গণমাধ্যমের প্রয়োজনের কথা শুনি; কিন্তু সহযোগিতা দেখি না

গণমাধ্যমের প্রয়োজনের কথা শুনি; কিন্তু সহযোগিতা দেখি না

মুনির আহমদ | সম্পাদক : উম্মাহ্‌


জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহযোগী সংগঠন ‘যুব জমিয়ত বাংলাদেশ’ নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি মাওলানা তামহীমুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসহাক কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন এবং প্রচার সম্পাদক মাওলানা রেজাউল কারীম ভাই গতকাল সন্ধ্যায় উম্মাহ কার্যালয়ে এসেছিলেন।

বেশ কিছুক্ষণ তাঁরা সময় কাটান।। ইসলামী রাজনীতির সংকট এবং সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। যুব জমিয়ত নিয়েও তাঁদের স্বপ্নের কথা জানান।

এ সময় গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে আমিও কিছু কথা বলি। আমি তাঁদেরকে জানিয়েছিলাম, উলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক দলসমূহ সবসময় মিডিয়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বললেও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে বরাবরই অনীহা ভাবটা আমি লক্ষ্য করি। অনেক বড় বড় প্রোগ্রাম করা হয়, অথচ গণমাধ্যম কর্মীদেরকে গুরুত্ব দিয়ে আমন্ত্রণ করা, তাদের বসার ও আপ্যায়নের ভাল ব্যবস্থা করা এবং সংবাদ তৈরিতে তাদেরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে দুয়েকটা ব্যতিক্রম ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনীহা, অমনোযোগিতা ও গুরুত্বহীনতা লক্ষ্য করি। এটা সকল মিডিয়ার ক্ষেত্রে। তাছাড়া গণমাধ্যমকর্মীরা কখনো যোগাযোগ বা কথা বলতে চাইলে, তাদের সাথে আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ কথা বলার বা সহযোগিতার পরিবর্তে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

আমি বললাম, একজন মানুষকে আন্তরিকভাবে বরণও করলেন না, আবার সহযোগিতামূলক আচরণও করলেন না, তারপর কথায় কথায় সন্দেহ প্রকাশ করে অপদস্থ করতে চাইলেন, তো তার কাছ থেকে ইতিবাচক কিছু আশা করা কি বাড়াবাড়ি হয়ে যায় না? এই জায়গাটাতে আমাদের আলেম সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলো বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে। কেন জানি, তাঁদের বক্তব্য ও আচরণে মিল খুঁজে পাই না।

তাছাড়া সব সময় মিডিয়ার গুরুত্ব, প্রয়োজন ও অভাবের কথা বলা হয়। কিন্তু দেখা যায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ইসলামিক বা ইসলামী ভাবাপন্ন অনলাইন মিডিয়া গড়ে উঠেছে বা উঠার চেষ্টা করছে। এই মিডিয়াসমূহ আছে বলেই আলেম সমাজ ও ইসলামী দলগুলোর ছোট-বড় সকল নিউজই দ্রুত দেশ-বিদেশের সকলে জানতে পারছেন। আলেম সমাজ ও ইসলামী দলগুলোর তরফ থেকে এই মিডিয়াগুলোকে টিকে থাকতে যে সহযোগিতাটুকু দরকার, তার কিছুই কেউ করেন বলে দেখি না। অথচ একটা অনলাইন পত্রিকা চালাতে হলেও কম খরচ হয় না। ডোমেই, হোস্টিং, ব্যান্ড উইথ, অফিস ভাড়া, কর্মকর্তা ও স্টাফদের বেতনসহ নানা পর্যায়ে খরচ করতে হয়। অথচ, নিউজ একটু দেরি হলে অভিযোগ করা হয়, একটু কাটছাট করলে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, ছবিতে কেন তার মুখ দেখা যায়নি মনক্ষুণ্ন চেহারা দেখতে হয়। কিন্তু অনলাইন পোর্টালগুলো যে যুদ্ধ করে চলছে, বা কীভাবে খরচ নির্বাহ করে, সেই খবরটুকু কেউ রাখেন না। সবচেয়ে বিরক্তির ব্যাপার, এই খবরটুকু তো নেনই না, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে ইনিয়ে বিনিয়ে জানতে চাওয়া হয়, লাভ কেমন হয়!!!!!!

এই বিষয়ে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহবান জানালাম। তারপর বললাম, মিডিয়া কর্মী যেই হোক বা যে পন্থীই হোক, কথা বলার সময় আন্তরিকভাবে বরণ করে নিবেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে চাইলে আপনার অবস্থান ও কৌশল বজায় রেখে বাহ্যিকভাবে হলেও অত্যন্ত সদাচরণ ও সহযোগিতামূলক ব্যবহার করবেন। কোন বিষয়ে তথ্য দিতে না চাইলে বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করবেন। ঈদ-অনুষ্ঠানে ফোন বা মেসেজ দিয়ে হলেও খোঁজ নিবেন। দেখবেন, শতভাগ না হলেও আন্তরিক কিছু মিডিয়া কর্মী পেয়ে যাবেন। আরেকটা বিষয়, পত্রিকার কর্মকর্তা পর্যায়ের মানুষ থেকেও মাঠ পর্যায়ের মিডিয়া কর্মীকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। কারণ, নিউজটা কেমন হবে না হবে, তার অনেকটাই কিন্তু সাধারণ সাংবাদিক লোকটার উপরই নির্ভর করে।


ফেসবুক থেকে


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74