মার্চ ২৯, ২০১৭

ধর্মীয় বইকে জিহাদী বই আখ্যা দেওয়া ধর্ম-অবমাননার শামিল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

unnamedইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আশরফ আলী আকন বলেছেন, বাংলাদেশ আমাদের শ্রেষ্ঠ দেশ, এদেশ সাড়ে ৩ লক্ষ মসজিদের দেশ, ৭০ হাজার মাদরাসার দেশ, লক্ষ লক্ষ পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরামের দেশ; এদেশে সকাল-সন্ধ্যায় আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। এটি এদেশের জন্য আল্লাহর মহা নিয়ামত। এমন পবিত্র ভূমিতে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রতা ও চরমপন্থার কোনো স্থান নেই।

আজ (শুক্রবার) জুমা বাদ চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইট চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত কথা বলেন।

শ্রমিক নেতা অধ্যাপক আকন বলেন, একজন নিরাপরধ মানুষকে হত্যা গোটা মানবজাতিকে হত্যার শামিল। ইসলাম এমন হত্যাকাণ্ডের অনুমতি তো দেয়ই না, ইসলামের দৃষ্টিতে এসব ঘৃণিত কাজ, ইসলাম এসবকে মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। তিনি বলেন, ধর্মহীনতা ও ইসলামি মূল্যবোধ বিরোধীই শিক্ষাই এসবের জন্মদাতা। সন্ত্রাস বেড়েছে, এদেশে প্রকাশ্যে দিবালোকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, দেশের সব সেক্টরে দুর্নীতি মহাকার ধারন করেছে, একেকজন ছাত্র খুন-ধর্ষনে সেঞ্চুরি পালন করে, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক আশরফ বলেন, এসবের সাথে যারা জড়িত তারা সকলেই দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। এ শিক্ষা ব্যবস্থায় খোদাভীতি নেই, মানুষের মাঝে আল্লাহর ভয়ের সৃষ্টি করে না, অপরের হক কি শেখায় না। এই ধর্মহীন ও ইসলামি মূল্যবোধহীন শিক্ষাই সন্ত্রাস-জঙ্গি-দুর্নীতি-খুন-ধর্ষনসহ যাবতীয় অপরাধের জন্মদাতা।

unnamed (1)সমাবেশে অধ্যাপক আশরফ আলী আকন সরকারকে উদ্দেশ্যে বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিন এদেশে পীর সাহেব চরমোনাই ও ওলামায়ে কেরামের শক্তি কি তা তখনই বুঝতে পারবেন। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে এদেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের মূল্যবোধ বিরোধী শিক্ষানীতি, আইন ও সিলেবাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। এ সিলেবাস মানুষ তৈরির সিলেবাস নয়, মানুষকে খুন করতে শেখায় এই সিলেবাস, দুর্নীতি আর লুটপাটের শিক্ষা দেয় এই শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রকৃত মানব দরদ, ভালোবাসা আর শান্তি ইসলামে; শিক্ষার সর্বস্তরের ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন ইনশাআল্লাহ সন্ত্রাস-উগ্রবাদ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক নাগরিকের সৃষ্টি হবে।

‘ধর্মীয় বইকে জিহাদী বই’ আখ্যায়িত করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আশরফ আলী আকন বলেন, পবিত্র কুরআনের তিন শতাধিক আয়াত জিহাদের ওপর অবতীর্ণ। জিহাদী বই হলে পবিত্র কুরআন সবচেয়ে বড় জিহাদী বই। খারাপ অর্থে জিহাদী বই আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের কতিপয় কর্তা ব্যক্তি চরম মূর্খের মতো আচরণ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মীয় বইকে জিহাদী বই দিলে মেনে নেওয়া হবে না। হক কথা বলা জিহাদ, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-লুটপাটের বিরুদ্ধে কথা বলা জিহাদ, জালিমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো জিহাদ। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এটিও একটি জিহাদ। এটি ইসলামের পবিত্র বিধান, নামায-রোযা-হজ-যাকাতের মতো ফরয ইবাদত। ইসলামের অপব্যাখ্যা করে সন্ত্রাস করা যেমন অপরাধ, তেমনি জিহাদী বই আখ্যা দেওয়া এটাও ধর্ম-অবমাননার শামিল।

কেন্দ্রীয় নেতা ও নগর সভাপতি আলহাজ জান্নাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সবাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা আলহাজ হারুনুর রশীদ, ডা. শহীদুল ইসলাম, আলহাজ মুহাম্মদ আবুল কাশেম মাতব্বর, আলহাজ মুহাম্মদ আল-ইকবাল, সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী, মাওলানা সুলতানুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. মুহাম্মদ রেজাউল করীম, এইচএম মুসলেহ উদ্দীন, মু. সগির আহমদ চৌধুরী, মাওলানা তরীকুল ইসলাম সরকার, মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম শহীন, ওলামা-মাশায়েখ নেতা মাওলানা শেখ মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, শ্রমিক নেতা আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ায়েজ হোসাইন ভুঁইয়া, ডা. মুহাম্মদ ফরিদ খান, অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল আলম, আলহাজ মুহাম্মদ আলী আকবর, শ্রমিক নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাক আহমদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মাওলানা গোলাম মওলা, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।