জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

২০ শতাংশ বেড়েছে এরদোগানের সমর্থন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

এরদোগানগত মাসের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান চেষ্টা নস্যাৎ করায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সমর্থনের হার ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই বছর আগের নির্বাচনের পর সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার একটি জরিপে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে মোট ১,২৭৫ জন লোকের ওপর চালানো জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে এরদোগানের সমর্থনের হার ৬৭.৬ শতাংশ, যা গত জুন মাসের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। আঙ্কারা ভিত্তিক মেট্রোপোল রিসার্স একাডেমি এ জরিপটি চালিয়েছে।

গত ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর তুরস্কে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং এতে সবচেয়ে লাভবান হন এরদোগান।

প্রায় সকল বিরোধীদল ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার নিন্দা জানায়। এছাড়া দেশটির সিংহভাগ জনগণ ১৯৬০ সালের পর থেকে বারবার সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত।

মেট্রোপোল জানিয়েছে, এ যাবৎকালে এরদোগানের সর্বোচ্চ সমর্থনের হার ছিল ৭১.১ শতাংশ। ২০১২ সালে তিনি যখন তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তার পরপরই এরদোগানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গ স্পর্শ করেছিল। সে সময়ই তার সর্বোচ্চ সমর্থনের হার ছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

২০১৪ সালে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এরদোগান। কিন্তু ওই সময় থেকে এরদোগানের ব্যক্তিগত সমর্থন কমতে থাকে। অভ্যুত্থান চেষ্টার আগ পর্যন্ত সময়ে এরদোগানের সমর্থনের হার ৫০ শতাংশ এরও নিচে নেমে যায়।

গতকালের জরিপটি প্রকাশ হওয়ার পর ডেপুটি তুর্কি প্রধানমন্ত্রী মেহমেত সিমসেক তার অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে বলেন, ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ায় প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে’।

এরদোগান ছাড়াও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমেরও জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বের ৪০ শতাংশ সমর্থনের সাথে আরো ১৮ শতাংশ যোগ হয়ে বর্তমানে তিনি ৫৮ শতাংশ মানুষের আস্থাভাজনে পরিণত হয়েছেন।

এছাড়া অভ্যুত্থান চেষ্টার বিরোধীতাকারী বিরোধী দলগুলোর নেতাদেরও জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মেট্রোপোল জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গতমাসের আলোচিত তুর্কি অভ্যুত্থানের জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার এক সময়ের মিত্র ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে আসছেন। গুলেন বর্তমানে নির্বাসিত অবস্থায় আমেরিকায় বসবাস করছেন।

সূত্র: এএফপি