যারা হেফাজত ও স্বীকৃতিকে গুলিয়ে ফেলেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন: মাওলানা ইসলামাবাদী (ভিডিও)

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি 


কওমী মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি ও দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনকে এক সাথে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল ইসলামাবাদী।

তিনি বলেন, কওমী মাদরাসা হলো শিক্ষাকেন্দ্র, আর হেফাজতে ইসলাম হচ্ছে ইসলামী বিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া একটি সংগঠন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী হেফাজতের আমীর ও হাইআতুল উলইয়ার প্রধান হওয়ায় অনেকে বিষয়টাকে এক সাথে গুলীয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ করে মাওলানা ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজত ও স্বীকৃতিকে যারা একসাথে গুলিয়ে ফেলেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন। কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ কোনদিনও স্বীকৃতি ও হেফাজতকে একসাথে মিলাবে না এবং এর সুযোগও নেই। কারণ কওমী মাদরাসা আলাদা প্রতিষ্ঠান ও হেফাজত আলাদা সংগঠন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত কওমী সনদের স্বীকৃতি ইস্যুতে ‘ইনসাফ সংলাপ’এ মাওলানা ইসলামাবাদী এসব কথা বলেন।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আল্লামা শফী কী বলেছেন যারা আল্লাহ ও তার রাসূল মহানবী হজরত মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেয়াদবি করেছে তাদের শাস্তির দাবি থেকে আমরা সরে এসেছি? আল্লামা শাহ আহমদ শফী কি বলেছেন শাপলার আক্রমণের বিচার আমরা চাই না?

এখানে যে বিষয়টি পরিস্কার হওয়া অত্যান্ত প্রয়োজন সেটা হলো কওমী মাদরাসার র্বোডগুলো আলাদা প্রতিষ্ঠান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হলো একটা অরাজনৈতিক  আদর্শিক সংগঠন এবং আদর্শিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তার সুনির্দিষ্ট নীতি আদর্শের ভিত্তি সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে মাঠে এসেছে এবং আমাদের দাবি দাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম। এতে আমাদের আন্দোলনকারী ভাইয়েরা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের আক্রমণের শিকার হয়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। সুতরাং হেফাজত যে দাবি নিয়ে আদর্শের লড়াইয়ে মাঠে নেমে ছিলো তার নীতি আদর্শে উপর লড়াই অব্যাহত আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী একাধারে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক, আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ  ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-বেফাকের চেয়ারম্যান ও অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর।

৫ মে’র ঘটনার বিষয় তিনি বলেন, আমরা বিচার কার কাছে চাইব? যারা আমাদেরকে উপর হামলা করেছে তাদের কাছে? আর তারা কী বিচার করবে? বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থায় এটার বিচার করার জন্য কি কোন বিচারপতি আছে? সুতরাং আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছিলেন, আমরা আন্দোলন করেছি একমাত্র আল্লাহর জন্য বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম।

মাওলানা আজীজুল হক ইসলামাবাদী বলেছেন,  কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি কওমী মাদরাসার বোর্ডগুলোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও কওমী ছাত্র-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে সরকার দিতে বাধ্য হয়েছে।

কওমি সনদের স্বীকৃতি সরকারের পক্ষ থেকে কোন করুণা নয়। সংবিধানে এটা স্পষ্ট লেখা আছে দেশের যেকোন নাগরিক তার পছন্দ মতো ধর্মীয় অথবা জেনারেল শিক্ষা অর্জন করতে পারবে।