মার্চ ২৩, ২০১৭

সাবেক এমপি সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ড; ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-08-10_135540মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর সাত আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়ছে।

আজ বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. ইব্রাহিম হোসেন (৬০), বিল্লাল হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান (৬১), মো. আ. আজিজ সরদার (৬৫), আ. আজিজ সরদার (৬৬), কাজী ওহিদুল ইসলাম (৬১), আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৮)।

সাখাওয়াতসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনিত পাঁচটি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

আসামিদের মধ্যো সাখাওয়াত ও বিল্লাল কারাগারে ছিলেন, বাকি ছয়জনকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার চলে।

এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক আসামি মো. লুৎফর মোড়ল কারাবন্দি থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান।

যুদ্ধাপরাধের পাঁচ অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই নয়জনের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।

চলতি বছর ৩১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর মোট ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিলেন না।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, সঙ্গে ছিলেন রেজিয়া সুলতানা চমন। তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আরজি জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে সাখাওয়াতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। তারা অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন।

তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
১: যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ।

২: একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা।

৩: কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন।

৪: কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন।

৫: কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।

২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল।

প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।