ক্বওমী মাদ্রাসার সনদ দিতে হলে ন্যূনতম একটা কারিকুলাম দরকার: প্রধানমন্ত্রী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

0160811142434ইসলামের ক্রান্তিকালে ক্বওমী মাদ্রার বিভিন্ন মতের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আশা ব্যাক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্বওমী মাদ্রাসার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। সনদ দিতে হলে ন্যূনতম একটা কারিকুলাম দরকার। আমরা কওমী মাদ্রাসা কমিশন গঠন করে দিয়েছি। কিন্তু কওমী মাদ্রাসার পাঁচটি বোর্ড একমত হতে পারেনি।

তিনি বলেন, তারা নিজেরা শিক্ষা কারিকুলামটা ঠিক করে দিলেই ভাল হয়। আমরা ইতিমধ্যেই আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখান থেকে ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি নিয়ে ভাল কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

সবাইকে একমত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই একমত হোন অথবা যারা আগ্রহী তারা একমত হোন, আমরা বাস্তবায়ন শুরু করে দেবো।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওলামা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল উলামার সভাপতি ও জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়া সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের নিন্দা জানিয়ে মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, ইসলাম উদারতা ও সহনশীলতার ধর্ম। কিছু সংখ্যক মতলববাজ ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ইসলামে অনর্থক গাছের পাতাও ছেঁড়া নিষেধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা মনে করে মানুষ হত্যা করে বেহেশতে চলে যাবে, তারা আসলে জাহান্নামে যাবে। যারা মানুষ হত্যা করে, আত্মহত্যা করে তারা উভয়ই জাহান্নামে যাবে।

১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, ইতিহাসে কারবালার ঘটনার পর এতো নিষ্ঠুর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই।

অনুষ্ঠানে ১ লাখেরও অধিক আলেম স্বাক্ষরিত ৩০ খণ্ডের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী ইসলামের শান্তির বাণী নিয়ে রচিত ফতোয়া প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়। প্রতীকী হিসেবে প্রথম খণ্ড প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ।