মা বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় দুটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছেন তিনি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


হাজী সুলাইমান তালুকদার

মা বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য দুইটি কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে মা বাবার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল সুসন্তানের পরিচয় দিয়েছেন হাজী সুলাইমান তালুকদার।

হাজী সুলাইমান নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার নাগডরা গ্রামের মরহুম আঃ হাকিম তালুকদার ও মুসাম্মাৎ জামিলা বেগমের সুযোগ্য সন্তান। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও দানশীল সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় তাঁর যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে। নিজ গ্রামে নিজস্ব জায়গায় সিংহভাগ টাকা নিজের হাত থেকে খরচ করে তিনি দারুল উলুম হাকিমিয়া মাদ্রাসা (পুরুষ শাখা) ও জান্নাতুল মাওয়া মহিলা মাদ্রাসা নামে দুটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “একমাত্র মহান আল্লাহ তাআ’লার সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য এবং আমার মা বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য আমি মাদরাসা দুটি প্রতিষ্ঠা করেছি। মহান আল্লাহ তাআ’লা আমাকে তাওফিক দিয়েছেন বলেই আমি এ কাজটি করতে পেরেছি। দুআ করবেন আল্লাহ তাআ’লা যেন মাদরাসাগুলোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন।”

উভয় মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সফিউল্লাহ্ জানান, মাদরাসা দুটি অত্যন্ত সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে ১ একর ৬ শতাংশ নিজস্ব জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। দারুল উলুম হাকিমিয়া মাদ্রাসায় পাঠদানের জন্য ৬০ ফুট /২০ ফুট একটি হাফ বিল্ডিং এবং তার সামনে ছাত্রদের খেলাধুলার জন্য একটি মাঠ রয়েছে। মাদ্রাসায় নূরানী ১ম থেকে ৩য় জামাত পর্যন্ত মোট ৭০ জন ছাত্র ৩ জন শিক্ষকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। ছাত্রদের অজু-গোসলের জন্য মাদরাসার পিছনে পাকা ঘাট সহ একটি বড় পুকুরও রয়েছে।

দারুল উলুম হাকিমিয়া মাদ্রাসা

জান্নাতুল মাওয়া মহিলা মাদ্রাসায় পাঠদান ও আবাসিক ব্যবস্থাপনার জন্য ৪৫ ফুট / ২০ ফুট একটি হাফ বিল্ডিং ও ৬০ ফুট /২০ ফুট একটি টিনশেড ঘর রয়েছে। কুদুরী জামাত পর্যন্ত মোট ৯৫ জন ছাত্রী, ২জন শিক্ষক ও ৫ জন শিক্ষিকা রয়েছেন।ছাত্রীদের জন্য রয়েছে থাকা খাওয়া সহ সম্পূর্ণ পর্দার ভিতরে অজু-গোসলের সুন্দর ব্যবস্থাপনা।

তিনি বলেন, আমরা এই প্রতিষ্ঠানদ্বয়কে আদর্শ ও যুগোপযোগী দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী শামছুর রহমান মাষ্টার বলেন, “দ্বারুল উলুম হাকিমিয়া মাদ্রাসা ও জান্নাতুল মাওয়া মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাজী সুলাইমান তালুকদার আমার আপন ভাতিজা। সে কয়েক বছর আগে আমার সাথে পবিত্র হজ্ব পালন করেছে। হজ্ব থেকে আসার পর তাঁর মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। সে দাড়ি টুপি সহ সুন্নতি পোশাক পরিধান করা শুরু করে ও অন্যান্য দ্বীনের কাজেও বেশ মনোযোগী হয়। যার ফলশ্রুতিতে সে নিজ গ্রামে, নিজস্ব জায়গায় সিংহভাগ টাকা নিজের হাত থেকে খরচ করে তাঁর মা বাবার রুহের মাগফিরাত ও অত্র এলাকার মানুষকে পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত করার জন্য এ মাদরাসা দুটি প্রতিষ্ঠা করেছে। মাদরাসাগুলোতে এলাকার ছেলে মেয়েরা সহজে ইলমেদ্বীন হাসিল করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়াও মাদ্রাসায় এলাকার বয়স্ক নারী পুরুষদের জরুরি দ্বীন শিক্ষার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সাপ্তাহিক তা’লীমের ব্যবস্থা। আমি আমার ভাতিজার জন্য দুআ করি আল্লাহ্ যেন তাঁকে নেক হায়াত দান করেন এবং আজীবন দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত রাখেন।”

দারুল উলুম হাকিমিয়া মাদ্রাসা