মার্চ ২৭, ২০১৭

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবনা বেআইনি ও গণবিরোধী: বিএনপি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মোয়াজ্জেম হোসেন আলালগ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির নামে গণশুনানির যে প্রস্তাবনা করা হয়েছে তা সম্পূর্ন বেআইনি ও গণবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

মঙ্গলবার সকালে দলটির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মাত্র ৮/৯ মাস পূর্বে সকল ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য একবার বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিইআরসির আইনানুযায়ী ১ বছর পূর্ণ না হওয়ার আগেই আবারো দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও গণবিরোধী। কিন্তু সরকার কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে দফায় দফায় বৃদ্ধি করছে গ্যাসের দাম। এর আগে সরকার ৮ দফা বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে।

লিখিত বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মাত্র ৮/৯ মাস পূর্বে সকল ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য একবার বৃদ্ধি করা হলো, বিইআরসির বিধিবদ্ধ আইনানুযায়ী এক বছরেরও কম সময়ে এ প্রস্তাব বেআইনী তথা আইন লঙ্ঘন। জিটিসিএল এখন প্রতি ইউনিট গ্যাসের সঞ্চালন ব্যয় হচ্ছে-০.১৫৬৫ টাকা, এটা বাড়িয়ে ০.৩৬৬৫ টাকা করার প্রস্তাবের ওপর শুনানি চলছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলার সূত্র বলে ১৯৯৮ সালে উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) অধীনে দেশের কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানীর কাছ থেকে বেশী দামে গ্যাস কেনা শুরু হয়, ফলে ক্রয়মূল্য থেকে কম মূল্যে বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ইন্ডাষ্ট্রি ক্যাপটিভ শতকরা একশো ভাগ বৃদ্ধি, দুই চুলা ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, এক চুলার বিল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা করা হয়। বর্তমান প্রস্তাবে দুই চুলা ১২০০, এক চুলা ১০০০ টাকা, যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির প্রতি ইউনিট ৫৮ টাকা, অন্যান্য ক্ষেত্রে শতকরা দশ ভাগ থেকে ত্রিশ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

আলাল বলেন, ২০০৮ এর শুরু থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানী শুরু হলে গ্যাসের ক্রয়মূল্য আরো বাড়বে, এ কারনে আগাম প্রস্তাব। এক বছর ধরে জ্বালানী তেলের দাম ক্রমাগত কমতে থাকলেও বাংলাদেশে সেটা সমন্বয় করা হয়নি, অথচ দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে গ্যাসের দাম। এর আগে বর্তমান অবৈধ সরকার ৮ দফা বিদ্যূতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। জনগণ ক্রমাগত অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এখন এলএনজির জন্য জনগণ মূল্য বৃদ্ধি বহন করবে কেনো?

তিনি বলেন, জিটিসিএল বর্তমানে ৪০০ কোটি টাকা বছরে মুনাফা করছে, এ প্রতিষ্ঠানের একজন চাকুরিজীবি বছরে ৪ লাখ টাকা বাড়তি বোনাস নিচ্ছে, যে কোম্পানী তার একজন কর্মজীবিকে এতবড় সুবিধা দিচ্ছে, তার বার্ষিক মুনাফা ২০০ কোটি টাকা। আমরা মনে করি-ইতিমধ্যেই বিপুল মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানীর গ্যাস সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

তিনি আরো বলেন, তিতাস এর পক্ষে ব্যাংকে এফডিআর এর পরিমাণ ৫০০০ কোটি টাকার উপরে। শেয়ার মার্কেটে তিতাস ইতিমধ্যেই ব্যবসা করে প্রচুর তহবিল সংগ্রহ করেছে। সেখানেও প্রতি বছর মুনাফা বাড়ছে, তাহলে কেনো এই প্রস্তাব? পেট্রোবাংলাও ইতিমধ্যেই অতীতের সকল লোকসান কাটিয়ে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য বহাল রেখে বর্তমানে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে। অথচ ইতিমধ্যেই বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রবণতাও দেখা দিয়েছে। পূনরায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে রফতানি বাণিজ্যেও সমস্যা দেখা দিবে, যা গোটা অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

আলাল বলেন, সরকার যদি জনগণকে সেবা দেয়ার পরিবর্তে বেসরকারী কোম্পানীর মতো শুধু মুনাফার দিকেই ঝুঁকে পড়ে সেটা গণবিচ্ছিন্নতারই প্রমাণ বহন করে। গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে সিস্টেম লসের নামে যে লুটপাট চলছে সেখানে সরকারী দলের নেতাদের রাশ টেনে ধরতে পারলে এই মূল্য বৃদ্ধি প্রস্তাবের প্রয়োজনই পড়বে না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই সরকার আবাসিক কাজে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাহলে কোন স্বার্থান্বেষী মহলের সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য এই প্রস্তাব? এখন সরকার যদি ন্যুনতম জীবনমান ধারণের বেলায়ও জনগণকে দুর্দশায় ফেলে শুধু মুনাফাখোরই হয় তাহলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে একদিন রাস্তায় নেমে আসবে।