে। তুর্কি রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ‘গণতন্ত্র রক্ষা ও শহিদদের স্মরণে’ ওই সমাবেশের আয়োজন করেছিল।

সমাবেশ উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই ইস্তাম্বুলের ইয়েনিকাপি এলাকায় সমবেত হতে থাকে জনতা। তাদের হাতে ছিল তুরস্কের জাতীয় পতাকা। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ওই সমাবেশে কোনো দল বা গোষ্ঠীর পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন বহন করতে দেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী। দলমত ও ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ যোগ দেয় সমাবেশে।

সমাবেশে উপস্থিতি ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপির প্রধান কামাল কিলিচদারওগলু ও ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টির প্রধান ডেভলেত বাহচেলি।

তুরস্কের বিভিন্ন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন জাতীয় তারকাও এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ৩৫ লাখ মানুষ যোগ দেয় বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। এরদোগান সারা দেশে বড় পর্দার মাধ্যমে এ সমাবেশ দেখানোর কথা আগেই ঘোষণা করেন।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ‘গণতন্ত্র ও শহীদ’ শীর্ষক এ বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার জন্য এরদোগান বিরোধী নেতাকে আমন্ত্রণ জানান। তবে কুর্দিপন্থী এইচডিপি পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

রবিবার সকালেই প্রেসিডেন্ট এরগোদান ইস্তাম্বুলের সমাবেশে জাতি একত্রিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিরোধী দল ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) নেতা এক টুইটার বার্তায় বলেন, তিনি সমাবেশে যোগ দিতে এরদোগানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

এই র‌্যালির মাধ্যমেই শেষ হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী চলা গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তুর্কি সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আহ্বানে সাধারণ জনতা রাজপথে নেমে সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করে গণতন্ত্র রক্ষা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়ে ২৪০ জন তুর্কি। আহত হয় কয়েক হাজার।

এরপর থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহরে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ জনতা গণতন্ত্র রক্ষা অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। রবিবারের এ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রায় ২০ দিনের এ কর্মসূচির।

সূত্র: বিবিসি