বানভাসিদের পাশে লালবাগ মাদরাসা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

unnamedধরলার কূলবর্তী অঞ্চল ধেয়ে আসা বন্যায় কুড়িগ্রামসহ নিমজ্জিত হয়েছে জামালপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারির পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকা। পানিবন্দী হয়ে জীবনযাপন করছে লাখো মানুষ। সরকারি সাহায্য এবং ত্রাণ যখন বিভিন্ন উপায়ে লোপাট হয়ে পৌঁছুতে পারছে না বানভাসিদের কাছে তখন কিছু আশাপ্রদ খবর নিয়ে জেগে উঠছে তরুণেরাই।

প্রায় সকল সংবাদমাধ্যমের বন্যার ভয়াবহতা এড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েও ঢাকার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়া কোরআনিয়া লালবাগ একরকম প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতাতেই বন্যার হাল জরিপ করে এবং এলাকাবাসীসহ বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। টানা চারদিন মাদরাসার ছাত্র ও এলাকাবাসী বন্যার্তদের জন্য সংগ্রহ করেন আর্থিক অনুদান এবং ত্রাণসামগ্রী।

অনুদান ও ত্রাণ সংগ্রহশেষে গত ৬ আগস্ট শনিবার রাত নয়টায় লালবাগ মাদরাসার ছাত্র এবং স্বেচ্ছাসেবী দল গাইবান্ধার ফুলছড়ির উদ্দেশে রওয়ানা করে। বন্যাপরিস্থিতি লক্ষ করে গাইবান্ধার এ অঞ্চলটি অধিক বন্যাপীড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা যায়, গাইবান্ধার শুধু ফুলছড়ি উপজেলাটিতেই ভেঙে পড়েছে ছয়টি ব্রিজ। অন্যান্য এলাকার সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রায় ৩০-৪০টি কাঁচা-পাকা সড়ক নেমে গেছে পানির নিচে। এছাড়াও তিন হাজার চারশ চল্লিশ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে বন্যায়। দেখা দিয়েছে, খাদ্যের অভাব। বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় প্রায় ২৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ অন্যান্য অঞ্চলে ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে কিছু সাহায্য গেলেও এ অঞ্চলের মানুষেরা আছেন একেবারে নিঃস্ব অবস্থায়।

লালবাগ মাদরাসার এ টিমটি বর্তমানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যা উপদ্রুত ফুলছড়ি অঞ্চলে। ৪০০টি পরিবারের মাঝে বিলি করা হচ্ছে শুকনো খাবার, ঔষধ ও নানা ত্রাণসামগ্রী। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ যথেষ্ট না হলেও আশাপ্রদ অবশ্যই। ধরে নেওয়া যায়, এভাবে সবাই এগিয়ে এলে খুব দ্রুতই ঘুচিয়ে ফেলা যাবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি।