লিডিং ইউনিভার্সিটির হাল-হকিকত

লিডিং ইউনিভার্সিটির হাল-হকিকত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মারজান হুসাইন চৌধুরী


সিলেটে এখন পর্যন্ত চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। লিডিং ইউনিভার্সিটি (এলইউ) এর মধ্যে অন্যতম। এটি সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে  সিলেট শহরের উপকণ্ঠের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজারে ৫ একর এর চেয়েও বেশি যায়গা জুড়ে নির্মিত নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়েছে লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর আগে শহরের ভেতরে কয়েকটি ভাড়া করা ভবনে এর কার্যক্রম চলছিল।

২০০১ সালে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ (২) এর অধীনে শিল্পপতি ড. রাগীব আলী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এর বর্তমান উপাচার্য। সর্বমোট ৪টি অনুষদের অধীনে মোট ১০টি বিভাগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয় এখানে। প্রতি বছরে তিনটি সেমিস্টার তথা টার্ম থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত দুইটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সর্বশেষ হয় ২০১৪সালে।

ড. রাগীব আলী বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’র প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া পেসিফিক-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীকালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’র চেয়ারম্যান ছিলেন।

বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ড. রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাই এখন কারাগারে আছেন।

মেজর (অবঃ) মোহাম্মদ শাহ আলম

প্রতিষ্ঠাতার সাজা হওয়ায় এবং তিনি কারাগারে থাকায় প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনধরনের প্রভাব পড়ছে কি না- জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মেজর (অবঃ) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আলাদা বিষয়। প্রতিষ্ঠানের ওপর ব্যক্তির ব্যক্তিগত সমস্যার কোন প্রভাব পড়ে না।”

ইউজিসির দেয়া শর্ত অনুযায়ী স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে আসার পর নতুন কোন চাপ আছে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “ইউজিসির নিয়ম কানুন আমরা শতভাগ মেনে চলছি। তাছাড়া এখন নতুন কোন চাপ নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছিল বছরে দুই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করার জন্য।

এবিষয়ে শাহ আলম জানান, “ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রোগ্রাম দুই সেমিস্টারে করা হচ্ছে। আর আগামী স্প্রিং টার্ম থেকে সবগুলো প্রোগ্রাম দুই সেমিস্টারে করার পরিকল্পনা আছে।”

তবে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এমাদ উদ্দিন বায়তুল বলেন, “আমাদের এখনও দুই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়নি। এটি আমাদের জন্য খুবই জরুরী।”

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এমাদ উদ্দিন বায়তুল। ছবি: ইমতিয়াজ চৌধুরী।

“কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মূল উদ্দেশ্যই হল জ্ঞান বাড়ানো, শুধু ডিগ্রি অর্জন করা নয়। তাই দুই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হলে ঘন ঘন পরীক্ষার চাপটা কম থাকবে। এর ফলে আমরা যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছি তা আরও ভালভাবে জানতে পারব, বুঝতে পারব।” যোগ করেন তিনি।

বিভাগ কম থাকার বিষয়ে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই তাদের একটা অজুহাত থাকে যে- নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যুক্ত করবে। আপনারা তো নিজস্ব ক্যাম্পাসে চলে আসলেন, এখন নতুন কোন বিভাগ চালু করার চিন্তাভাবনা আছে কি? তাছাড়া সিলেটের কোন প্রাইভেট ভার্সিটিতে ‘মিডিয়া স্টাডিজ’ এবং ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ নেই, তাই এবিষয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহীদের ঢাকায় যেতে হয়, এতদিনেও এগুলো যুক্ত না করার কারণ কি?

এবিষয়ে রেজিস্টার বলেন, “সবকিছু একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। আমি মনে করি, ‘মিডিয়া স্টাডিজ’ এবং ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ বিষয় দুইটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো যুক্ত করা উচিৎ। বিশেষ করে মিডিয়ার এই যুগে ‘মিডিয়া স্টাডিজ’ যুক্ত করা দরকার। আমাদের এই বিষয়টি মাথায় আছে। ইউজিসিতে আমরা নতুন একটি বিভাগের জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি, আগামীতে এই বিভাগগুলোও চালু করতে পারব।”

একই বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মানফাত জেবিন হক বলেন, “রাষ্ট্র, রাজনীতি সম্পর্কে জানার জন্য শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে পড়াশোনা করা উচিৎ। এজন্য ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ বিষয়টি যুক্ত করা জরুরী। এছাড়া, এখন মিডিয়ার যুগ। সবকিছুতেই মিডিয়া প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। তাই শিক্ষার্থীদেরকে এই বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিতে ‘মিডিয়া স্টাডিজ’ বিষয়টি দ্রুত যুক্ত করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।”

বিশ্ববিদ্য়ালয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার বিষয়েও জানতে চাই রেজিস্টার শাহ আলমের কাছে।

শিক্ষক নিয়োগ কিংবা শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোন বিশেষ দল বা ব্যক্তির চাপ আছে কি?

মেজর (অবঃ) শাহ আলম বলেন, “যে কেউ কোন একটি আদর্শে বিশ্বাসী হতে পারে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আমরা কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেই না। মাদক এবং প্রকাশ্য রাজনীতি আমাদের এখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

“শিক্ষক নিয়োগ বা শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোন দল বা ব্যক্তির চাপ নেই। আমাদের নিজেদের কমিটি আছে, এখানে ভার্সিটির ভেতরের এবং বাহিরের শিক্ষাবিদরা যুক্ত আছেন। এই কমিটির সুপারিশ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকি।” যোগ করেন শাহ আলম।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উগ্রবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কি ধর্মীয় ক্ষেত্রে কোন বাঁধা প্রদান করে?

এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিস্টার শাহ আলম বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন উগ্রবাদে না জড়ায় এজন্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ধর্মীয় ক্ষেত্রে কোন বাঁধা প্রদান করছে না। আমাদের এখানে যে কেউ তাঁর ইচ্ছামতো পোশাক পড়তে পারে, ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে পারে।”

মোহাম্মদ আব্দুল মুসাব্বির চৌধুরী

একই প্রশ্ন ছিল আইন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল মুসাব্বির চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, “এলইউ-এর কোন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে উগ্রবাদে জড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি বা অভিযোগ আসে নি।”

তবে ঢাকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিছু শিক্ষক নিজেই উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েন। যার ফলে শিক্ষার্থীদেরকে তারা প্রভাবিত করেন অথবা শিক্ষার্থীরা কখনো কখনো তাদের এই আদর্শকে অনুসরণ করার চেষ্টা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা একসময় উগ্রবাদের সাথে জড়িয়ে পড়তে পারে।”

এছাড়া ধর্মীয় শিক্ষার অভাবকেও এরজন্য দায়ি বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, ক্রেডিট ট্রান্সফার করা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় বলে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে থাকেন।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. ওয়াহিদুজ্জামান খান। ছবি: ইমতিয়াজ চৌধুরী।

এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. ওয়াহিদুজ্জামান খান বলেন, “ক্রেডিট ট্রান্সফার নিয়ে এলইউ’র কোন শিক্ষার্থীকে ঝামেলায় পড়তে হয়নি। তবে এখানে একটা বিষয় আছে, সেটা হল- ক্রেডিট ট্রান্সফারের বিষয়ে ইউজিসির কিছু নিয়ম আছে, এই নিয়মের কারণে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে এরজন্য কর্তৃপক্ষ দায়ি নয়।”

তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল- বিশ্ববিদ্যালয় কি আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারছে?

এর উত্তরে ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের ‘হ্যাকেপ’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে ওয়াহিদুজ্জামান খান বলেন, “আমাদেরকে ‘ভেরি গুড’ মার্কস দেয়া হয়েছে। এটা অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর দেয়া হয়। তাছাড়া দেশের বাহিরের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা আমাদের এখানে ঘুরে গেছেন, তারাও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের কয়েকটা চুক্তিও হয়েছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় আমরা মান বজায় রাখতে পারছি এবং আরও ভাল করার চেষ্টা করছি।”

ক্যাম্পাস মূল শহরের বাহিরে। তাই যাতায়াত করতে হয় কখনো বাসে, কখনো অটোরিকশায়।

এবিষয়ে আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান শাওন বলেন, “ক্যাম্পাস শহরের বাহিরে চলে আসায় কোনধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি না। কারণ ভার্সিটির নিজস্ব বাস সার্ভিস আছে এবং তা খুব ভাল মানের।”

আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান শাওন। ছবি: ইমতিয়াজ চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, “শহরের ভেতরে যারা থাকে তাদেরকে নিয়ে রওয়ানা দেয়ার পর স্থায়ী ক্যাম্পাসে পৌঁছতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে। এই সময়টুকু অর্থাৎ ভ্রমণটা আমরা বেশ উপভোগ করি।”

আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ না থাকায় অনেকের ক্ষোভ ছিল। এলইউ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ ডিপার্টমেন্ট চালু করেছে।

বিভাগটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফজলে এলাহি মামুন জানান, এই বিভাগটি চালুর প্রায় দেড় বছর হয়েছে। শুরু থেকেই তিনি এই বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।

তাছাড়া সিলেট পর্যটনবান্ধব এলাকা হলেও এখানকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগ ছিল না। বিষয়টি আমলে নিয়ে  লিডিং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করেছে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগ।

ব্যতিক্রমি বিষয় হল,  এই বিভাগের প্রায় ৫০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী চাকরি ও পড়াশোনা দুটো একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে,  শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ভাল লাগার মতো আরেকটি তথ্য জানা যায়।

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জনসাধারণের জন্য বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়ে থাকে স্থাপত্য ও পুরকৌশল বিভাগ। এই দুই বিভাগের শিক্ষকদের একটি দল স্থাপনার নকশা ও নির্মাণ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার পর যে কেউ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিনা মূল্যে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

জানাগেছে, শিক্ষকদের করা নকশাতেই নির্মিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরকাড়া ভবনগুলো। নকশা করেছেন স্থাপত্য বিভাগের উপদেষ্টা স্থপতি চৌধুরী মুশতাক আহমেদ ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজন দাশ।

অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘জ্যাকব টিম’

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এলইউ’র ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থী মিলে ‘জ্যাকব’ নামের একটি রোবট উদ্ভাবন করেছিলেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন যারীন তাসনিম নূর। তাঁর সাথে ছিলেন একই বিভাগের ছাত্র- গোলাম রব্বানি ও মিনহাজুল আবেদিন।

এ নিয়ে গতবছরের মে মাসে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

যারীন জানান, “হিউমেনয়েড কমিউনিকেশন রোবট ‘জ্যাকব’ উদ্ভাবন করতে প্রায় ৬ মাস সময় লেগেছে।”

“সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অর্থের অভাবে আরও অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলে আমরা এই রোবটটিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতাম। রোবটের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিগুলোর কিছু আমেরিকা থেকে আনা হয়েছে, আর বাকিগুলো ঢাকা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আনা হয়েছে, যা ব্যয়বহুল।” যোগ করেন যারীন।

‘জ্যাকব’ এর বর্তমানে অবস্থা সম্পর্কে যারীন বলেন, “রোবটের অবস্থা এখন খুবই নাজুক। অনেক অংশ কাজ করছে না। দেশে এগুলো তৈরি করতে শ্রমের পাশাপাশি অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই ঠিক করেছি বিদেশে গিয়ে এবিষয়ে আরো রিসার্চ করব।”