ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

07194387_n

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান বলেছেন, একটি জাতিকে নৈতিকতা সম্পূর্ন জাতিতে পরিণত করতে হলে বির্তকিত শিক্ষানীতি, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন বাতিল ও হিন্দুত্ববাদের পাঠ্যসূচী সংশোধন করতে হবে। প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা না থাকার কারণে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অপরাধী সৃষ্টি হচ্ছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্য রোধে সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্য়াপ্ত পরিমান আবাসন ব্যবস্থা না থাকার কারণে অধিকাংশ ছাত্র/ছাত্রীদের বিভিন্ন ম্যাচে থাকতে হচ্ছে। অথচ জঙ্গিবাদের নামে ম্যাচে তল্লাশি ও ব্যাচেলারদের হয়রানি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার পায়তারা করা হচ্ছে। তল্লাশির নামে ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

আজ বিকেলে মজলিস মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

0719387_n

তিনি বলেন, গ্যাসের দাম যেখানে কমানো উচিত সরকার সেখানে দাম বাড়ানোর চক্রান্ত করছে। সরকার কোনো যুক্তি দিতে পারছে না। সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নিয়েছে দেশের জনগণ তা কোনো ভাবেই মেনে নিবে না। এ সরকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরী পাচ্ছে না। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির চক্রান্ত বন্ধ করুন অন্যথায় জনগণ রাজপথে আন্দোলনে নামবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সরকার দলীয় লোকজন কওমী মাদরাসা বন্ধের হুমকি ও আলেম-উলামাদেরকে অপমানিত করছে। এদেশের কওমী শিক্ষা যুগযুগ ধরে ইসলাম, উম্মাহর স্বার্থ ও দেশে সুনাগরিক তৈরি এবং সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ হত্যা ধর্ষণসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আলেম-উলামাদের লাঞ্চিত ও মাদরাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন অন্যথায় পরিনতি ভালো হবে না।

প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান সীমান্তে ভারতের বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা বন্ধে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রালয়কে কার্যকরি ভূমিকা নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ভারত অন্যায়ভাবে দেশের নাগরিক হত্যা করবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকবো তা হবে না।

দলের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা ইসমাঈল নুরপুরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, অভিভাবক পরিষদ সদস্য মুফতী হিফজুর রহমান, যুগ্নমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কোরবান আলী, মাওলানা আব্দুল আজিজ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা ড. জি এম মেহেরুল্লাহ, প্রচার প্রকাশনা ও অফিস সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুল হক, নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুনিরুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, হাফেজ শহীদুর রহমান, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা এনামুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মূসা।


শূরায় নিম্মোক্ত প্রস্তাব গৃহিত হয়

  • আল্লাহ,রাসূল সা. ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান পাশ

  • কওমী মাদরাসা বন্ধ ও আলেম-উলামাদের হয়রানি প্রসঙ্গ

  • সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক প্রসঙ্গ

  • গ্যাসের দাম কমানো প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমন

  • বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যা বন্ধ

  • এবং দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ

  • সর্বোপরি খেলাফত প্রতিষ্ঠার আহবান