ফ্লোরিডায় ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ‘মাইকেল’

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক



যুক্ত্রসাত্রের ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় বুধবার (১০ অক্টোবর) হারিকেন মাইকেল আঘাত হানে। এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার।

বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা তৃতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী ঝড় মাইকেল। এর আগে ১৯৬৯ সালে মিসিসিপি উপকূলে আঘাত হানা হারিকেন ক্যামিলি এবং ১৯৩৫ সালে ফ্লোরিডায় আঘাত হানা লেবার ডে হারিকেন এর চেয়ে তীব্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝড়টি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।

বৃহস্পতিবার হারিকেন মাইকেল খানিক দুবর্ল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও তার আগেই প্রাণ হারায় ছয়জন। এরমধ্যে ফ্লোরিডায় চারজন, জর্জিয়ায় ১ জন ও নর্থ ক্যারোলিনায় ১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ফ্লোরিডার তিন লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা অনেকেই সে সতর্কতা উপেক্ষা করেছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট মাইকেলের ধ্বংসযজ্ঞকে ‘ধারণাতীত’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়েছে।’ ফ্লোরিডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি সিক্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের পুরো ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। কিছু দুর্গত এলাকার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে সেখানে পৌঁছানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় এবং পানি জমে থাকার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

মেক্সিকো সমুদ্র সৈকত এলাকার পরিস্থিতি খুব খারাপ। সেখানে ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে ১ হাজার মানুষ।

কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থানীয়রা দুর্যোগের পূর্বাভাসকে উপেক্ষা করে এলাকায় থেকে গিয়েছিল। মেক্সিাকো বিচের ২৮৫ বাসিন্দাকে বাধ্যতামুলকভাবে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তবে তাদের অনেকে তা শোনেনি।

মেক্সিকো উপকূলের একেবারে দক্ষিণের বন্দর সেন্ট জোয়ে। সেখানকার মেয়র বো প্যাটারসন বাইরের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,খুবই ভয়াবহ। শহরের সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার মধ্যে বাড়িতে থেকে যাওয়া আড়াই হাজার মানুষের মধ্যে তিনি একজন। তাদের অনেকেই বাড়ি ছাড়ার আগেই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। তিনি বলেন,খুব তাড়াতাড়ি এটা ঘটে গেছে।

ফেমার প্রধান ব্রক লং জানান যত দ্রুত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণীভূত হয়েছে তার তুলনায় ওই এলাকায় বাড়ি ছাড়ার কার্যক্রম ধীরে চলেছে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় থেকে প্রায় ৪০ ঘণ্টায় ক্যাটাগরি চার মাত্রার হারিকেনে রুপ নেয় মাইকেল।

উপকূলে আঘাত হানার আগে ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের কারণে বিঘ্নিত হয় তেল ও গ্যাস সরবরাহ। ক্রুড অয়েল ও গ্যাস পরিবহনের পরিমাণ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

এদিকে, ঝড়ের পর ফ্লোরিডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঝড়ের পর উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ফ্লোরিডা ন্যাশনাল গার্ডের সাড়ে তিন হাজার সদস্য এবং এক হাজার উদ্ধারকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর রিক স্কট।