দুই শিশুকে নির্মমভাবে পেটানোর ভিডিও; অভিযুক্তদের তালিকায় সেনা ও পুলিশের দুই সদস্য

2016-02-14_142722অন্ধকার একটি কামরায় দুই শিশুকে চেপে ধরে আছে কয়েকজন। বাকীরা মোটা লাঠি দিয়ে তাদের পায়ের তলায় প্রচণ্ড বেগে আঘাত করে চলেছে, আর কিছু একটার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছে।

এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম।

সোয়া এক মিনিটের ভিডিওটি থেকে নির্যাতনের শিকার শিশু দুটির করুণ আর্ত চিৎকার ভেসে আসছিল।

আর শোনা যাচ্ছিল নির্যাতনকারীদের হুমকি।

শিশু দুটির হাত ছিল বাঁধা। চেহারায় ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের চিহ্ন।

ভিডিওতে যাদেরকে মারতে দেখা গেছে তাদের একজন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং আরেকজন পুলিশের সদস্য বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ বলছে, উত্তরাঞ্চলীয় রাজশাহীর পবা উপজেলায় গতকাল বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

চৌবাড়িয়া গ্রামে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গতকাল বিকেল তিনটের সময় একটি ঘরে শিশু দুটিকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে জানাচ্ছেন পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম। পুলিশ বলছে শিশু দুটির বয়েস তের বছর।

তাদেরকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের দুজন সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্য হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মি. ইসলাম বলছেন, “আমি এ সম্পর্কে মৌখিকভাবে শুনেছি। তারা দুজন ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। দুজনেরই বাড়ি ওই এলাকায়। এ নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।”

এ ঘটনায় গতকালই পবা থানায় তের জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা হয়েছে।

ভিডিওটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

দেশটিতে গত বছর বেশ কয়েকটি শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গতবছরের জুলাই মাসে সিলেটে রাজন নামে এক শিশুকে চুরির অপবাদে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করবার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

ওই ঘটনার ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করা হয়।

গত বছর নভেম্বর মাসেই চার জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।